‘একা থাকাই বড় শক্তি!’ ‘কর্মফলই শেষ কথা’!, শুটিং সেটে জীবনের পাঠ দিলেন বিশ্বরূপ, পল্লবী!

টেলিভিশনের পর্দায় (Bengali Television) প্রতিদিনকার সাংসারিক ড্রামা, কূটকচালি বা অতি-নাটকীয়তার ভিড়ে জি বাংলা (Zee Bangla) নিয়ে এসেছে এক ব্যতিক্রমী পরীক্ষামূলক প্রজেক্ট তারে ধরি ধরি মনে করি (Tare Dhori Dhori Mone Kori)। এই ধারাবাহিক কেবল বিনোদনের খোরাক জোগাচ্ছে না, বরং দর্শকদের ভাবিয়ে তুলছে জীবনের গভীর সত্যগুলো নিয়ে। সম্প্রতি এই ধারাবাহিকের শুটিং সেট থেকে একটি সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে ধারাবাহিকের প্রধান দুই চরিত্র দিতি এবং গোরার বাস্তব জীবনের আধ্যাত্মিক দর্শন, কর্মফল নিয়ে বিশ্বাস এবং প্রিয়জন হারানোর অভিজ্ঞতার কথা। দিতি চরিত্রে অভিনয় করছেন অভিনেত্রী পল্লবী শর্মা (Pallavi Sharma) ও গোরা চরিত্রে অভিনয় করছেন অভিনেতা বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় (Bishwarup Bandyopadhyay)।

গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে এই ধারাবাহিক ভক্তি এবং অন্ধবিশ্বাসের মাঝখানের সূক্ষ্ম রেখাটিকে তুলে ধরছে। অভিনেতা-অভিনেত্রীরা জানিয়েছেন, গল্পটি খুব এক্সপেরিমেন্টাল। একটি সিরিয়ালের মধ্যে তিনটি আলাদা গল্পের ধারা, কিংবা গল্পের শুরুতেই নায়িকার মৃত্যু এমন সাহসী পদক্ষেপ বাংলা সিরিয়ালে সচরাচর দেখা যায় না। বিশ্বরূপ জানিয়েছেন, টিআরপি বা প্রতিযোগিতার দৌড়ে শীর্ষে না থাকলেও, এই ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে যে বা মানসিক তৃপ্তি তারা পাচ্ছেন, তা অকল্পনীয়। পল্লবীর মতে, এই কাজ তাদের নিজেদেরও সমৃদ্ধ করছে।

সাক্ষাৎকারে আধ্যাত্মিকতার যে সংজ্ঞা তারা দিয়েছেন, তা বর্তমানে বেশ প্রাসঙ্গিক। বিশ্বরূপ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, সারাদিন লোকদেখানো পুজো-অর্চনা বা আচার-অনুষ্ঠান পালন করাই ভক্তি নয়। ভক্তি হলো অন্তরের শুচিতা। মনের মধ্যে পাপ রেখে বা মানুষের ক্ষতি করার ইচ্ছা নিয়ে যে পূজা, তা বৃথা। পল্লবী যোগ করেন, স্পিরিচুয়ালিটি বা আধ্যাত্মিকতা হলো নিজের মানসিক শান্তির খোঁজে নিজেকে কোনো এক উচ্চতর সত্তা বা ইউনিভার্সের কাছে সমর্পণ করা। তার মতে, ‘ধর্মীয় আচার হলো কেন করছি তা না জেনে নিয়ম মেনে যাওয়া, আর আধ্যাত্মিকতা হলো কাজের পেছনের কারণটা জেনে পজিটিভ থাকা।’

কর্মফল নিয়ে গভীর আলোচনা করেছেন দুই অভিনেতা। বিশ্বরূপের বিশ্বাস, কর্মক্ষেত্রে বা ব্যক্তিগত জীবনে অহেতুক পলিটিক্সে জড়িয়ে পড়া সময়ের অপচয়। তিনি বিশ্বাস করেন, কেউ অকারণে ক্ষতি করতে আসলে বা ‘কাঠি’ করলে তার জবাব দেওয়ার জন্য কর্মফলই যথেষ্ট। পল্লবী এই সুরেই বলেন, ভালো কাজ করলে ভালো ভাইব্রেশন বা ইতিবাচক শক্তি আপনার কাছে ফিরে আসবে, আর খারাপ কিছু করলে তার প্রভাব নিজেকেই ভোগ করতে হবে। তাই পলিটিক্স থেকে দূরে থেকে নিজের কাজ সততার সাথে করে যাওয়াই জীবনের নিয়ম হওয়া উচিত।

আলোচনার অন্যতম আবেগঘন অংশ ছিল পল্লবীর শেয়ার করা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। ছোটবেলায় বাবা-মাকে হারানোর পর তিনি খুব দ্রুত জীবনের কঠোর বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তার বিশ্বাস, মানুষ মূলত একাই আসে এবং একাই যায়। পল্লবী বলেন, ‘আমি খুব কম বয়স থেকে দেখেছি যে, সবাই যখন গ্রুপের মধ্যে থাকার জন্য সবার মন যুগিয়ে চলে, আমি সেটা করিনি। যারা একা ভালো থাকতে জানে, তারাই আসলে অন্য সবার সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে পারে।’ তার কাছে স্টারডমের চেয়ে নিজের শান্তি বজায় রাখা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।