“চণ্ডালিকা”য় হিন্দি গান! দেবলীনার পরিবেশনা ঘিরে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক—বেফাঁস মন্তব্যে উত্তাল টলিপাড়া!

টলিপাড়ায় এই মুহূর্তে তুমুল আলোচনা—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চণ্ডালিকা’ নৃত্যনাট্যে হিন্দি সিনেমার গান! ভাবতে পারেন? ‘ডান্স বাংলা ডান্স’-এর মঞ্চে সম্প্রতি এমনই এক পরিবেশনা দেখে তোলপাড় হয়ে গিয়েছে দর্শকমহল থেকে সংস্কৃতিপ্রেমী মহল পর্যন্ত।

ঘটনার সূত্রপাত ডান্স বাংলা ডান্স-এর বিশেষ একটি পর্বে। সেখানে প্রতিযোগী অনুষ্কার সঙ্গে দেবলীনা দত্ত পরিবেশন করেন ‘চণ্ডালিকা’র গল্প—দেবলীনা নিজে ছিলেন আনন্দের ভূমিকায়। অভিনয়, সাজসজ্জা, নাচ—সব মিলিয়ে চমৎকার! দেবলীনার গেরুয়া বসন আর বৌদ্ধ সন্ন্যাসীর রূপ দেখেও অনেকেই মুগ্ধ।

কিন্তু… বিপত্তি বাধে গানের জায়গায়। হঠাৎ করেই বাজতে শুরু করে ৭০-এর দশকের জনপ্রিয় হিন্দি গান, ‘আঁধি’ সিনেমার সেই বিখ্যাত ট্র্যাক! ব্যস, এখানেই যেন ছন্দপতন। দর্শকের একাংশ তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়ে—রবীন্দ্রনাথের নৃত্যনাট্যে হিন্দি গান কেন?

বিশিষ্ট অভিনেত্রী মালবিকা সেন এই মেলবন্ধনকে সরাসরি অপসংস্কৃতির প্রবেশ বলে দাগিয়ে দিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট কথা—”রবীন্দ্রনাথ আমাদের সংস্কৃতির শিকড়। সেখানে হিন্দি গানের অনুপ্রবেশ মানা যায় না। এটা একটা সাংস্কৃতিক অপমান!”

অভিনেত্রী মানসী সিনহাও ক্ষুব্ধ। তাঁর মতে, “ফিউশন করা যেতেই পারে, কিন্তু তার মানে তো রবীন্দ্রনাথের ভাবনা বিকৃত করে দেওয়া নয়! বাঙালি যদি নিজের ঐতিহ্য ভুলে যায়, তাহলে এই সবই হয়।”

এইসব কড়া সমালোচনার মাঝেই মুখ খুলেছেন দেবলীনা দত্ত। তাঁর দাবি, “চণ্ডালিকা আমি বহুবার মঞ্চস্থ করেছি। এই নাটক আমার হৃদয়ের খুব কাছের। রবীন্দ্রনাথ নিজেই তো বহুকাল আগে থেকেই ইউরোপীয়, উর্দু, পারসি, স্কটিশ সাহিত্যে প্রভাবিত ছিলেন। তাহলে আজ হিন্দি গান শুনলেই আপত্তি কেন?”

দেবলীনার মতে, চণ্ডালিকা-আনন্দের সম্পর্ক প্রেমের, মুক্তির নয়। তাই সেই প্রেমের রসায়নকে তুলে ধরতেই ‘আঁধি’ সিনেমার গানের প্রয়োগ।

এখানেই থামেননি দেবলীনা। বিতর্কে ইন্ধন জোগায় পরিবেশনার একটি বিশেষ দৃশ্য, যেখানে চণ্ডালিকার মাথায় জল ঢেলে দেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে সেই দৃশ্য কেটে আলাদা করে ভাইরাল করেন, ব্যঙ্গ করেন। দেবলীনার প্রতিক্রিয়া? “জল ঢালার মুহূর্তটা ছিল আত্মার শুদ্ধিকরণের প্রতীক। পুরো প্রেক্ষাপট না জেনে শুধু একটি দৃশ্যকে নিয়ে এমন বিদ্রুপ, এটা ঠিক নয়।”

এই বিতর্কের মধ্যেই বাংলার সংস্কৃতি ও রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে আবারও প্রমাণ হয়ে গেল—এই আবেগ, এই শ্রদ্ধা, আজও অটুট। কিন্তু প্রশ্ন উঠছেই—নতুন প্রজন্ম কি রবীন্দ্রনাথকে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ পাবে? নাকি যেকোনও পরীক্ষাই ‘অপমান’ বলে দেগে দেওয়া হবে?

আরও পড়ুনঃ ‘শুভ বিবাহ’-র পর এবার নতুন রূপে জুঁই সরকার! ফিরছেন ইতিবাচক চরিত্রে! কোন ধারাবাহিকে অভিনেত্রী?

এই বিতর্কের শেষ কোথায়, এখনই বলা মুশকিল। তবে একটা জিনিস স্পষ্ট—রবীন্দ্রনাথ এখনো শুধু ইতিহাসের পাতা নন, তিনি বাংলা মননের এক জীবন্ত অংশ। আর সেই জায়গায় যে কোনও ‘ফিউশন’-ই আজও ভয়াবহ স্পর্শকাতর!