অর্থই সব! অন্তত অভিনেত্রী মানসী সেনগুপ্তর ছ’মাসের ছেলেকে দেখে তো তাই মনে হচ্ছে। রবিবার ছেলের অন্নপ্রাশনে ঘটে গেল অদ্ভুত এক কাণ্ড। বারবার কলম ধরাতে চেয়েও ব্যর্থ হলেন মানসী। ছোট্ট অধ্যায় যেন স্পষ্ট জানিয়ে দিল, ওর পছন্দ অন্য কিছু। কলমের বদলে একরত্তি পাঁচ-পাঁচ বার টাকা তুলে নিল! প্রথমে হাসি, তারপর হালকা হতাশা—দুই অনুভূতিই মিশে গেল মানসীর মুখে। নিজেই বললেন, “অর্থই সব। ছেলে বুঝে গিয়েছে!”
কিন্তু কথা হচ্ছে, এত ছোট্ট একটা শিশু কি সত্যিই টাকার টান বুঝতে পারে? নাকি পুরো ব্যাপারটাই এক ধরনের সামাজিক মজা, যা আমরা বড়রা চাপিয়ে দিই? মানসীর আক্ষেপ, তিনি ভেবেছিলেন ছেলে কলম ধরবে। হয়তো মায়ের ইচ্ছে ছিল, ছেলের ভবিষ্যতে পড়াশোনা কিংবা জ্ঞানের ঝলক। কিন্তু বাস্তবে ছোট্ট হাতে ধরা পড়ল টাকা। সোজাসুজি স্বীকারও করলেন মানসী, “খুব আশা করেছিলাম কলম ধরবে, কিন্তু কিছুতেই ধরল না।” সঙ্গে আবার নিজেকেই সান্ত্বনা দিলেন, পড়াশোনা না শিখলেও ক্ষতি নেই, মানুষ যেন ভালো হয়।
অন্নপ্রাশনের আসরও কম বিতর্ক তৈরি করেনি। মানসীর ভাষায়, এটা নাকি ছেলের ‘হাফ বিয়ে’। হলুদ পাঞ্জাবি, ধুতি আর টোপর পরে সাজানো হয়েছিল অধ্যায়কে। আত্মীয়-বন্ধুর ভিড়ে একটু ঘাবড়ে গেলেও, অনুষ্ঠান চলল যথাযথ নিয়মে—গায়ে হলুদ থেকে নান্দীমুখ সবকিছু। মজার ছলে মানসী আবার বলেও ফেললেন, “বাকি অর্ধেক বিয়ের জন্য পাত্রী আপনারাই দেখে দেবেন। একদিনেই হাঁপিয়ে গিয়েছি।” এ কথাতেই শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। ছ’মাসের বাচ্চার অন্নপ্রাশনকে ‘হাফ বিয়ে’ বলাটা কি আদৌ মানায়? নাকি এ-ও এক ধরনের সস্তা আলোচনার খোরাক?
সকালের অনুষ্ঠানেই হাজির ছিলেন ছোটপর্দার একঝাঁক বন্ধু-অভিনেতা। খাবারের আয়োজন ছিল জমজমাট—কাবাব, কফি দিয়ে শুরু, পোলাও, ইলিশ থেকে পাঁঠার মাংস সবই থাকল মেনুতে। গ্ল্যামার দুনিয়ার আড্ডা আর খাওয়া-দাওয়ায় জমজমাট হয়ে উঠেছিল সেনগুপ্ত বাড়ি। তবে এর মাঝেই থেকে গেল আসল প্রশ্ন—অধ্যায় বড় হয়ে কী হবে? অভিনয়ে আসবে, নাকি অন্য কিছু? মানসীর ইচ্ছে, ছেলে ক্রিকেট খেলুক। কিন্তু দর্শকরা বলছেন, ছোট্ট অধ্যায়ের টাকার প্রতি আগ্রহ হয়তো ভবিষ্যতের দিকটাই ইঙ্গিত করছে!
আরও পড়ুনঃ ‘কাঞ্চন আমার সাপোর্ট করে না…’- স্বামীর পাশে না থাকা নিয়ে জমেছে একরাশ অভিমান! মুখ খুললেন শ্রীময়ী চট্টরাজ!
সব মিলিয়ে একটা অন্নপ্রাশন ঘিরে তৈরি হল বিতর্ক, কৌতূহল আর কিছুটা প্রশ্নও। কলম ছেড়ে টাকা ধরা কি নিছক কাকতালীয়, নাকি এই প্রজন্মের ভেতরেই গেঁথে আছে অর্থের গুরুত্ব? মানসী হয়তো রসিকতা করে কথাটা বলেছিলেন, কিন্তু তার মধ্যেই কি লুকিয়ে নেই সমাজের বাস্তব? যতই বলি মানুষ ভালো হোক, তবু কি টাকা না থাকলে জীবন চলে? প্রশ্নটা থেকেই যায়।





