‘বর্তমান পরিচালকরা কাজের বেলায় কাজী কাজ ফুরালেই পাজি’- ফোন করলে ফোন তোলেন না কোনও পরিচালক! বিস্ফোরক বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়!

“জন্মদিন তো এখন আর আলাদা কোনও দিন নয়। আর পাঁচটা দিনের মতোই কাটে। আগে যখন নিয়মিত অভিনয় করতাম, অন্তত ফোন-টোন আসত। এখন কেউ আর ফোনও ধরে না। এমনকি কুশল জানতেও না।”

অভিনয় থেকে অনেকটাই সরে এসেছেন তিনি। বয়সের ভার এসেছে, তবে শরীর ভালই আছে বলে জানান। কিন্তু সময়ের সঙ্গে অনেক কিছুই বদলে গিয়েছে। কাজ না থাকলে, সম্পর্কও যেন মুছে যায়—এটা তিনি বুঝে গিয়েছেন।

“একবার এক নামী পরিচালকের ওয়েব সিরিজে কাজ করেছিলাম। তখন কত গল্প, কত আন্তরিকতা! আজ ফোন করলে ধরেন না। কাজ শেষ, তাই কথাও শেষ।”—সরাসরি না বললেও, কণ্ঠে ঝরে পড়ছিল অভিমান।

একটু থেমে যোগ করলেন, “আগে এমন ছিল না। স্বয়ং সত্যজিৎ রায় নিজে ফোন ধরতেন। এমন ভদ্র, সরল মানুষ আজকাল আর কোথায়!”

তবে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছেন তিনি। মানিয়ে নিয়েছেন বাস্তবতাকে। বলেন, “এখন আর গায়ে মাখি না। কারণ সবাই মুরুব্বি হয়ে গিয়েছে।”

দিনগুলো কেমন কাটে? হেসে বলেন, “খবরের কাগজ পড়ি, বই পড়ি। কখনও পুরনো বন্ধুরা আসে। আর গিন্নি তো আছেনই—তাঁর সঙ্গে ঝগড়া করেই কেটে যায় অনেকটা সময়। জন্মদিনে নিজে হাতে পাঁঠার মাংস আর পায়েস রাঁধেন। রান্নার দিদি ডিমের ডেভিল বানান—সে-ও পাতে থাকে।”

তাঁকে এখন আর সিনেমায় বা সিরিজে দেখা যায় না। কেন ডাকা হয় না? সে প্রশ্নের জবাবে খানিক কৌতুকের ছলে বলেন, “হয়তো আমার চোখে অনেক কিছু ধরা পড়ে যায় তাই!” সঙ্গে সঙ্গে টলিউডের বর্তমান পরিস্থিতির দিকেও ইঙ্গিত করেন। দলাদলি, রাজনীতি, মানহীন কাজ—সবই তাঁর চোখে ধরা পড়ে।

“সবাই টাকায় পাগল। তাই তো সরকারি কোষাগারও শূন্য। তবে এটাও বলব, সবাই খারাপ নয়। প্রত্যেকের মধ্যেই কিছু না কিছু ভাল দিক থাকে। শুধু সমালোচনা না করে যদি সেই ভালটুকু খুঁজে বের করা যায়, তাহলে হয়তো সমাজে সাম্য ফিরবে।”

আরও পড়ুনঃ ‘গলব্লাডার স্টোনের ব্যথায় ছটফট করছিলাম, মমতা ব্যানার্জি আমায় ইনো খাইয়েছিলেন…’- মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে একি বললেন অভিনেত্রী দেবলীনা কুমার!

কথাগুলো একাধারে ব্যক্তিগত, আবার অনেকের মনের কথাও। অভিজ্ঞতা, অভিমান আর বাস্তবতা—সব মিলিয়ে যেন এক নিঃশব্দ আর্তনাদ।