উত্তরবঙ্গ এখন বিপর্যস্ত। ভয়াবহ বন্যায় ভেসে গিয়েছে ঘরবাড়ি, ভেঙেছে রাস্তা ও সেতু, বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এখনও নিখোঁজ অনেকে। হাজার হাজার পর্যটক আটকে পড়েছেন দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কুচবিহার ও আলিপুরদুয়ারের বিভিন্ন জায়গায়। রাজ্যের উত্তরপ্রান্ত যখন এমন দুঃসহ পরিস্থিতিতে কাঁপছে, ঠিক তখনই দক্ষিণবঙ্গে চলছে উৎসবের রঙ। রবিবার কলকাতার রেড রোডে আয়োজিত হয়েছিল দুর্গা প্রতিমা বিসর্জনের কার্নিভাল, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে পা মিলিয়ে হাঁটলেন রাজ্যের জনপ্রিয় তারকারা।
কার্নিভালের সেই ঝলমলে সন্ধ্যায় ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, অঙ্কুশ হাজরা, নুসরত জাহানসহ আরও অনেকে। কিন্তু যখন উত্তরবঙ্গের মানুষ বাঁচার লড়াইয়ে ব্যস্ত, তখন এমন উৎসব ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ— কেন অনুষ্ঠান বাতিল করা হল না? কেন রাজ্যের একাংশে মৃত্যু ও দুর্ভোগের মাঝেও চলল শোভাযাত্রা ও নাচগান?
এই ক্ষোভের ঢেউ গিয়ে লাগে টলিউডের ‘ইন্ডাস্ট্রি’খ্যাত প্রসেনজিতের দিকেও। সোমবার গভীর রাতে অভিনেতা ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন উত্তরবঙ্গের মানুষের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে। তাঁর পোস্টে লেখা ছিল, “কুচবিহার, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার এই মুহূর্তে সারা দেশ এবং সমগ্র রাজ্যের নিঃস্বার্থ সহযোগিতা পাক, এই আশা রাখি। মানুষ ও প্রকৃতির সামঞ্জস্য হারালে সচেতনতা ও সদুদ্যোগই একমাত্র উপায় ঘুরে দাঁড়ানোর।”
তবে সেই পোস্ট শান্তি ফেরানোর বদলে যেন আরও আগুন জ্বালাল। কমেন্ট সেকশনে একের পর এক তির্যক মন্তব্যে ভরে ওঠে অভিনেতার পেজ। কেউ লেখেন, “জনগণের প্রবল প্রতিক্রিয়া দেখে দেরিতে পোস্ট!” আরেকজনের কটাক্ষ, “আরে দাদা, আজ নিউজ দেখে পোস্ট দিলেন নাকি দশমীর হ্যাংওভার কাটেনি এখনও?” আবার কেউ লিখেছেন, “পেমেন্ট এলো বলেই পোস্ট করলেন।” এমনকি একজন মন্তব্য করেন, “ও বাবা! দাদার এখনও বাংলাটা মনে আছে, ভাবলাম ভুলে গেছেন মুম্বই গিয়ে।”
প্রসেনজিতের জন্য এ দৃশ্য নতুন নয়। কিছুদিন আগেই এক প্রেস মিটে তিনি বিতর্কে জড়ান, যখন এক সাংবাদিক তাঁকে বাংলায় প্রশ্ন করলে তিনি উত্তর দেন, “বাংলা বলার কী দরকার পড়ল?” সেই মন্তব্য ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়, বাধ্য হয়ে ক্ষমা চান অভিনেতা। এবারও যেন ইতিহাস পুনরাবৃত্তি।
আরও পড়ুনঃ ভবানীপুরের বাড়িতে উত্তম কুমারের স্মৃতি: লক্ষ্মীপুজো আর বিশেষ ভোজনের গল্প
তারকারা রাজ্যের মুখ, তাই তাঁদের প্রতিটি পদক্ষেপেই মানুষের নজর। বিশেষ করে যখন বিপদের সময় সাধারণ মানুষ কষ্টে দিন কাটাচ্ছে, তখন তারকাদের উৎসব বা হাসিখুশি ছবি মানুষ সহজে মেনে নিতে পারে না। হয়তো সময়টা যদি একটু ভেবেচিন্তে নেওয়া যেত, তাহলে এই বিতর্কের ঝড় উঠত না।





