শুভশ্রীর হাত ধরে নতুন ইনিংস! আর মাছ-মাংসের জন্য বাজারে ছোটা নয়! ৩০ মিনিটে বাড়িতে বাজার পৌঁছে দেবেন সুস্মিতা রায়!

টলিউডের (Tollywood) পরিচিত মুখ সুস্মিতা রায় (Sushmita Roy) এখন কেবল অভিনয়ের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং নিজেকে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর আগামী দিনের পরিকল্পনা এবং তাঁর স্বপ্নের প্রজেক্ট ‘মেডো কার্ড’ (Medo Card) নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। অভিনয় জগত থেকে কিছুটা বিরতি নিয়ে এখন তাঁর ধ্যান-জ্ঞান শুধুই ব্যবসা। বিশেষ করে নববর্ষের শুভক্ষণে নিজের ব্যবসাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সংকল্প নিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

পয়লা বৈশাখের পুণ্যলগ্নে সুস্মিতার কোম্পানি ‘মেডো কার্ড’ সাধারণ মানুষের জন্য এক বিশেষ পরিষেবা চালু করেছে। এতদিন এই সংস্থা দুধ এবং শাকসবজি সরবরাহ করত, কিন্তু এখন থেকে মাছ ও মাংসও পাওয়া যাবে তাঁদের প্ল্যাটফর্মে। সুস্মিতার দাবি, বাজারে চলতি রাসায়নিকযুক্ত বা প্রিজারভেটিভ দেওয়া খাবারের ভিড়ে তাঁরা সম্পূর্ণ জিরো প্রিজারভেটিভ বা টাটকা খাদ্যদ্রব্য পৌঁছে দিচ্ছেন। সবথেকে বড় চমক হলো, অর্ডার করার মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই গ্রাহকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে টাটকা মাছ ও মাংস।

বিয়ের পর এটিই সুস্মিতার প্রথম পয়লা বৈশাখ। তবে ঘরোয়া আচারের চেয়ে তাঁর কাছে এখন কাজের গুরুত্ব অনেক বেশি। তিনি জানান, পয়লা বৈশাখের দিন সকাল ৭টা থেকে রাত পর্যন্ত তাঁর ঠাসা শিডিউল। হাবড়া থেকে রুবি শহরের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁর সংস্থার একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজি ওপেনিং রয়েছে। ফলে ব্যক্তিগত উৎসবের চেয়ে পেশাদারিত্বেই বেশি সময় দিচ্ছেন তিনি। তবে ব্যস্ততার ফাঁকেও অনলাইনেই সেরেছেন কেনাকাটা, কারণ অফলাইন শপিং করার মতো সময় এই মুহূর্তে তাঁর হাতে একদমই নেই।

সুস্মিতার এই নতুন ব্যবসায়িক যাত্রায় যুক্ত হয়েছে এক বড় নাম। তিনি ঘোষণা করেছেন যে, তাঁদের ব্র্যান্ডের মুখ বা ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছেন টলিউডের ‘লেডি সুপারস্টার’ শুভশ্রী গাঙ্গুলী। পয়লা বৈশাখের দিন থেকেই শুভশ্রীকে নিয়ে তাঁদের প্রচার শুরু হয়ে যাচ্ছে। এক অভিনেত্রীর উদ্যোগে অন্য এক প্রথম সারির অভিনেত্রীর এই অন্তর্ভুক্তি টলিপাড়ায় বেশ চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুস্মিতার মতে, শুভশ্রীর উপস্থিতি তাঁদের ব্র্যান্ডের বিশ্বাসযোগ্যতা আরও বাড়িয়ে তুলবে।

ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি সুস্মিতা তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের ছন্দ নিয়েও কথা বলেন। স্বামী শুভাশিষের সঙ্গে নিউটাউনের ফ্ল্যাটে নতুন জীবন শুরু করলেও, শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর। ব্যস্ততার মাঝেও সময় বের করে পরিবারের জন্য ইলিশ মাছ বা মাটন রান্না করতে ভালোবাসেন তিনি। সুস্মিতা স্পষ্ট জানান, তাঁর জীবনের একমাত্র মন্ত্র হলো ‘পজিটিভিটি’। নেতিবাচকতাকে দূরে সরিয়ে সুস্থ ও রাসায়নিক মুক্ত খাবার মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য। তাঁর এই নতুন ইনিংসকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তাঁর অনুরাগী ও শুভানুধ্যায়ীরা।