টেলিভিশনের পর্দায় তাঁকে আমরা দেখেছি ভদ্র, শান্ত, ইতিবাচক চরিত্রে। কিন্তু এবার নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের গণ্ডি ভেঙে সম্পূর্ণ নতুন জায়গায় দাঁড়ালেন অভিনেতা সুরজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। শেখর সমাদ্দারের লেখা এবং দেবাশিস রায় পরিচালিত নাটক ‘সরলরেখা বক্ররেখা’-তে অভিনয় করছেন তিনি। এই নাটকের জন্যই তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়েছেন জনপ্রিয় নির্মাতা লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের একটি ধারাবাহিক। তাঁর ভাষায়, “এই চরিত্রটা আমাকে ডাকছিল। না করলে আফসোস থেকে যেত।”
নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র ‘লেখক সুপ্রকাশ মিত্র’— শিক্ষিত, ভদ্র, সংস্কৃতিমনা, কিন্তু একই সঙ্গে গভীরভাবে ধূসর। ঝড়জলের রাতে নিজের বাড়ির সামনে হঠাৎ একটি অজানা মৃতদেহ দেখতে পান সুপ্রকাশ। আতঙ্কে স্ত্রীকে নিয়ে তিনি লুকিয়ে ফেলতে চান সেই দেহ। ঠিক সেই সময় তাঁর তিন বন্ধু— একজন পুলিশ অফিসার, একজন নেতা এবং একজন ব্যবসায়ী—অপ্রত্যাশিতভাবে এসে পৌঁছান। একে একে বেরিয়ে আসতে থাকে চাপা সত্যি, সম্পর্কের ভেতরের অন্ধকার আর মানুষের দ্বৈত সত্তা। শেষ পর্যন্ত সুপ্রকাশ গ্রেফতার হন। কিন্তু দর্শক মনে প্রশ্ন রয়ে যায়—দোষী কি সত্যিই সে?
এই ধূসর মনস্তত্ত্ব বোঝাতে গিয়ে বাস্তব জীবনের একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন সুরজিৎ। তিনি বললেন, “স্বর্গ-নরক মানুষের ভেতরেই থাকে। কেউ পুরোটা ভাল, কেউ পুরোটা খারাপ নয়।” তারপরই তুলে ধরলেন নিজের মেট্রো যাত্রার অভিজ্ঞতা। “একদিন ভিড় ট্রেনে উঠলাম। হাঁসফাঁস অবস্থা। ঠিক তখন এক সুন্দরী মেয়ের শরীর আমার শরীরে ছুঁয়ে গেল। ওই মহিলা লজ্জা পেয়ে দুঃখপ্রকাশ করলেন, আমিও করলাম। কিন্তু ভিতরে কি শুধু অস্বস্তি কাজ করছিল? নাকি অন্য কোনও অনুভূতিও জেগেছিল?”— প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন তিনি।
অভিনেতার উপলব্ধি, সেই মুহূর্ত তাঁকে তাঁর নিজের মধ্যকার ‘ধূসর মানুষ’-এর সঙ্গে পরিচয় করিয়েছিল। “মনকে লাগাম পরানো জরুরি। কেউ বিকৃতকামী হয়ে জন্মায় না, আবার সাধু হিসেবেও নয়। মানুষ আসলে দুই দিকেরই মিশ্রণ,” বললেন সুরজিৎ। তাঁর দাবি, এই সৎ স্বীকারোক্তি থেকেই তিনি সুপ্রকাশের চরিত্রকে নতুন গভীরতা দিতে পেরেছেন।
আরও পড়ুনঃ “সবচেয়ে বিপজ্জনক বিজেপি, তৃণমূল দুর্নীতিতে ডুবেছে, সিপিআইএম দিশেহারা – মানুষ তাই অসহায়”: অকপট কৌশিক সেন
এর আগে ব্রাত্য বসুর নাটক ‘বিকেলে ভোরের সর্ষে ফুল’-এও তিনি সাহিত্যানুরাগী এক জটিল চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। দীর্ঘদিন পর আবার একবার ধূসর মানুষকে মঞ্চে জীবন্ত করে তুলতে চলেছেন তিনি। দর্শক প্রস্তুত তো?





