বাংলা টেলিভিশন (Bengali Television) জগতের বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় এবং প্রতিভাবান অভিনেতা হলেন দিব্যজ্যোতি দত্ত (Dibyojyoti Dutta)। মূলত সাবলীল অভিনয় এবং মিষ্টি হাসির মাধ্যমে তিনি খুব অল্প সময়েই দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। দিব্যজ্যোতির অভিনয় জীবনের শুরুটা হয়েছিল বেশ চমকপ্রদভাবে। জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘জয়ী’-র মাধ্যমে তিনি টেলিভিশনের পর্দায় অভিষেক করেন। প্রথম কাজেই তিনি তাঁর অভিনয় দক্ষতার প্রমাণ দেন এবং ঘরে ঘরে পরিচিতি লাভ করেন। এরপর তাঁকে দেখা যায় ‘চুনি পান্না’ ধারাবাহিকে।
তবে দিব্যজ্যোতির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় মোড় বা মাইলফলক হলো স্টার জলসার মেগা সিরিয়াল ‘অনুরাগের ছোঁয়া’। এই ধারাবাহিকে ডা. সূর্য সেনগুপ্তের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি জনপ্রিয়তার তুঙ্গে পৌঁছান। ধারাবাহিকে সূর্য ও দীপার রসায়ন তাঁর আবেগঘন অভিনয় তাঁকে বাংলা ছোট পর্দার প্রথম সারির অভিনেতাদের তালিকায় তুলে এনেছে। দীর্ঘ সময় ধরে এই ধারাবাহিকটি টিআরপি তালিকায় শীর্ষস্থানে ছিল।
সম্প্রতি দিব্যজ্যোতি একটি সাক্ষাৎকারে সিরিয়াল এবং সিনেমায় অভিনয়ের পার্থক্য নিয়ে নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন। তাঁর মতে, অভিনয়ের মাধ্যম হিসেবে সিনেমা এবং সিরিয়াল একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে, যেখানে সিরিয়ালের কাজের চাপ অনেক বেশি। মেগা সিরিয়ালে অভিনয় করা সিনেমার তুলনায় অনেক বেশি কঠিন। এর প্রধান কারণ হিসেবে তিনি সময়ের অভাব এবং তাৎক্ষণিক প্রস্তুতি।
সিরিয়ালের ক্ষেত্রে অভিনেতা-অভিনেত্রীরা যেদিনের শুটিং, ঠিক সেদিনই হাতের কাছে স্ক্রিপ্ট পান। ফলে একটি চরিত্রকে বুঝে নেওয়া, তার সংলাপের গভীরতা অনুভব করা বা অভিনয়ের সূক্ষ্ম কারুকাজ নিয়ে ভাবার মতো পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায় না। দিব্যজ্যোতির কথায়, ওই অল্প সময়ের মধ্যেই সংলাপ মুখস্থ করে ক্যামেরার সামনে নিখুঁত আবেগ ফুটিয়ে তুলতে হয়, যা একজন শিল্পীর জন্য অত্যন্ত মানসিক চাপের। সিনেমার ক্ষেত্রে একজন অভিনেতা অন্তত দু-তিন মাস আগে থেকেই পুরো স্ক্রিপ্ট হাতে পেয়ে যান। সেখানে চরিত্রটির চলন-বলন এবং সংলাপ নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে কাটাছেঁড়া করার সুযোগ থাকে। ফলে চরিত্রটি অভিনেতার সত্তার সঙ্গে মিশে যাওয়ার অবকাশ পায়।
আরও পড়ুনঃ ‘আমি মনে করি সোশ্যাল মিডিয়াও একটা পারফর্ম করার জায়গা!’ সমাজমাধ্যমে নিজের পোস্ট নিয়ে মুখ খুললেন ঋত্বিক চক্রবর্তী!
টেলিভিশনের ক্ষেত্রে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ডেডলাইন। যে এপিসোডের স্ক্রিপ্ট সেদিন পাওয়া যায়, তা সেদিনই শুট করে চ্যানেলে পাঠানোর তাড়াহুড়ো থাকে। এই নিরন্তর চাপের মধ্যে থেকেও প্রতিদিন দর্শকদের মন জয় করার মতো কাজ উপহার দেওয়া যে কতটা কঠিন, তা একমাত্র সিরিয়ালের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরাই উপলব্ধি করতে পারেন। অভিনেতা বলেন, ‘যারা প্রতিদিন সিরিয়াল করেন, কেবল তারাই জানেন এই প্রেসারটা ঠিক কী রকম।’ সম্প্রতি বাংলা টেলিভিশনের গণ্ডি ছাড়িয়ে বড় পর্দায় ডেবিউ করেছেন দিব্যজ্যোতি, তাই তিনি দুইয়ের পার্থক্য বুঝতে পেরেছেন।





