নি’র্যাতন ও হু’মকির গুরুতর অভিযোগ! দীর্ঘ ১১ দিন পর পুলিশি ঘেরাটোপে আদালতে শমীক অধিকারী!

জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media) ইনফ্লুয়েন্সার ও ইউটিউবার (Youtuber) শমীক অধিকারী, যিনি নেটমাধ্যমে ‘Nonsane’ নামেই সমধিক পরিচিত, দীর্ঘ ১১ দিনের পুলিশি হেফাজত শেষে আজ সোমবার আলিপুর আদালতে হাজিরা দিলেন। এক তরুণীকে আটকে রেখে মা’রধর এবং যৌ’ন হে’নস্থার গুরুতর অভিযোগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে তাকে গ্রেফতার করেছিল বেহালা থানার পুলিশ। আজ কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে আদালত চত্বরে নিয়ে আসা হয়, যেখানে ভিড় জমিয়েছিলেন উৎসুক জনতা ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ২ ফেব্রুয়ারি। অভিযোগকারিনী ওই তরুণীর দাবি অনুযায়ী, ঘর পরিবর্তনের কাজে সাহায্য করার জন্য তিনি শমীকের বেহালার ফ্ল্যাটে গিয়েছিলেন। সেখানেই তাকে প্রায় ১২ থেকে ২০ ঘণ্টা আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ। তরুণীর বয়ান অনুযায়ী, ২ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৯টা থেকে পরদিন অর্থাৎ ৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টা পর্যন্ত তাকে আটকে রেখে শা’রীরিক ও অমানবিক নি’র্যাতন চালানো হয়। শুধু চড়-থাপ্পড় বা মারধরই নয়, শমীকের বিরুদ্ধে অশালীনভাবে পোশাক টেনে হেনস্থা এবং ব্ল্যাকমেল করার চেষ্টার মতো মা’রাত্মক অভিযোগও আনা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে শ্লী’লতাহানির মামলা রুজু হলেও পরবর্তীতে নির্যাতিতার গোপন জবানবন্দি ও মেডিকেল রিপোর্টের ভিত্তিতে পুলিশ তার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৪ নম্বর ধারা অর্থাৎ ধর্ষণের মামলাও যুক্ত করেছে।

শমীকের গ্রেফতারি নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই উত্তাল ছিল সোশ্যাল মিডিয়া। ইউটিউবে ৩ লক্ষাধিক সাবস্ক্রাইবার থাকা এই কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগে স্তম্ভিত তার অনুগামীরা। তবে শমীকের পরিবার এবং ঘনিষ্ট মহলের দাবি, তাকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার করা হয়েছে। ৫ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ দায়ের হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দমদম এলাকা থেকে তাকে পাকড়াও করে পুলিশ। আজ ১১ দিনের দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্তের তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের পর তাকে পুনরায় আদালতের মুখোমুখি করা হলো। এখন দেখার, আদালত তার জামিনের আবেদন মঞ্জুর করে নাকি তাকে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, শমীক ও অভিযোগকারী তরুণীর মধ্যে দীর্ঘদিনের পরিচয় ছিল। ঘটনার দিন ফ্ল্যাটে আটকে রেখে শুধুমাত্র শারীরিক নি’গ্রহই নয়, বরং অভিযোগকারিণীর ব্যক্তিগত কিছু ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে তাকে ব্ল্যাকমেল করার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশি জেরায় উঠে এসেছে। নির্যাতিতার বয়ান অনুযায়ী, শমীক তাকে ভয় দেখিয়েছিলেন যে এই ঘটনা জানাজানি হলে তার সামাজিক সম্মানহানি করা হবে। পুলিশ ইতিমধ্যেই শমীকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং ল্যাপটপ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে, যাতে ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ব্ল্যাকমেলিং ও হুমকির সত্যতা যাচাই করা যায়। আদালতের নির্দেশে গত ১১ দিন ধরে দফায় দফায় জেরা করে পুলিশ এই ঘটনার শিকড়ে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।

তবে আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যেহেতেু মামলায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার অত্যন্ত গুরুতর ধারা (ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেলিং) যুক্ত করা হয়েছে, তাই আদালতের কাছে অকাট্য প্রমাণ পেশ করা পুলিশের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ। আজ আদালতে পেশ করার সময় শমীকের চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ থাকলেও সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে তিনি নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করার চেষ্টা করেন।