বাংলা ধারাবাহিকে প্রায় ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিজের জায়গা পাকা করেছেন রীতা দত্ত চক্রবর্তী। ছোটবেলায় বাড়ির কড়াকড়ির জন্য অভিনয় করা সম্ভব হয়নি, কিন্তু থিয়েটারের প্রতি তাঁর আগ্রহ থামেনি কখনও। যাদবপুরে পড়তে এসে স্বাধীনতা পান, বাদল সরকারের ওয়ার্কশপ করেন, কলেজে নাটক প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। বন্ধুদের সূত্রে রেডিয়োতে অভিনয়ের সুযোগ, তারপর তৃপ্তি মিত্রের কাছে প্রথাগত নাটকের শিক্ষা। এক সময় তো ওঁর বাড়িতেই থাকতেন রীতা।
প্রথম ধারাবাহিকে সুযোগ পান ‘সুবর্ণলতা’র পরিচালক রাজা সেনের হাত ধরে। তারপর থেমে থাকেননি, তবে মুখ ফুটে কাজ চাওয়াটা তাঁর স্বভাব নয়।
বাংলা ভাষা আর বানানের প্রতি কড়া নজর
রীতার কাছে ভাষা খুব গুরুত্বপূর্ণ। বানান ভুল হলে উচ্চারণও নষ্ট হয়, তাই নতুনদের সঠিক উচ্চারণ শেখানো তাঁর কাছে দায়িত্বের মতো। ইংরেজি মেশানো সংলাপের বাড়বাড়ন্তও তাঁকে ভাবায়। টিভি, তাঁর মতে, মানুষের ঘরে ঘরে সঠিক ভাষা পৌঁছে দেওয়ার বড় মাধ্যম হতে পারত।
নতুন প্রজন্মের কথাবার্তা আর সাজপোশাক
আজকের অভিনেতাদের মধ্যে অশ্লীল শব্দ ব্যবহার অনেক বেশি দেখেন রীতা। সাজগোজে ফ্যাশন আছে, কিন্তু স্টাইলের অভাব—এমনটাই মনে করেন তিনি। নিজের সময়ে কখনও ভাড়া করা পোশাক পরতে হয়নি তাঁর।
সোশ্যাল মিডিয়ায় আড়ালে
রীতা প্রচারবিমুখ। সামাজিক মাধ্যমে খুব বেশি সক্রিয় নন। প্রচারের চেয়ে তিনি অভিনয়ের গভীরতায় মন দেন। অনেকেই তাঁকে নাকউঁচু ভাবলেও, আসলে তিনি শুধু নিজের মতো থাকতে পছন্দ করেন।
ম্যানেজার রাখেননি, মাচা করেননি
রীতার মতে, ধারাবাহিকই অনেকের জীবিকার ভরসা। সিনেমায় সময় থাকে, কিন্তু ধারাবাহিকে থাকে না—সবই টিআরপি কেন্দ্রিক। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় এখন ধারাবাহিকের কাজ তাঁর কাছে সহজ হয়ে গেছে। তবে তিনি কখনও মাচা করেননি, ম্যানেজারও রাখেননি।
মেগাসিরিয়াল নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য
লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে বহু কাজ করেছেন রীতা। তাঁর মতে, মেগাসিরিয়াল এখন একেবারে ফ্যাক্টরি—প্রতিদিন মাল জোগান দিতে হয়। তাই বড় শৈল্পিক কাজ করার সুযোগ মেলে না।
আরও পড়ুনঃ ‘আমরা দুজনেই বেস্ট’ ঝড় থেমে ফিরল শান্তি, জিতু-দিতিপ্রিয়ার মনোমালিন্যের অবসান
অভিমান, আক্ষেপ আর শেখা
ক্যারিয়ারে কখনও ছবি থেকে বাদ পড়েছেন, কখনও চরিত্র কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবুও থিয়েটারের শিক্ষা তাঁকে মানিয়ে নিতে শিখিয়েছে। আক্ষেপ শুধু, আরও ভাষা শেখা হয়নি, গান-নাচে হাতেখড়ি হয়নি। তবে যেটুকু শিখেছেন, সেটা জীবনের বড় সম্পদ। রীতা দত্ত চক্রবর্তী আজও মনে করেন—অভিনয় শুধু পেশা নয়, এটা এক ধরনের দায়িত্ব। আর সেই দায়িত্বে তিনি কখনও অসৎ হতে চান না।8





