“নিজেদের সম্মান নিজেদের হাতে!” টলিউডের অন্দরের কলহ নিয়ে বিস্ফোরক অঙ্কুশ, নিজের সম্মান কি হারিয়ে ফেলছে বাংলা ইন্ডাস্ট্রি?

বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে বাংলা বিনোদন জগতের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একের পর এক দুঃসংবাদ, শিল্পীদের ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন আর কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার অভাব সব মিলিয়ে টলিউড (Tollywood) যেন এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক প্রয়াণ এবং তার প্রেক্ষিতে শিল্পী ও টেকনিশিয়ানদের অনির্দিষ্টকালীন ধর্মঘট স্টুডিওপাড়ার অভ্যন্তরীণ ক্ষোভকে আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে। এই উত্তাল আবহে এবার ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ ও সম্মান নিয়ে মুখ খুললেন জনপ্রিয় অভিনেতা অঙ্কুশ হাজরা (Ankush Hazra)।

এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে অঙ্কুশ জানান, বর্তমানে ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের খবর যেভাবে মিডিয়ার মাধ্যমে বাইরে চলে আসছে, তা অত্যন্ত লজ্জাজনক। কার সঙ্গে কার ব্যক্তিগত মনোমালিন্য রয়েছে বা কার সাথে কার মুখ দেখা বন্ধ সেসব তুচ্ছ বিষয় এখন সাধারণ মানুষের চর্চায় পরিণত হয়েছে। অঙ্কুশের মতে, “ইন্ডাস্ট্রির মানুষদের আগে নিজেদের সম্মান বজায় রাখার কথা ভাবা উচিত।” তিনি মনে করেন, ঘরের সমস্যা যদি অন্দরেই মেটানো না যায়, তবে বাইরের মানুষ টলিউডকে কখনোই প্রাপ্য মর্যাদা দেবে না। নিজেদের সম্মান বজায় রাখতে একজোট হওয়া ছাড়া আর কোনো পথ নেই বলেই তিনি বিশ্বাস করেন।

২০১০ সালে ‘কেল্লাফতে’ ছবির মাধ্যমে রুপালি পর্দায় পা রাখা এই অভিনেতা আজ টলিউডের প্রথম সারির তারকা। গত ১৪ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি উপহার দিয়েছেন ‘কানামাছি’, ‘খিলাড়ি’, ‘রোমিও জুলিয়েট’-এর মতো বহু বাণিজ্যিক সফল ছবি। তবে নিজেকে শুধু অভিনয়ের গণ্ডিতে আটকে রাখেননি অঙ্কুশ। ২০২২ সালে তিনি নিজের প্রযোজনা সংস্থা ‘অঙ্কুশ হাজরা মোশন পিকচার্স’ শুরু করেন। তাঁর এই সাহসের ফলস্বরূপ গত বছর মুক্তি পেয়েছে বড় বাজেটের ছবি ‘মির্জা’, যা টলিউডের অ্যাকশন ঘরানাকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে। বর্তমানে অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি পুরোদস্তুর প্রযোজকের দায়িত্বও সামলাচ্ছেন।

টলিউডের জন্য গত কয়েক মাস ছিল অত্যন্ত ঘটনাবহুল ও যন্ত্রণার। অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেটে দুর্ঘটনার ফলে মৃত্যু শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এই ঘটনার বিচার চেয়ে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর মতো তারকারা পথে নেমেছেন। এর পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে দীর্ঘদিনের ‘কাস্টিং কাউচ’ বা স্বজনপোষণের অভিযোগও নতুন করে দানা বাঁধছে। শিল্পীদের ওপর হওয়া মানসিক ও শারীরিক হেনস্তার একের পর এক খবর যেন বাংলা সিনেমার সোনালি ভাবমূর্তিকে কালিমালিপ্ত করছে।

পরিশেষে বলা যায়, অঙ্কুশ হাজরার এই সতর্কতা কেবল একটি মন্তব্য নয়, বরং টলিউডের জন্য এক সাবধানবাণী। ইন্টারনেটে কান পাতলেই যেখানে নানা নেতিবাচক চর্চা শোনা যাচ্ছে, সেখানে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের বিভেদ কাটিয়ে ইতিবাচক কাজের মাধ্যমে ভাবমূর্তি ফেরানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। অঙ্কুশ ঠিকই বলেছেন, শিল্পী মহল নিজেদের ঐক্যবদ্ধ করতে পারলে তবেই বাইরের জগৎ থেকে যোগ্য সম্মান ফিরে পাওয়া সম্ভব।