মার্চের মাঝামাঝি থেকেই শুরু হওয়ার কথা ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বায়োপিকের শুটিং। ঘোষণার পর থেকেই দর্শকমহলে তুমুল উত্তেজনা। ক্রিকেট মাঠে তাঁর আগ্রাসী নেতৃত্ব আর লর্ডসে জার্সি ওড়ানোর মুহূর্ত এখনও ভক্তদের রক্ত গরম করে। ফলে তাঁর জীবন নিয়ে তৈরি ছবি ঘিরে কৌতূহল থাকবেই। ইতিমধ্যে ছবির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের কাস্টিং নিয়ে আভাস মিলেছে। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনা এখন একটিই প্রশ্নে, ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের চরিত্রে কাকে দেখা যাবে। ইশা সাহা ও মিমি চক্রবর্তীর নাম শোনা গেলেও, আপাতত খবর অন্যদিকে ইঙ্গিত করছে।
সৌরভের ভূমিকায় থাকছেন বলিউড অভিনেতা রাজকুমার রাও। মহারাজের চরিত্রে নিজেকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে তিনি নিচ্ছেন কঠোর প্রশিক্ষণ। ব্যাটিং থেকে বোলিং, শরীরী ভাষা থেকে হাঁটার ভঙ্গি, সবকিছুতেই সূক্ষ্ম প্রস্তুতি চলছে। শোনা যাচ্ছে, চরিত্রকে কাছ থেকে অনুভব করতে তিনি নাকি বেহালার গঙ্গোপাধ্যায় বাড়িতেও কিছুদিন কাটাতে পারেন। সৌরভের মা নিরূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের চরিত্রে দেখা যাবে অপরাজিতা আঢ্যকে। বাবা চণ্ডি গঙ্গোপাধ্যায়ের ভূমিকায় থাকছেন বোমন ইরানি। আর প্রাক্তন বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট জগমোহন ডালমিয়ার চরিত্রে অভিনয় করবেন গজরাজ রাও।
তবে সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন ডোনার চরিত্র। টলিপাড়ার অন্দরে শোনা যাচ্ছে, অমৃতা চট্টোপাধ্যায়কে এই ভূমিকায় ভাবছেন নির্মাতারা। বয়স, চেহারার মিল এবং নাচে দক্ষতা, সবদিক বিচার করেই নাকি এই সিদ্ধান্ত। কারণ ডোনা গঙ্গোপাধ্যায় শুধু সৌরভের জীবনসঙ্গিনী নন, তিনি নিজেও প্রতিষ্ঠিত নৃত্যশিল্পী। তাঁর ব্যক্তিত্বে রয়েছে দৃঢ়তা ও সৌন্দর্যের মেলবন্ধন। সেই আবহ ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম এমন কাউকেই খুঁজছিলেন পরিচালক। যদিও এখনও পর্যন্ত নির্মাতাদের তরফে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।
ছবিটি প্রযোজনা করছেন জনপ্রিয় নির্মাতা লাভ রঞ্জন এবং পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন বিক্রমাদিত্য মোতওয়ানে। চিত্রনাট্যে নিজেও নজর রেখেছেন সৌরভ, যাতে তথ্যগত কোনও ভুল না থাকে। বায়োপিকে উঠে আসবে তাঁর ক্রিকেট জীবনের উত্থান, বিতর্ক, প্রত্যাবর্তন এবং ভারতীয় দলকে নতুন মানসিকতা উপহার দেওয়ার গল্প। ২০১১ সাল পর্যন্ত তাঁর দীর্ঘ যাত্রাপথকে কেন্দ্র করেই ছবির কাহিনি আবর্তিত হবে। সবকিছু ঠিকঠাক চললে বছরের শেষেই মুক্তি পেতে পারে এই বহুল প্রতীক্ষিত ছবি।
আরও পড়ুনঃ ‘এই বয়সে আর সিক্রেট ফাঁস, সবই তো তোমরা ওপেন করে দিয়েছো!’ ক্যামেরার সামনে কেন এমন বললেন কাঞ্চন পত্নী?
এর আগে শচীন তেন্ডুলকর, কপিল দেব, মহেন্দ্র সিং ধোনি ও মিতালি রাজের জীবনের উপর বায়োপিক তৈরি হয়েছে। ধোনি দ্য আনটোল্ড স্টোরি এবং ৮৩ বক্স অফিসে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেলেও, অন্য ছবিগুলি তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, মহারাজের বায়োপিক কি সেই সাফল্যের ধারা বজায় রাখতে পারবে। ভক্তদের প্রত্যাশা আকাশছোঁয়া। এখন শুধু অপেক্ষা, বড় পর্দায় সৌরভের সেই অদম্য লড়াই আর আবেগময় যাত্রা নতুন করে অনুভব করার।





