‘ইন্ডাস্ট্রি এখন আর পরিবার নেই, বদলে গেছে কাজের পরিবেশ!’ টলিউডের বিবর্তন নিয়ে আক্ষেপ হরনাথ চক্রবর্তীর!

টলিউড (Tollywood) ইন্ডাস্ট্রির এক বর্ণময় অধ্যায় পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তী (Haranath Chakraborty)। নব্বইয়ের দশকের ব্লকবাস্টার সব সিনেমা উপহার দেওয়ার পর এবার তিনি পা রাখছেন ওটিটির ডিজিটাল দুনিয়ায়। নতুন ওয়েব সিরিজ ‘ইচ্ছে পূরণ’-এর মুক্তি উপলক্ষে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি খোলামেলা আলোচনা করলেন সিরিজের গল্প এবং টলিউড ইন্ডাস্ট্রির বিবর্তন নিয়ে। ১০ই এপ্রিল থেকে ‘প্ল্যাটফর্ম এইট’-এ স্ট্রিমিং শুরু হয়েছে এই নতুন সিরিজের, যা ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।

‘ইচ্ছে পূরণ’ সিরিজের মূল গল্প আবর্তিত হয়েছে এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের স্বপ্ন এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে কেন্দ্র করে। সিরিজের কেন্দ্রীয় চরিত্র দেবরাজ ভট্টাচার্য একজন ইনস্যুরেন্স এজেন্ট, যার জীবনে প্রতি পদে বাধা এবং আর্থিক টানাপোড়েন বর্তমান। তার স্ত্রী অপর্ণার চরিত্রে অভিনয় করেছেন ঈশানী সেনগুপ্ত। একটি সুন্দর ফ্ল্যাট, গাড়ি বা সন্তানের জন্য ভালো জীবন—এই সাধারণ ইচ্ছেগুলোই যখন পূরণ হতে শুরু করে, তখন জীবনের সমীকরণ কীভাবে বদলে যায়, তা-ই ফুটিয়ে তুলেছেন পরিচালক। গল্পে একটি রহস্যময় নীল পাথরের উপস্থিতিও রয়েছে, যা সিরিজের মোড় ঘুরিয়ে দেয় নাটকীয়ভাবে।

ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পরিচালক বেশ কিছুটা নস্টালজিক হয়ে পড়েন। তাঁর মতে, আগে টলিউড ছিল একটি একান্নবর্তী পরিবারের মতো। স্টুডিওর মেকআপ ম্যান থেকে শুরু করে প্রোডাকশন অ্যাসিস্ট্যান্ট সবাইকে পরিচালক নাম ধরে চিনতেন এবং সবার মধ্যে এক গভীর আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে টেকনিশিয়ানের সংখ্যা বাড়লেও সেই পুরনো আন্তরিকতা বা ফ্যামিলি বন্ডিং অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে। কাজের পরিবেশের এই যান্ত্রিক পরিবর্তন তাঁকে কিছুটা ব্যথিত করে।

হরনাথ চক্রবর্তীর মতে, বাংলা ওটিটি কন্টেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে অন্যতম বড় বাধা হলো সীমিত বাজেট। বলিউড বা দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রির তুলনায় টলিউডের বাজেট অনেকটাই কম হওয়ায় অনেক সময় ইচ্ছে থাকলেও উন্নতমানের প্রযুক্তি বা আভিজাত্য পর্দায় ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হয় না। তবে তিনি মনে করেন, ভালো গল্পের কোনো বিকল্প নেই। কন্টেন্ট যদি টানটান এবং বাস্তবধর্মী হয়, তবে মানুষ তা অবশ্যই গ্রহণ করবে। ‘ইচ্ছে পূরণ’ সিরিজটি নির্মাণের ক্ষেত্রেও তিনি চিত্রনাট্য এবং অভিনয়ের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন যাতে দর্শকরা নিজেদের জীবনের প্রতিফলন খুঁজে পান।

পরিচালনা শৈলীর ক্ষেত্রে হরনাথ চক্রবর্তী এখনও তাঁর পুরনো ঘরানাকেই আঁকড়ে থাকতে পছন্দ করেন। আধুনিক যুগের ডিজিটাল মনিটরের চেয়ে তিনি সরাসরি ক্যামেরার লেন্স দিয়ে অভিনেতাদের পারফরম্যান্স দেখা বেশি উপভোগ করেন। তিনি জানান, শুটিং চলাকালীন সময় অপচয় করতে তিনি একদমই পছন্দ করেন না এবং শিল্পীদের থেকে সেরাটা বের করে নিতে সর্বদা সচেষ্ট থাকেন। তাঁর বিশ্বাস, পহেলা বৈশাখের এই মরসুমে ‘ইচ্ছে পূরণ’ সাধারণ মানুষের মনের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে স্পর্শ করবে এবং টলিউডের ওটিটি যাত্রায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।