সমালোচনাই প্রেরণা! “নিন্দাই জেদ বাড়ায়” আঠারোতেই পরিণত ভাবনা, সমালোচনাই এগিয়ে যাওয়ার পাথেয় জানালেন আরাত্রিকা

সবে আঠারো বছর পেরিয়েছেন। তবু ভাবনা-চিন্তায় অনেকটাই পরিণত তিনি। ছোটপর্দার পরিচিত মুখ আরাত্রিকা মাইতি। দর্শকরা স্নেহভরে যাঁকে কখনও ডাকেন ‘মিতুল মা’, কখনও বা ‘রাই’। অভিনয়ে হাতেখড়ি হয়েছিল শিশু শিল্পী হিসেবেই, ধারাবাহিক খেলনাবাড়ি দিয়ে। তার পরে এল মিঠিঝোরা। আর এবার জি বাংলার নতুন মেগা জোয়ার ভাঁটা-য় দেখা যাবে তাঁকে এক অন্য ভূমিকায়।

অল্প বয়সেই জনপ্রিয়তা কুড়িয়েছেন আরাত্রিকা। তবে এর সঙ্গে এসেছে কটাক্ষ আর সমালোচনাও। বিশেষ করে প্রথম ধারাবাহিক থেকেই কিছু মানুষ তাঁর কাজ নিয়ে খোঁচা দিতে ছাড়েননি। এত অল্প বয়সে এমন পরিস্থিতি সামলানো সহজ নয়। সম্প্রতি আনন্দবাজার অনলাইনের সঙ্গে কথোপকথনে এই প্রসঙ্গ উঠতেই অভিনেত্রী শেয়ার করলেন তাঁর মনের কথা।

“শুরুতে খুব খারাপ লাগত,” বললেন আরাত্রিকা। “যে কাজই করি, সেটাই নিয়ে কেউ না কেউ সমালোচনা করত। মনে হত, তাহলে কি আমি একেবারেই কিছুই পারি না?” তখনই তাঁর মা তাঁকে শিখিয়ে দেন অন্যভাবে ভাবতে। আরাত্রিকার কথায়, “মা বলেছিলেন, অনেকেই তো প্রশংসা করেন। তাঁদের কথায় এতটা প্রভাবিত হইস না। সমালোচনাকেই শক্তি করে তোল।”

আজ সেই শিক্ষাই তাঁর জীবনের মূলমন্ত্র। তাই সমালোচকদের তিনি আশীর্বাদ মনে করেন। “ওঁদের নিন্দাই আমার জেদ বাড়িয়ে দেয়। বরং ওঁদের জন্যই নিজেকে প্রমাণ করার তাগিদ পাই,” হেসে বললেন আরাত্রিকা। তাঁর মতে, ইতিবাচকভাবে বাঁচাটাই সবচেয়ে জরুরি। আর সেই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রভাব পড়ে চরিত্র বাছাইয়েও। “জেদি, লড়াকু, অথচ বাস্তববাদী মেয়ের চরিত্র পেলে আমার আর আলাদা করে অভিনয় করতে হয় না,” জানালেন তিনি।

জোয়ার ভাঁটায় তাঁকে দেখা যাবে এক সৎ কিন্তু বাস্তববাদী মেয়ের চরিত্রে। যেখানে তাঁর দিদির ভূমিকায় রয়েছেন শ্রুতি দাস। এই নতুন সিরিয়ালে দুই বোনের সম্পর্ক, লড়াই আর টানাপোড়েন ঘিরেই এগোবে গল্প। দর্শক তাই ফের একবার অন্য রূপে দেখতে পাবেন ছোটপর্দার এই তরুণী নায়িকাকে, যিনি সমালোচনাকেও শক্তি বানিয়ে এগিয়ে চলতে শিখেছেন।