দর্জির কাজ করে সংসার চালানো, স্ত্রীয়ের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছিলেন, আজ বলিউডের কমেডি কিং—কে বলুন তো?

বলিউডে এমন অনেক অভিনেতা রয়েছেন, যাঁদের যাত্রাপথ একেবারেই মসৃণ ছিল না। কেউ লড়েছেন দারিদ্রের সঙ্গে, কেউবা হারিয়েছেন কাছের মানুষকে। ঠিক যেমন এই অভিনেতা—আজ যাঁকে বলা হয় বলিউডের হাস্যরসের রাজা, তিনিও জীবনের শুরুতে পেরিয়েছেন অভাব আর বেদনার কঠিন পথ।

উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুরে জন্ম। ছোট থেকেই স্বপ্ন দেখতেন বড় কিছু করার। প্রথমে ইচ্ছা ছিল ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার, কিন্তু উচ্চতা কম হওয়ায় সে স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়। বাধ্য হয়ে পরিবারের দায়িত্ব নিতে শুরু করেন দর্জির কাজ করে।

তবে জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে ২০ বছর বয়সে। সদ্যোজাত কন্যার জন্মের সময় জটিলতার কারণে মৃত্যু হয় তাঁর প্রথম স্ত্রীর। ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। কীভাবে একা কন্যাকে বড় করবেন, এই চিন্তায় অসহায় হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু পরিবারের সমর্থন আর মেয়ের জন্য দায়িত্ববোধ তাঁকে নতুন করে উঠে দাঁড়াতে শিখিয়েছিল।

এরপর তিনি ভর্তি হন দিল্লির ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামায়। শুরু হয় তাঁর অভিনয় জীবনের আসল অধ্যায়। ১৩ বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম, স্ট্রাগল আর অগাধ নিষ্ঠা তাঁকে পৌঁছে দেয় বড়পর্দায়। ২০০০ সালে রাম গোপাল ভার্মার ‘জঙ্গল’ ছবিতে অভিনয় করে বলিউডে প্রথম আলোচনায় আসেন তিনি।

এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ‘হাঙ্গামা’, ‘ভুল ভুলাইয়া’, ‘চুপ চুপ কে’, ‘ভাগম ভাগ’, ‘মালামাল উইকলি’, ‘ঢোল’, ‘খাট্টা মিঠা’, ‘হেরা ফেরি’—একাধিক হিট সিনেমায় তাঁর অনবদ্য কমিক টাইমিং আজও দর্শকদের মুখে হাসি ফোটায়। বিশেষ করে ২০০৭ সালে ‘ভুল ভুলাইয়া’ ছবিতে ‘ছোটে পণ্ডিত’ চরিত্রে তাঁর অভিনয় রীতিমতো কালজয়ী।

২০০৩ সালে আবার প্রেমে পড়েন তিনি। বিয়ে করেন রাধা নামের এক মহিলাকে, যাঁর সঙ্গে আজ সুখে সংসার করছেন তিনি।

আজ তিনি শুধু একজন সফল অভিনেতা নন, বরং বলিউডের অন্যতম প্রিয় কমেডি ফেস। কিন্তু তাঁর এই সাফল্যের পিছনে লুকিয়ে আছে কঠিন সংগ্রাম, হারানোর বেদনা, আর অদম্য জেদের গল্প। চেনা গেল তো কে এই বলিউড সুপারস্টার? তিনি আর কেউ নন, আপনাদের সকলের প্রিয় অভিনেতা রাজপাল যাদব।