এক বছর পেরিয়ে গেল আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের সেই ভয়াবহ ঘটনা। ২০২৩ সালের ৯ অগস্ট, কর্তব্যরত অবস্থায় এক তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যু নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা রাজ্যকে। অভিযোগ উঠেছিল, তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। তারপর থেকেই রাজ্যের ছাত্র-চিকিৎসকদের আন্দোলন শুরু — ন্যায়বিচারের দাবিতে গর্জে উঠেছিল গোটা শহর। বছর ঘুরে ফের নতুন কর্মসূচি— ২০২৪ সালের ৯ অগস্ট সকাল থেকে রাখি-বন্ধন, আর রাতে আবার সেই ‘রাতদখল’-এর ডাক!
গত বছর ১৪ অগস্ট, স্বাধীনতা দিবসের আগের রাতটা শহরবাসীর কাছে ভোলার নয়। শহরের রাস্তায়, অন্ধকারে আলোর মিছিল হয়ে উঠেছিল প্রতিবাদ। ওই ঘটনার স্মৃতিতেই গড়ে ওঠে ‘অভয়া মঞ্চ’। সেখান থেকেই শোনা যাচ্ছে, এবারও ডাকা হতে পারে নতুন রাতজাগা প্রতিবাদের — এক বছর পেরিয়ে গেলে কি ন্যায় পাওয়া গেল?
এই আন্দোলনের একটা বড় দিক ছিল, সমাজের নানা ক্ষেত্রের মানুষের পাশে দাঁড়ানো। বিনোদন জগতের অনেক পরিচিত মুখ তখনও মিছিলে ছিলেন। কখনও প্রতিবাদের পোস্টারে, কখনও বা সরাসরি পথে নেমে, পাশে ছিলেন সৃজিত মুখোপাধ্যায়, স্বস্তিকা, ঊষসী, সোহিনী, কিঞ্জল, সুদীপ্তা, বিরসা, দেবলীনা সহ আরও অনেকেই।
এবার প্রশ্ন উঠছে — আবার যদি ‘রাতদখল’ হয়, তাঁরা কি আবার পথে নামবেন?
এই প্রশ্নেই আনন্দবাজার অনলাইন যোগাযোগ করেছিল বেশ কয়েকজন অভিনেতা-অভিনেত্রীর সঙ্গে। চিকিৎসক-অভিনেতা কিঞ্জল নন্দ বললেন, “আমায় এখনো কিছু জানানো হয়নি। তাই আগে জানি, তারপর ভাবব।” একই সুর অভিনেত্রী চৈতি ঘোষালের কণ্ঠে — “এটা খুব সংবেদনশীল বিষয়। আগে বিস্তারিত জানি, তারপর মত দেব।”
অন্যদিকে, আন্দোলনের শুরু থেকে যিনি সক্রিয়, সেই ঊষসী চক্রবর্তী বললেন, “৯ অগস্টের কর্মসূচিতে আমি থাকব। আর যদি সত্যিই ‘রাতদখল’ হয়, আমায় খুঁজে পাবে সবাই। এক বছর হয়ে গেল, বিচার এখনও হয়নি। আমরা ভুলিনি, সেটা জানানো দরকার।”
আর অভিনেত্রী দেবলীনা, বিদীপ্তা, তানিকা, বিরসা — এঁদের কানে পৌঁছেছে সম্ভাব্য কর্মসূচির খবর। এখনও যদিও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। তবুও প্রত্যেকেই বললেন, “আন্দোলন থাকলে, প্রতিবাদ থাকলে, আমরা আবার পাশে থাকব।” তানিকা একটু হতাশা নিয়ে বললেন, “আমরা এক বছর ধরে অনেক কিছু করেছি। কিন্তু সত্যিই কি ফল হয়েছে? তবুও, ন্যায়ের দাবি থেকে সরে আসব না।”
আরও পড়ুনঃ দেবশ্রী রায়ের পরিবারে নেমে এলো অন্ধকার! চিরতরে হারিয়ে গেল প্রিয়জন!
একটা বছর কেটে গেল। ক্যালেন্ডারে তারিখ পাল্টেছে, কিন্তু তরুণী চিকিৎসকের পরিবার এখনও বিচার পায়নি। তাই আবার পথে নামার ডাক — হয়তো আরও একবার, শহরটা রাতভর জেগে উঠবে শুধু একটা কথার দাবিতে— *”আমরা কিন্তু ভুলিনি!”





