বাংলা সিনেমার আঙিনায় উত্তমকুমারের নাম মানেই এক অদ্ভুত যাদু। যাঁরা তাঁর সঙ্গে অভিনয় করেছেন, তাঁদের সবার কাছেই তিনি শুধু মহানায়ক নন, বরং একজন ভদ্র, মার্জিত সহ-অভিনেতা। অভিনেত্রীদের প্রতি যে কতটা সম্মান দেখাতেন, তা আজও স্মরণ করেন অপর্ণা সেন, সুচিত্রা সেন বা সুপ্রিয়া দেবীর মতো নায়িকারা। হয়তো সেই কারণেই উত্তম ম্যাজিকের প্রভাব কাটানো এত কঠিন হয়ে দাঁড়াত।
অপর্ণা সেনের সঙ্গে উত্তমকুমারের জুটি আজও সিনেমাপ্রেমীদের মনে ঝলমলে। বক্স অফিসে একের পর এক সুপারহিট ছবির পাশাপাশি তাঁদের জুটির রসায়ন দর্শকদের মনে অমলিন হয়ে রয়েছে। “অপরিচিত” (১৯৬৯) এবং “কলঙ্কিত নায়ক” (১৯৭০) এই দুই ছবিতে তাঁদের অভিনয় বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছিল।
এক সাক্ষাৎকারে পুরনো দিনের শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে অপর্ণা জানান, অপরিচিত ছবিতে একটি দৃশ্য ছিল যেখানে তাঁকে মদ খেয়ে বেহুঁশ অবস্থায় দেখা যায়। হাতে একটি ব্যাগ ছিল, কিন্তু তিনি দ্বিধায় পড়েছিলেন—মাতাল অবস্থায় কেউ কি ব্যাগ সামলায়? পরিচালক বিষয়টি এড়িয়ে যেতে বললেও অপর্ণা জোর দিয়ে বলেন, “মেয়েরা যাই হোক, ব্যাগ ভুলে না।” তখনই এগিয়ে আসেন উত্তম। তিনি সমাধান দিলেন, “তুমি ব্যাগ খুঁজবে, আমি প্রশ্ন করব কী চাইছ, তখন তুমি ব্যাগ বলবে। আমি তুলে দেব।” এমন ছোট একটি পরামর্শেই দৃশ্যটি আরও বাস্তব হয়ে উঠেছিল।
আরেকটি স্মৃতি অপর্ণার মনে গেঁথে আছে কলঙ্কিত নায়ক থেকে। ছবিতে তিনি কলগার্লের চরিত্রে ছিলেন। একটি দৃশ্যে উত্তমের সঙ্গে বহুদিন পর তাঁর দেখা হয়। পরিচালক তাঁকে কাঁদতে বললেও অপর্ণা রাজি হননি। তখন উত্তম নিজেই বলেন, “কাঁদতে হবে না। তুমি কথা বলতে বলতে ঘুমিয়ে পড়ো। আমি তোমাকে কোলে তুলে অন্য ঘরে শুইয়ে দেব।” সেই মতো শুটিং হয়, আর সত্যিই উত্তম সহজেই অপর্ণাকে কোলে তুলে নেন। অপর্ণার কথায়, “উনি এতটাই শক্তিশালী ছিলেন যে মুহূর্তে আমাকে তুলে নিলেন। আমি অবাক হয়েছিলাম, আবার লজ্জাও পেয়েছিলাম।”
আরও পড়ুনঃ বছরের পর বছর দেবীর সাজে মুগ্ধ করেছেন তিনি, কিন্তু এবার মহালয়া থেকে বাদ পড়লেন দিতিপ্রিয়া! জিতুর সঙ্গে দ্বন্দ্বই কি আসল কারণ?
এইসব স্মৃতিই প্রমাণ করে, উত্তমকুমার শুধু অভিনয়ের দিক দিয়ে নায়কদের নায়ক নন, সহ-অভিনেতাদের আরাম দেওয়ার কৌশলও তিনি ভালো করেই জানতেন। হয়তো সেই কারণেই আজও অপর্ণা-উত্তম জুটি দর্শকের মনে এক আলাদা আবেগের জায়গা দখল করে আছে।





