গর্ভাবস্থায় মায়ের উপর চরম অত্যাচার! অনেক কষ্টে ভূমিষ্ঠ হন কুমার শানু!

কুমার শানুর নাম শুনলেই মাথায় আসে রোম্যান্টিক গান, মিষ্টি সুর, বলিউডের সোনালি সময়ের এক আইকন। কিন্তু মঞ্চের আলো আর জনপ্রিয়তার আড়ালে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে নাকি চলেছে অন্ধকার অধ্যায়। সেই অন্ধকারের কথাই এবার বিস্ফোরক দাবি করলেন তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী রীতা ভট্টাচার্য। তিনি এমন সব অভিযোগ এনেছেন যা শুনে হতবাক ভক্তরা।

রীতার দাবি, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তাঁকে খেতে পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, তাঁকে মানসিক এবং শারীরিকভাবে নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছিল। এক সাক্ষাৎকারে রীতা বলেন, তৃতীয়বার মা হওয়ার সময় তিনি সবচেয়ে বেশি দুর্দশার মধ্যে পড়েন। তখনই জন্ম হয় জান কুমার শানুর। অথচ সেই সময়ই তাঁর ওপর চলত নানা বিধিনিষেধ। বিউটি পার্লারে যাওয়া নিষেধ, সাজগোজ করা বা বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা নিষিদ্ধ। যেন একজন গৃহবন্দি বন্দীর মতো কাটত তাঁর সময়।

কিন্তু এখানেই শেষ নয়। রীতার কথায়, রান্নাঘরে পর্যন্ত তালা দিয়ে রাখা হত। বাড়ির লোকেরা বাইরে গেলে রান্নাঘরে তালা ঝুলিয়ে যেত। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় এক থালা ভাত খাওয়ার জন্য তাঁকে বৌদির কাছে যেতে হত। এমনকি, নিজেই চুপিচুপি চাল কিনে রেখে বৌদির রান্নাঘরে রান্না করে খেতেন। এই অবস্থায় শরীর খারাপ হওয়াটা তো স্বাভাবিকই। রীতা স্পষ্ট বলেন, “জান যখন আমার গর্ভে, তখন ঠিক মতো খেতে পর্যন্ত পাইনি। অসুস্থ হয়ে পড়তাম বারবার।”

এখানে প্রশ্ন উঠছে—এত বড় মাপের একজন শিল্পী, যিনি কোটি কোটি টাকা উপার্জন করতেন, তাঁর বাড়িতে কি এমন অমানবিক পরিস্থিতি চলত? নাকি এর পেছনে ছিল অন্য কোনও টানাপোড়েন? রীতার দাবি আরও ভয়ঙ্কর। তিনি বলেন, যখন তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন, তখন শানুর এক বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক চলছিল। সেই সম্পর্ক সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে কুনিকা সদানন্দের মুখে। অথচ সেই সময় আদালতে টেনে নেওয়া হয়েছিল তাঁকে। বয়স কম থাকায় পুরো বিষয়টা সামলাতে পারেননি তিনি। মনে হয়েছিল, যেন পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাচ্ছে।

অবশ্য সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শানুর জীবনে পাল্টে যায় অনেক কিছু। ১৯৯০ সালে ‘আশিকি’ ছবির গান মুক্তি পাওয়ার পর একেবারে অন্য উচ্চতায় পৌঁছে যান তিনি। রাতারাতি বলিউডের সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন গায়ক হয়ে ওঠেন। রীতার কথায়, সাফল্য পাওয়ার পর থেকেই বদলে যায় শানুর ব্যবহার। জনপ্রিয়তার নেশা, অর্থের ঝলকানি আর বাইরে সম্পর্ক—সব মিলিয়ে সংসার একেবারে ভেঙে পড়ে।

এই অভিযোগগুলি যে শুধু রীতার ব্যক্তিগত ক্ষোভ নয়, তার প্রমাণ মেলে জান কুমার শানুর মন্তব্যেও। ‘বিগ বস’-এর ঘরে বসে তিনি জানিয়েছিলেন, বাবার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক খুব একটা ভালো নয়। জনসমক্ষে একাধিকবার এই সম্পর্কের তিক্ততার ইঙ্গিত দিয়েছেন জান।

প্রশ্ন হল, এত বছর পর কেন আবার মুখ খুললেন রীতা? এর উত্তর হয়তো লুকিয়ে আছে অপমান আর কষ্টের সেই দিনগুলোর মধ্যে। তিনি স্পষ্ট বলেন, “আমার খুব অল্প বয়স ছিল। তখনই ওর অন্য সম্পর্কের কথা জানতে পারি। পরিবারও অবাক হয়ে গিয়েছিল। অথচ এক বছর আগে এক পার্টিতে ও নিজেই বলল, আমার অবদান নাকি ওর সাফল্যের নেপথ্যে।”

১৯৮৪ সালে রীতা ও কুমার শানুর বিয়ে হয়েছিল। তিন সন্তানের জন্ম হয় সেই সংসারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১৯৯৪ সালে ভেঙে যায় তাঁদের সম্পর্ক। দুই দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আজও রীতার মনে দগদগে সেই ক্ষত।

শিল্পীর ভক্তরা হয়তো এখনও তাঁর কণ্ঠে হারিয়ে যান, কিন্তু এই অভিযোগ সামনে আসার পর প্রশ্নটা থেকেই যায়—গান যতই মধুর হোক, গায়ক কি সত্যিই এত নির্মম হতে পারেন?