পালিয়ে বিয়ে থেকে প্রডিউসারের প্রেম, কেন সব্যসাচীর কথা শুনে অন্য পুরুষের বি’ছানায় গিয়েছিলেন সুস্মিতা রায়? সব্যসাচী চক্রবর্তীর কথায় কেন এমন ভয়ঙ্কর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি?

টেলিভিশন পর্দার (Bengali Television) পরিচিত মুখ সুস্মিতা রায় (Sushmita Roy)। পর্দায় তার সাবলীল অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করলেও, পর্দার পেছনের জীবন যেন কোনো থ্রিলার সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। অতি সম্প্রতি সাংবাদিক সব্যসাচী চক্রবর্তীর সাথে তার দীর্ঘদিনের বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান এবং মাত্র সাত দিনের মাথায় নতুন করে সংসার শুরু করার খবরটি বিনোদন পাড়ায় টক অফ দ্য টাউন-এ পরিণত হয়েছে। তবে এই বিচ্ছেদের পেছনে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

সুস্মিতার জীবনের অস্থিরতা শুরু হয়েছিল অনেক অল্প বয়স থেকেই। আবেগপ্রবণ হয়ে ঘর ছেড়ে পালিয়ে বিয়ে করার মাধ্যমে তার প্রথম দাম্পত্য জীবনের শুরু হলেও তা স্থায়ী হয়নি। এরপর তিনি ব্যাঙ্গালোরে থিতু হওয়ার চেষ্টা করেন এবং পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। কিন্তু সেখানেও নিয়তি তার সহায় ছিল না। অভিযোগ ওঠে, তার তৎকালীন স্বামীর জীবনে অন্য নারীর উপস্থিতি ছিল, যার ফলে মানসিক যন্ত্রণার শিকার হয়ে সেই সম্পর্ক থেকেও তিনি বেরিয়ে আসেন। পরবর্তীতে কলকাতায় ফিরে এক প্রভাবশালী প্রোডিউসারের সাথে তার সখ্যতা গড়ে উঠলেও তা পরিণয় পায়নি।

সুস্মিতার জীবনের সবথেকে আলোচিত অধ্যায়টি ছিল সাংবাদিক সব্যসাচী চক্রবর্তীর সাথে তার বিয়ে। তাদের সম্পর্কটি আপাতদৃষ্টিতে সুখের মনে হলেও ভেতরে ভেতরে তা ছিল চরম অস্থিরতায় ঘেরা। জানা গেছে, ৩৬ বছর বয়সেও সুস্মিতা ভালোবাসার কাঙাল ছিলেন, যার সুযোগ নিয়ে সব্যসাচী তাকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করতেন। সব্যসাচীর কথাতেই এবং জাগতিক জিনিসের লোভে পড়ে সুস্মিতা এক অত্যন্ত ধনী ব্যক্তির সাথে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত হন এবং তার বাড়িতে গিয়ে থাকতে শুরু করেন। তবে সেই ধনী ব্যক্তিটিও তাকে ঠকালে, কোনো উপায় না পেয়ে তিনি আবারও সব্যসাচীর কাছেই আশ্রয় খোঁজেন।

সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার নেশায় সুস্মিতা যে চরম সীমা অতিক্রম করেছিলেন, তা প্রকাশ্যে আসতেই নেটিজেনরা হতবাক। অভিযোগ রয়েছে যে, সব্যসাচীর ভালোবাসা পাওয়ার আশায় এবং তার দেওয়া শর্ত মেনে সুস্মিতা ‘থ্রি-সাম’-এর মতো বিতর্কিত সম্পর্কেও সায় দিয়েছিলেন। ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, সুস্মিতা এতটাই সহজ-সরল বা বিভ্রান্ত ছিলেন যে তিনি বিশ্বাস করেছিলেন এভাবেই হয়তো স্বামীর মন জয় করা সম্ভব। কিন্তু এই অস্বাভাবিক জীবনধারা তাদের সম্পর্কের তিক্ততা কমায়নি, বরং বিচ্ছেদের পথকে আরও প্রশস্ত করেছে।

অবশেষে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর গত ৯ই মার্চ সুস্মিতা ও সব্যসাচীর আনুষ্ঠানিক ডিভোর্স সম্পন্ন হয়। কিন্তু নাটকের তখনও বাকি ছিল। বিচ্ছেদের শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই, মাত্র ৭ দিনের ব্যবধানে সুস্মিতা নতুন করে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। আরও চাঞ্চল্যকর খবর হলো, নতুন বিয়ের এক সপ্তাহের মধ্যেই শোনা যাচ্ছে তিনি অন্তঃসত্ত্বা। বিচ্ছেদের পর যেখানে মানুষের স্বাভাবিক হতে সময় লাগে, সেখানে সুস্মিতার এই অতি-দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং গর্ভবতী হওয়ার খবরটি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্কের ঝড় তুলছে।