‘শ্রাবন্তী আমার গড মাদার’— অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়কে মা সম্বোধন! অভিনেত্রীর কাছে চির কৃতজ্ঞ বিশ্বনাথ বসু!

টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে এমন কিছু মুখ আছে, যারা শুধু অভিনয় নয়, তাদের সাদামাটা সরলতায়ও মন কেড়েছে দর্শকের। ঠিক তেমনই একজন বিশ্বনাথ বসু। সিনেমা হোক বা টেলিভিশন, ছোট কিংবা বড় পর্দা—সবখানেই নিজের অসামান্য অভিনয়ে নজর কেড়েছেন তিনি। কৌতুক অভিনেতা হিসেবে আলাদা করে চেনা গেলেও, নেগেটিভ-পজেটিভ সব ধরনের চরিত্রে দক্ষতার সঙ্গে অভিনয় করেছেন তিনি।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের অভিনয় জীবন এবং অভিজ্ঞতার কথা খুব খোলাখুলিভাবে শেয়ার করলেন বিশ্বনাথ। জানালেন, তার চেহারা কোনদিনই তথাকথিত ‘নায়কসুলভ’ ছিল না। নিজে মুখেই স্বীকার করলেন, “আমার কি আছে, একেতো এরকম একটা চেহারা! আমার থেকে লোকে পজিটিভ কী নেবে?” শুনে যেন একটু হেসে ফেলতে হয়, আবার ভাবতেও হয়—এতটা খোলামেলা কথা বলার সাহস খুব কম মানুষই রাখে।

তবে তিনি কৃতজ্ঞ তাঁদের প্রতি, যারা তার এই চেহারার বাইরেটা দেখতে পেরেছেন—অর্থাৎ তার অভিনয়। যেমন শ্রাবন্তী। বিশ্বনাথ নিজেই বলেন, ‘‘শ্রাবন্তী কিন্তু আমার গডমাদার। একসময় ‘পুলিশ ফাইল’ চলতো টিভিতে। সেই সময় শ্রাবন্তী নিজে গিয়ে রাজীব দা (অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর) কে বলেছিলেন—এই দাদাটাকে অভিনয়ে নিতে পারো, খুব ভালো অভিনয় করে। তখন আমি ‘পূর্ব-পশ্চিম’ সিরিয়ালে কাজ করতাম।’’

বিশ্বনাথ আরও নাম করেন রণিদার (সম্ভবত রণজিত মল্লিক)। বলেন, ‘‘রণিদাও অনেকের কাছে বলেছেন, আমি খুব ভালো পাঠ করি—আমাকে কাজ দিতে পারেন। চাইলে খারাপ ব্যবহার করতে পারতেন, সরিয়েও দিতে পারতেন। কিন্তু সেটা করেননি।’’

এভাবেই নিজের স্ট্রাগল, তার পথচলার পিছনের মানুষগুলোর কথা অকপটে বললেন অভিনেতা। বললেন, ‘‘আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে এখনও ভালো মানুষ আছে। যেমন টোটা রায়চৌধুরী। ও এমন একজন মানুষ যে কারোর ক্ষতি চাইতে পারে না, কারোর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতেই পারে না।’’

আরও পড়ুনঃ শুভর ফাঁদে ফেঁসে গেল মোহনা! দময়ন্তী নিজেই ফাঁস করল সব গোপন রহস্য!

বিশ্বনাথের মুখে এসব কথা শুনে বোঝা যায়, জনপ্রিয়তা পেলেও তিনি আজও পা মাটিতে রেখেই হাঁটেন। নিজের সীমাবদ্ধতা, স্ট্রাগল—সবকিছু নিয়ে গর্ব করেই কথা বলেন। আর হয়তো এই সৎ এবং সহজ মানসিকতাই তাকে আরও বেশি কাছের করে তোলে দর্শকের কাছে।