বিদায়ের মুহূর্ত কখনও সহজ হয় না, বিশেষ করে যখন সেই বিদায় সন্তানের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে। বিমানবন্দরের ভিড়, নিয়ম মেনে এগোনো সব প্রক্রিয়ার মধ্যেও একফোঁটা সময়ের জন্য অপেক্ষা করেন একজন মা। ঠিক তেমনই অনুভূতির কথা ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেত্রী Swastika Mukherjee। তাঁর মেয়ে Anwesha Mukhopadhyay বিদেশে ফিরে যাওয়ার পর সেই অভিজ্ঞতা সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরেছেন তিনি, যেখানে মায়ের মনের গভীর টান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
স্বস্তিকা লিখেছেন, সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ইমিগ্রেশনে ঢোকার আগে সেই কয়েক সেকেন্ডের জন্যই তিনি অপেক্ষা করেন। মেয়ের দিকে শেষবার তাকানো, ছোট্ট করে হাত নাড়া, আর ইশারায় বলা সব ঠিক আছে— এই সামান্য মুহূর্তটুকুই যেন এক বিশাল আশ্বাস হয়ে ওঠে। সেই মুহূর্তের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে হাজার চিন্তা আর ভালোবাসা, যা কোনও কথায় সম্পূর্ণ প্রকাশ করা যায় না।
তিনি জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ে এখন নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে বিশ্বের নানা প্রান্তে ঘোরে, নিজের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করছে। ছোট শহর থেকে বড় শহরে গিয়ে নিজের জায়গা তৈরি করেছে সে। তবুও বাবা মায়ের কাছে সন্তান সবসময়ই ছোট থেকে যায়। বাড়িতে আসার আনন্দ যেমন গভীর, তেমনই আবার দূরে চলে যাওয়ার পরের শূন্যতাও ততটাই তীব্র হয়ে ওঠে, আর অপেক্ষা থেকে যায় পরের দেখা হওয়ার।
নিজের ছোটবেলার কথাও মনে করেছেন তিনি। দেরি করে বাড়ি ফিরলে তাঁর মা বলতেন, নিজে মা হলে বুঝবি। তখন সেই কথার গভীরতা না বুঝলেও আজ তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তাঁর জীবনে। এখন তিনি নিজেই প্লেন উড়ার আগে পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকেন, বারবার খোঁজ নেন সব ঠিক আছে কিনা, পৌঁছালে জানাবে কিনা। জানেন, সব জানলেও কিছু করার থাকে না, তবুও এই খোঁজ নেওয়াটাই যেন দায়িত্ব আর ভালোবাসার প্রকাশ।
আরও পড়ুনঃ শাড়ির আঁচলে মায়ের ভালোবাসা! শেষ বিদায়েও সেই স্নেহের ছোঁয়া রেখে গেলেন আশা ভোঁসলে!
পোস্টের শেষে তিনি লিখেছেন, মেয়ে কাছে থাকলে সময় খুব দ্রুত কেটে যায়, আর দূরে চলে গেলে সময় যেন থেমে যায়। তবুও তাঁর প্রার্থনা একটাই, মেয়ে যেন ভালো থাকে, যেখানে থাকুক সুখে থাকুক। কারণ মা বাবা যতদিন আছেন, ততদিন এই খোঁজ নেওয়ার মানুষও থাকে। সেই সম্পর্কই জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়, আর সেই অপেক্ষাই এক অদৃশ্য ভালোবাসার বন্ধন হয়ে রয়ে যায়।





