সন্তান দত্তক নেওয়ার ভাবনা ছিল, কেন পিছিয়ে এলেন অনন্যা চট্টোপাধ্যায়? কারণটা জানালেন নিজেই!

বাংলা বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ অনন্যা চট্টোপাধ্যায় আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন নিজের স্পষ্টভাষী বক্তব্যের জন্য। ছোটপর্দায় ‘সুবর্ণলতা’ এবং ‘জয়কালী কলকাত্তাওয়ালি’ ধারাবাহিকে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের মন জয় করেছিলেন। পাশাপাশি বড়পর্দাতেও নিজের অভিনয় দক্ষতার ছাপ রেখেছেন এই অভিনেত্রী। দীর্ঘদিন পর তাঁর নতুন ছবি মুক্তি পাওয়াকে কেন্দ্র করে ফের লাইমলাইটে এসেছেন তিনি, আর সেই উপলক্ষেই সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের কিছু অজানা দিক।

অনন্যার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বরাবর কৌতূহল ছিল দর্শকদের। ডিভোর্সের পর তিনি আর নতুন করে বিয়ে করেননি। নিজের মতো করেই জীবনকে সাজিয়েছেন তিনি। তবে সংসার না পাতলেও কখনও কি সন্তান দত্তক নেওয়ার কথা ভেবেছিলেন, এমন প্রশ্ন উঠতেই অকপটে নিজের ভাবনার কথা জানান অভিনেত্রী। তিনি বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে তিনি একসময় গভীরভাবে চিন্তা করেছিলেন।

প্রায় পাঁচ বছর আগে প্রথমবার এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভেবেছিলেন অনন্যা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি বুঝতে পারেন, শুধু আবেগ দিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। একজন সন্তানের দায়িত্ব নেওয়া মানে তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে পাশে থাকা। নিজের পেশার কারণে তিনি সেই সময়টা দিতে পারবেন কি না, সেই প্রশ্নই তাঁকে পিছিয়ে যেতে বাধ্য করে। নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি তাড়াহুড়ো করতে চাননি।

অভিনেত্রীর মতে, সন্তান দত্তক নেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিশ্চিত না হয়ে এগোনো উচিত নয়। কারণ এতে শুধু নিজের নয়, একটি শিশুর ভবিষ্যৎও জড়িয়ে থাকে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এই বিষয়ে তাঁর নিজের ভিতরে তখন সম্পূর্ণ নিশ্চয়তা ছিল না। তাই তিনি সেই পথ থেকে সরে আসেন। তাঁর এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি অনেকের কাছেই বাস্তববাদী এবং পরিণত ভাবনার পরিচয় দিয়েছে।

বর্তমানে নিজের কাজ নিয়েই ব্যস্ত অনন্যা চট্টোপাধ্যায়। বহুদিন পর বড়পর্দায় তাঁর নতুন ছবি মুক্তি পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত তিনি। ব্যক্তিগত জীবনের সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনও আফসোস নেই বলেই জানিয়েছেন অভিনেত্রী। বরং নিজের কাজ আর নিজের মতো করে জীবন কাটানোতেই তিনি খুশি। তাঁর এই স্পষ্ট ও সৎ বক্তব্য আরও একবার প্রমাণ করল, তিনি শুধু পর্দার নন, বাস্তব জীবনেও একজন শক্ত এবং আত্মবিশ্বাসী মানুষ।