নতুন বছর মানেই অনেকের কাছে নতুন রেজোলিউশন, নিজেকে বদলে ফেলার পরিকল্পনা। তবে মিমি চক্রবর্তীর ভাবনাটা একটু আলাদা। তিনি স্পষ্ট জানালেন, এখন অনেকটাই ডিপ্লোম্যাটিক হয়ে উঠলেও মুখের উপর সত্যি বলার অভ্যাসটা বদলাতে চান না। রেজোলিউশন নেওয়ায় বিশ্বাসী নন তিনি, কারণ তা রাখতে পারবেন না ভেবেই শুরুতেই এড়িয়ে যান। তবে প্রতি বছর একটা ভাবনা নিয়েই এগোন তিনি। জীবনে অনেক কিছু পেয়েছেন বলে মনে করেন মিমি, তাই নিজের কাজের মাধ্যমে সমাজকে কিছু ফিরিয়ে দেওয়াই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।
সম্প্রতি ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’ ছবির শুটিং চলাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন অভিনেত্রী। শুটিংয়ের মাঝেই তাঁর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে তিন দিন ধরে হল্টার মনিটর লাগিয়ে কাজ করতে হয়েছিল। সঙ্গে ছিল ব্লাড প্রেসারের সমস্যাও। তবুও শুটিং থামাননি মিমি। সমস্ত কিছুর শেষে যখন সব ঠিকঠাকভাবে মিটেছে, সেটাকেই শান্তির বলে মনে করছেন তিনি। শুটিং সেটের নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও কাজের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা আবারও চোখে পড়েছে।
এই ছবির শুটিংয়ের সময় জোঁক ধরার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেই অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে মিমি বলেন, তিনি নিজেও জোঁকের কবলে পড়েছিলেন, কিন্তু একেবারেই ভয় পাননি। কারণ কোনও জীবন্ত প্রাণীর প্রতিই তাঁর ভয় নেই। তবে তা বলে তাঁর জীবনে ভয় নেই এমনটা নয়। কাছের মানুষদের হারানোর ভয় তাঁকে তাড়া করে বেড়ায়। সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তা হয় তাঁর পোষ্যদের নিয়ে। আর মজার কথা, বাস্তব জীবনে ভূতের ভয়ও পান তিনি, যা শুনে অনেকেই হেসে উঠতে পারেন।
ভৌতিক গল্প নিয়ে কাজ করতে গিয়ে বাস্তব জীবনে কিছু অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথাও ভাগ করে নিলেন মিমি। হায়দরাবাদ ফিল্ম সিটিতে শুটিংয়ের সময় নানা অচেনা শব্দ আর গা ছমছম করা মুহূর্তের মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। সেই স্মৃতিগুলো আজও ভাবতে চান না তিনি। অন্যদিকে বাংলা ছবির বর্তমান কনটেন্ট নিয়েও নিজের মতামত স্পষ্টভাবে জানালেন অভিনেত্রী। তাঁর মতে, এখন অনেকেই ঝুঁকি নিতে ভয় পান, যার ফলে কনটেন্টে বৈচিত্র আসছে না। যদিও তিনি নিজে কখনও একঘেয়ে চরিত্রে অভিনয় করতে চাননি।
আরও পড়ুনঃ বাবার জন্মদিনে আবেগে ভাসলেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়! স্মৃতির পাতায় ফিরে দেখা! বাবাকে কতটা মিস করে অভিনেত্রী?
কাজের পরিমাণ কমিয়ে আনার পেছনেও রয়েছে তাঁর নিজস্ব সিদ্ধান্ত। কম পারিশ্রমিকে অভিনয় করতে তিনি রাজি নন, কারণ নিজের কাজের সঙ্গে কোনও আপস করতে চান না। এই কারণে অনেক কাজ হাতছাড়া হয়েছে, অনেকেই তাঁকে ডাকেন না বলেও স্বীকার করেছেন মিমি। ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের কোনও গডফাদার নেই বলেই বাস্তব মেনে নিয়েছেন তিনি। তবুও নিজের পছন্দের কাজ বেছে নিয়েই এগিয়ে চলেছেন। ‘গানের ওপারে’ ধারাবাহিকের পুপে চরিত্র আজও দর্শকের মনে রয়ে গেছে। মিমির মতে, ঋতুপর্ণ ঘোষের তৈরি সেই ম্যাজিক আর রিপিট করা সম্ভব নয়। তবে সেই চরিত্রটাই তাঁর জীবনের সেরা প্রাপ্তি হয়ে থাকবে।





