জিৎ না ভানু? কার গলায় মালা দেবেন নিশা? ‘জোয়ার ভাটা’-র সেটে ফাঁস হলো ত্রিকোণ প্রেমের রহস্য!

জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায় সম্প্রচারিত ‘জোয়ার ভাটা’ (Jowar Bhanta) ধারাবাহিকটি বর্তমানে দর্শকদের অন্যতম পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই মেগা সিরিয়ালটি জি বাংলার সান্ধ্যকালীন স্লটে পথচলা শুরু করে। সুশান্ত দাসের পরিচালনায় টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রুতি দাস, আরাত্রিকা মাইতি দুই বোনের অসম লড়াইয়ের এই টানটান গল্প শুরু থেকেই দর্শকদের নজর কেড়েছিল। বর্তমানে জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে ধারাবাহিকটি প্রতিদিন সম্প্রচারিত হচ্ছে।

ধারাবাহিকের বর্তমান প্রেক্ষাপট এখন বেশ উত্তেজনাকর মোড়ে দাঁড়িয়ে। নিশা যে কি না পরিস্থিতির চাপে পড়ে অন্ধকার জগতে পা রেখেছিল, তাকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে মূল কাহিনী। গল্পের একদিকে যেমন দক্ষ পুলিশ অফিসার জিত বসুর চরিত্রে অভিনয় করছেন অভিনেতা ফাহিম মির্জা। তিনি নিশার অপরাধমূলক কার্যকলাপ দমন করতে মরিয়া, অন্যদিকে নিশার ছায়ার মতো পাশে থাকা ভানু অর্থাৎ অভিনেতা রনক খান তাকে এক কঠিন দোটানায় ফেলেছে। সম্প্রতি নিশার বিয়ের প্রসঙ্গ আসায় গল্পের মোড় একদিকে ঘুরেছে। একদিকে জিতের দায়িত্ব ও রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি, আর অন্যদিকে ভানুর দীর্ঘদিনের আনুগত্য এই ত্রিকোণ প্রেমের টানাপোড়েন এখন ধারাবাহিকের মূল আকর্ষণ।

সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী শ্রুতি দাস তাঁর চরিত্র ‘নিশা’ সম্পর্কে বেশ কিছু চমকপ্রদ তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, নিশা আসলে খুব উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং পরিস্থিতির শিকার। সে বিলাসিতা পছন্দ করলেও তার মধ্যে একটি বিশেষ নৈতিকতা কাজ করে। নিশা বড় বড় দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য বানালেও সাধারণ বা গরিব মানুষের কোনো ক্ষতি করতে চায় না। নিশার কাছে এই মুহূর্তে আবেগ বা ভালোবাসার চেয়েও জীবনের সচ্ছলতা এবং নিজের পরিবারের হৃত সম্মান পুনরুদ্ধার করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, যা তাঁর অভিনয়কে আরও বেশি বাস্তবসম্মত করে তুলেছে।

সেটের আড্ডায় জিত এবং ভানু চরিত্রের অভিনেতারাও তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। ফাহিম জানান যে, একজন পুলিশ অফিসার হিসেবে নিশার অন্ধকার জগতকে ঘৃণা করলেও ব্যক্তি নিশাকে সে ভালোবেসে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে চায়। অন্যদিকে, রনক চরিত্রটি নিশার দীর্ঘদিনের ক্রাইম পার্টনার এবং ভরসার জায়গা। সাক্ষাৎকারে ভানুর আবেগঘন প্রপোজাল এবং জিতের কর্তব্যবোধের লড়াইটি বেশ মজার ছলে উঠে এসেছে। অভিনেতাদের দাবি, পর্দার বাইরে তাঁদের মধ্যে চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেও ক্যামেরার সামনে তাঁরা একে অপরের যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী।

ভিডিওটির শেষ পর্যায়ে উঠে আসে কলাকুশলীদের পরিশ্রম এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার কথা। শ্রুতি জানান যে তাঁর দুই সহ-অভিনেতা ফাহিম এবং রনক দুজনেই ভীষণ সিরিয়াস এবং কাজের প্রতি দায়বদ্ধ, যা তাঁদের রসায়নকে আরও মজবুত করে তোলে। এমনকি শুটিংয়ের ফাঁকে ফাঁকে তাঁরা সংলাপ নিয়ে দীর্ঘ চর্চা করেন। গল্পের আগামী দিনগুলোতে নিশা শেষ পর্যন্ত জিতের সৎ পথে ফেরার আহ্বানে সাড়া দেবে নাকি ভানুর সঙ্গে তার পুরনো জীবনই বেছে নেবে, সেই রহস্য জিইয়ে রেখেই অভিনেতারা দর্শকদের নিয়মিত ধারাবাহিকটি দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন। সামনে যে আরও অনেক বড় চমক আসছে, সেই ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছেন তাঁরা।