চন্দন সেন—নাটকের দুনিয়ায় যাঁকে চেনেন না, এমন মানুষ খুব কমই আছেন। তিনি শুধু একজন অভিনেতা নন, বরং এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা। থিয়েটার থেকে বড় পর্দা—যেখানেই অভিনয় করেছেন, নিজের ছাপ রেখে গেছেন। তবে তাঁর জীবনটা কখনওই ছিল না মসৃণ। একসময় এমন একটা সময় এসেছিল, যখন তাঁকে লড়তে হয়েছিল শুধুমাত্র ক্যারিয়ারের জন্য নয়, জীবনের জন্যও।
একদিন হঠাৎ করেই ধরা পড়ল ক্যান্সার।
প্রথম প্রতিক্রিয়াটা ছিল একেবারে মানবিক—“আমি কেন?” কিন্তু সেখানেই থেমে যাননি তিনি। বরং সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে নিতে গিয়ে পেয়েছেন বন্ধুবান্ধব, সহকর্মী, চিকিৎসক—সবার অকুণ্ঠ ভালবাসা আর সমর্থন।
চিকিৎসার সময় একটা ভয় ছিলই—ভয়েস বক্সটাই যদি কেটে ফেলতে হয়? একজন অভিনেতার কণ্ঠস্বরই তো তাঁর অস্তিত্ব। কেমো থেরাপির ধাক্কায় সেই ভয় একেবারে বাস্তবে পরিণত হতে বসেছিল। তাই প্রথমে চিকিৎসকদের বলেও দেন, “থেরাপি চাই না। শুধু বলুন, হাতে আর ক’দিন সময় আছে।”
১১ দিন ধরে চলেছিল পরীক্ষা-নিরীক্ষা। কাঠের একটি পাতের ওপর বসিয়ে তাঁর গলার স্বর বাঁচানোর চেষ্টায় লেগে পড়েছিলেন ডাক্তাররা। সৌভাগ্যবশত, শেষমেশ সফল হন তাঁরা।
তাঁর কথায়, “৩৮টা কেমো নেওয়ার পর হাতে আর একটা শিরাও অবশিষ্ট ছিল না।”
কিন্তু দমে যাননি তিনি। থেমে থাকেননি মঞ্চেও।
এই কঠিন সময়ে পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন ইন্ডাস্ট্রির অনেক মানুষ। কৌশিক সেন, শান্তিলাল, ব্রাত্য বসুর মতো নাট্যকর্মীরা এক সপ্তাহ টানা শো করে অর্থ জোগাড় করেছিলেন চন্দনের চিকিৎসার জন্য। কেউ লুকিয়ে স্ত্রীকে, কেউ আবার স্বামীকে না জানিয়েই তাঁকে টাকা ধার দিয়েছেন।
চন্দন নিজেই বলেন, “আমি জীবনটা যেভাবে কাটিয়েছি, তার প্রতিদান পেয়েছি এই সময়ে। তা না হলে কেউ এগিয়ে আসত না। আমি চাই না, কোনও বন্ধু বলুক আমি বিশ্বাসঘাতক।”
এত কিছুর পরেও আজও চন্দন সেন রয়েছেন তাঁর চেনা রূপে—নাটকের মঞ্চে, দর্শকের ভালোবাসায় ঘেরা, জীবনের প্রতি একরাশ কৃতজ্ঞতা নিয়ে।
আরও পড়ুনঃ “স্বামী-সন্তান থাকা সত্ত্বেও পরপুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক? দর্শকদের কটাক্ষের মুখে ‘চিরসখা’র কমলিনী, কী বললেন লেখিকা লীনা গঙ্গোপাধ্যায়?”
এই গল্প শুধুমাত্র একজন অভিনেতার নয়—এ এক অসামান্য লড়াকু মানুষের গল্প, যে লড়াই করে ক্যান্সারকে হারিয়ে জীবনকে আবার নতুন করে বেছে নিয়েছেন। চন্দন সেন যেন বারবার মনে করিয়ে দেন—ইচ্ছা থাকলে, মনোবল থাকলে, কিছুই অসম্ভব নয়।





