অভিনেত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজ এবং কাঞ্চন মল্লিকের মেয়ে কৃষভি যেন রাতারাতি হয়ে উঠেছে নেটদুনিয়ার নতুন কৌতূহলের বিষয়। প্রতিদিন ছবির প্রচারের জন্য সেজেগুজে বেরোতে হচ্ছে বাবা-মাকে, আর সেই সময়ে একরত্তি মেয়েটির মন খারাপ হয়ে যাচ্ছে। বয়স অল্প হলেও কৃষভি এখনই একটু একটু করে সব বুঝতে শিখছে, কথা বলতেও শুরু করেছে। এই সময়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে তার ভিডিয়ো, আর শুরু হয়েছে এক অদ্ভুত বিতর্ক—সে নাকি পুরো কাঞ্চনের ‘কপি’।
কৃষভিকে দেখে বহু মানুষ একবাক্যে বলছেন, ‘ছোট কাঞ্চন’। কারও মন্তব্য, সে যেন ‘কাঞ্চন লাইট’। কেউ লিখেছেন, তার ঠোঁট, কান সবটাই বাবার মতো। এমনকি নির্দোষ শিশুকেও ছেড়ে কথা বলেননি অনেকে। কটু মন্তব্যের বন্যায় কার্যত ডুবে যাচ্ছে শ্রীময়ী ও কাঞ্চনের মেয়ের ভিডিয়ো। প্রশ্ন উঠছে, এক বছরেরও কম বয়সী শিশুকে নিয়েও কি এভাবে খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ চলতে পারে? সত্যিই কি এটাই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন বিনোদন?
শ্রীময়ী অবশ্য সবকিছু নিয়ে অবাকই হচ্ছেন। তাঁর কথায়, বাচ্চাদের ঠিক কেমন দেখতে, সেটা নাকি মা হিসেবে তিনি বোঝেন না। তবে মানছেন, কৃষভির কান নাকি হুবহু বাবার মতো। এতেই থেমে থাকেননি তিনি, কটু মন্তব্যকারীদের উদ্দেশে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—“যাঁরা খারাপ কথা লিখছেন তাঁদের ছাড়ব না।” কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেবলই কি সাদৃশ্য খোঁজার নামে এভাবে এক নিরপরাধ শিশুকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঠাট্টা-মশকরা করা উচিত?
বিতর্কের এখানেই শেষ নয়। অনেকেই বলছেন, মা হিসেবে শ্রীময়ীকে হয়তো আরও দৃঢ় হতে হবে, কারণ যত দিন যাবে ততই এই তুলনা বাড়বে। নেটিজেনদের কেউ কেউ মনে করছেন, বাবা-মা নিজেরাই শিশুকে আলোচনার কেন্দ্রে টেনে আনছেন। আবার অনেকে বলছেন, জনমানুষের সন্তান হলে এ ধরনের মন্তব্য এড়ানো সম্ভব নয়। ফলে একরত্তি কৃষভি জন্মের পর থেকেই যেন একটা অযাচিত আলোচনার শিকার।
আরও পড়ুনঃ স্বাভাবিক মৃ’ত্যু! নাকি এর মধ্যে আছে অন্য কোন রহস্য? জুবিন গর্গের আকস্মিক মৃ’ত্যুতে ঘনিয়ে আসছে সন্দেহের ছায়া!
তবুও শ্রীময়ী নেতিবাচকতা এড়িয়ে উৎসবের পরিকল্পনা করে ফেলেছেন। মেয়ে আর পরিবারকে নিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই পুজোয় ঠাকুর দেখতে বেরোনোর প্ল্যান করেছেন। তাতে অবশ্য সমালোচকদের কটাক্ষ থামবে না, বরং আরও নতুন উপকরণ পাবে। প্রশ্ন একটাই থেকে যায়—মা-বাবার খ্যাতির দায় কি এভাবেই বইতে হবে শিশুদের? নাকি আমাদের সমাজই এতটাই নির্মম হয়ে উঠেছে যে, শিশুদের মুখও ট্রোল থেকে রেহাই পায় না?





