জি বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘ডান্স বাংলা ডান্স (Dance Bangla Dance)’ আবারও ফিরে এসেছে নতুন মরশুমে। এই নতুন সিজনে ছোট থেকে বড়, শহর থেকে গ্রাম — বাংলার প্রতিটি কোণ থেকে উঠে আসা প্রতিভাবান প্রতিযোগীরা তাদের অসাধারণ নৃত্যদক্ষতা দিয়ে মঞ্চ মাতাচ্ছেন। অনুষ্ঠানটি শুধুই প্রতিযোগিতা নয়, বরং একে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে একটি আবেগ, একটি সাংস্কৃতিক মিলনক্ষেত্র। মঞ্চে উঠে যে প্রতিযোগীরা নিজেদের জীবনের গল্প বলেন, তাদের চোখে জল আর দর্শকদের করতালি — এই দুই মিলেই তৈরি হয় এই শো-এর আসল সাফল্যের চিত্র।
এই শো-এর মূল আকর্ষণ অবশ্যই বলিউড ও টলিউডের প্রিয় অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। তিনি শুধু একজন অভিনেতাই নন, বরং নিজেই এক জীবন্ত ইতিহাস। নাচ নিয়ে তাঁর নিজস্ব ভাবনা, অভিজ্ঞতা এবং বিচার শৈলী এই শো-কে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। ‘গ্র্যান্ড মাস্টার’ হিসেবে পরিচিত মিঠুনদা বরাবরই প্রতিযোগীদের পাশে দাঁড়িয়ে উৎসাহ দেন, তাঁদের ভুল শুধরে দেন এবং প্রয়োজন পড়লে কঠিন কথাও বলেন। তাঁর কথার মধ্যে যে আন্তরিকতা থাকে, তা একেবারে হৃদয় ছুঁয়ে যায় দর্শকদের।

মিঠুন চক্রবর্তী শুরু থেকেই বলতেন যে নাচ কেবল নৃত্যশৈলী নয়, বরং এটি এক ধরনের আত্মপ্রকাশ। তিনি নিজে যখন অভিনয়ে আসেন, তখন বলিউডের ধারা অনুযায়ী কোনও প্রতিষ্ঠিত নাচ শিখে আসেননি। তাঁর নাচ ছিল ‘ডিস্কো ড্যান্সার’ স্টাইলে, যা একেবারে নতুন এবং তাঁর নিজস্ব উদ্ভাবন। তিনি মনে করেন, নাচে আত্মা থাকতে হবে, শুধু শরীরের গতিবিধি দিয়ে দর্শকদের মন জয় করা যায় না। নাচের মধ্যে যদি ভাবনা ও সংবেদন না থাকে, তবে তা শুধুই শরীরচর্চা।
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে মিঠুন চক্রবর্তী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “জিমন্যাস্টিক দিয়ে নাচ হয় না। প্রত্যেকটা মানুষকে তার নিজের জন্য আলাদা স্টাইল তৈরি করতে হয়।” তাঁর এই মন্তব্যে তিনি বুঝিয়ে দিতে চাইলেন, আজকের দিনে অনেক প্রতিযোগী শুধুমাত্র কঠিন কঠিন স্টেপ বা স্টান্ট দেখাতে গিয়ে নাচের মূল ভাবটাই হারিয়ে ফেলছে। একজন শিল্পীর উচিত নিজের ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী স্টাইল তৈরি করা, যাতে দর্শক তার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারে।
আরও পড়ুনঃ ‘সৃজিত মুখোপাধ্যায় আর আমাকে নিয়ে…’ সুজিত মুখার্জির সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী রাজনন্দিনী পাল
নতুন প্রজন্মের যারা নাচের জগতে পা রাখতে চায়, তাদের উদ্দেশে মিঠুন চক্রবর্তীর এই বক্তব্য নিঃসন্দেহে এক শিক্ষামূলক বার্তা। তিনি চান, প্রতিযোগীরা কেবল ট্রেনিং-নির্ভর না হয়ে বরং তাদের আবেগ, তাদের ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী স্টাইল তৈরি করুক। কারণ দর্শক কেবল চোখ ধাঁধানো স্টেপ নয়, একজন শিল্পীর অন্তরের প্রকাশ দেখতে চায়। ‘ডান্স বাংলা ডান্স’-এর মঞ্চে এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিচারকের আসনে বসে মিঠুন চক্রবর্তী যেন আজও বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির এক শক্তিশালী প্রতিনিধি।





