প্রতিযোগীদের গানেই আবেগে ভাসেন শ্রেয়া ঘোষাল! ইন্ডিয়ান আইডলে কে ছিলেন গায়িকার প্রিয় পাত্রী?

গত তিন বছর ধরে জনপ্রিয় সঙ্গীত প্রতিযোগিতা ইন্ডিয়ান আইডল এর বিচারকের আসনে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে সঙ্গীতশিল্পী শ্রেয়া ঘোষাল কে। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে হাজির হয়ে তিনি খোলামেলা ভাবে জানিয়েছেন এই শোয়ের সঙ্গে তাঁর গভীর আবেগের সম্পর্কের কথা। অনেকেই মনে করেন রিয়েলিটি শোতে বিচারকদের আবেগ কখনও কখনও অভিনয়ের মতো লাগে। তবে শ্রেয়া স্পষ্ট করে বলেন, তাঁর হাসি বা চোখের জল কোনওটাই দেখনদারি নয়। প্রতিযোগীদের গান শুনতে শুনতে তিনি সত্যিই আবেগে ভেসে যান এবং সেই মুহূর্তগুলো তাঁর কাছে সম্পূর্ণ বাস্তব।

কথা বলতে গিয়ে তিনি বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেন গত সিজনের প্রতিযোগী স্নেহা শঙ্কর এর কথা। শ্রেয়ার মতে, স্নেহা মঞ্চে গান গাওয়ার আগে থেকেই তাঁর প্রস্তুতি তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিত। তিনি জানান, দিনের পর দিন তিনি অপেক্ষা করে থাকতেন স্নেহার পারফরম্যান্স শোনার জন্য। সন্ধ্যার দিকে যখন তার গাওয়ার পালা আসত, তখনও তাকে ক্লান্তির মাঝেও রেওয়াজ করতে দেখা যেত। কখনও হাঁটতে হাঁটতে, কখনও নিজের মনে সুর তুলতে তুলতে সে প্রস্তুতি চালিয়ে যেত। এই দৃশ্য শ্রেয়ার নিজের ছোটবেলার কথা মনে করিয়ে দিত।

শ্রেয়া বলেন, যখন স্নেহা মঞ্চে দাঁড়িয়ে গান শুরু করত, তাঁর শরীরে যেন শিহরণ জেগে উঠত। সুর যখন নিখুঁত ভাবে বসে যায়, তখন তিনি এক অদ্ভুত কম্পন অনুভব করেন বলে জানান। আশ্চর্যের বিষয় হল, অন্যের গান শুনে তিনি যতটা আনন্দ পান, নিজের গান শুনে ততটা পান না। তাঁর মতে, সঙ্গীতের এই নিখাদ অনুভূতিই তাঁকে বারবার এই রিয়েলিটি শোয়ের সঙ্গে যুক্ত রাখে এবং প্রতিটি মুহূর্ত তিনি আন্তরিকভাবে উপভোগ করেন।

তিনি আরও বলেন, অনেকেই তাঁকে প্রশ্ন করেন কেন এত বছর ধরে তিনি একই শো করছেন। এর উত্তরে শ্রেয়া জানান, এখানে সত্যিকারের প্রতিভা রয়েছে বলেই তিনি এত সময় ধরে বিচারকের আসনে বসে থাকতে পারেন। প্রতিযোগীদের গান শুনে কখনও হাসি আসে, কখনও চোখ ভিজে যায়। এই সব অনুভূতি একেবারেই স্বতঃস্ফূর্ত। তাঁর কাছে এই মঞ্চ কেবল একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠান নয়, বরং নতুন প্রতিভাদের জন্ম দেখার এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

প্রসঙ্গত, স্নেহা শঙ্কর প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী রাম শঙ্কর এর কন্যা এবং কিংবদন্তি সুফি গায়ক শঙ্করের নাতনি। সিজনের ফাইনালে এসে ভূষণ কুমার তাঁকে টি সিরিজ এর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ করেন। অনেকেই মনে করেছিলেন তিনিই হয়তো সিজনের বিজয়ী হবেন। তবে শেষ পর্যন্ত বিজয়ীর মুকুট ওঠে বাঙালি প্রতিযোগী মানসী ঘোষ এর মাথায় এবং স্নেহা তৃতীয় স্থানে শেষ করেন।