টলিউডের পুরোনো প্রেমকাহিনিগুলো নিয়ে গল্প জমে ওঠে সবসময়ই। আর প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় আর দেবশ্রী রায়ের গল্পটা তো সেই তালিকার একেবারে ওপরে! ৯০-এর দশকে যেমন পর্দায় প্রসেনজিৎ–ঋতুপর্ণা জুটি ছিল হিট, তেমনই জনপ্রিয় ছিল প্রসেনজিৎ–দেবশ্রী জুটি। শুধু সিনেমাতেই নয়, বাস্তবেও তাদের প্রেম ছিল রূপকথার মতো। ছোটবেলা থেকেই পরিচয়, বয়স বাড়ার সাথে সাথে ভালোবাসা গভীর হয়, আর শেষমেশ ১৯৯২ সালে বিয়ে।
কিন্তু বিয়ের পরে সেই জাদুকরী প্রেম যেন কোথায় হারিয়ে গেল। মাত্র তিন বছরের মধ্যেই সম্পর্ক ভেঙে গেল—ডিভোর্স হয়ে গেল। কেন? এ নিয়ে তখন অনেক গুজব শোনা গিয়েছিল। কেউ বলেছিল, প্রসেনজিৎ নাকি চাননি দেবশ্রী বিয়ের পর অভিনয় চালিয়ে যাক। আবার কেউ বলেছিল, দেবশ্রী জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার পর সেটা নাকি প্রসেনজিতের ভালো লাগেনি।
তখন এ নিয়ে মুখ বন্ধ রাখলেও, প্রায় ৩০ বছর পর এক সাক্ষাৎকারে প্রসেনজিৎ নিজেই বললেন আসল কারণ—তখন তিনি ম্যাচিউর ছিলেন না। তাঁর নিজের ভাষায়, যদি পাঁচ বছর পরে বিয়ে করতেন, তাহলে হয়তো পরিণতি অন্যরকম হতো। ডিভোর্সের পর নাকি প্রায় দু’বছর তিনি ঘর থেকেও বের হননি।
দেবশ্রীকে ডিভোর্স দেওয়ার পর প্রসেনজিৎ বিয়ে করেন অপর্ণা গুহ ঠাকুরতাকে। তাঁদের এক কন্যা সন্তান হয়, কিন্তু সেই সংসারও টেকেনি। পরে অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়কে বিয়ে করেন, আর এখন ছেলে ঝিনুককে নিয়ে সুখে সংসার করছেন।
আরও পড়ুনঃ “প্রাপ্য সম্মান পেলাম না” জাতীয় পুরস্কার জয়ী হয়েও টলিউডে অবহেলিত, ইন্ডাস্ট্রিকে বিঁধলেন দেবশ্রী রায়
তবু আজও দেবশ্রীর কথা উঠলে নস্টালজিক হয়ে পড়েন তিনি। বলেন— “সবাই জানতো আমাদের প্রেমের কথা, তাই ভয় পেতাম লোকে ভাববে আমার ভালোবাসাটা নকল ছিল। বিয়ের কপালটা আমার খারাপ, আর যা হয়েছে সব আমার দোষ—আমি তাঁকে বুঝতে পারিনি।” যেন স্বীকারোক্তির সুরে নিজের প্রথম প্রেমের গল্পটা আজও বয়ে বেড়ান তিনি।





