টলিউডের (Tollywood) অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় (Rachna Banerjee) বর্তমানে তাঁর দীর্ঘ অভিনয় জীবনের পাশাপাশি রাজনৈতিক ময়দানেও এক পরিচিত নাম। নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলা চলচ্চিত্র জগতে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। ‘দিদি নম্বর ওয়ান’-এর সঞ্চালিকা হিসেবে তিনি ঘরে ঘরে যে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন, তা তাঁকে সাধারণ মানুষের খুব কাছে পৌঁছে দিয়েছে। সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি এখন জনপ্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর মার্জিত ব্যবহার এবং স্পষ্টভাষী স্বভাবের জন্য অনুগামী মহলে তাঁর বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
সম্প্রতি অভিনেতা তথা বিধায়ক সোহম চক্রবর্তীকে কেন্দ্র করে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় রাজ্য রাজনীতি ও বিনোদন জগতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। একটি রেস্তোরাঁর মালিকের সঙ্গে সোহমের বিবাদে জড়ানোর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এই সংবেদনশীল বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, তিনি অত্যন্ত সংযত ভাষায় বিষয়টির অবতারণা করেছেন এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।
রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় ভিডিওটিতে স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, প্রতিটি মানুষ স্বতন্ত্র এবং তাঁদের চিন্তাভাবনাও একে অপরের থেকে আলাদা। তিনি মনে করেন, একজন মানুষ সমাজের সামনে নিজেকে কীভাবে তুলে ধরবেন বা তাঁর জীবনযাপন কেমন হবে, তা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। নিজের ব্যক্তিত্বের সাথে সোহমের তুলনা টেনে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, ব্যক্তিভেদে আচরণের ধরণ ভিন্ন হওয়া স্বাভাবিক। তবে জনমানসে এর প্রভাব কী হতে পারে, সেই বিষয়ে তিনি পরোক্ষভাবে সচেতন করেছেন।
ভিডিওর এক পর্যায়ে যখন তাঁকে প্রশ্ন করা হয় যে তিনি এই ঘটনাটিকে সমর্থন করছেন কি না, তখন তিনি সরাসরি নেতিবাচক উত্তর দেন। রচনা পরিষ্কারভাবে জানান যে, যেটা ঘটেছে তা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয় এবং বিষয়টি মোটেও ভালো হয়নি। তিনি বিশ্বাস করেন যে সামাজিক বা রাজনৈতিক অবস্থানে থেকে এ ধরণের ঘটনা এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। তবে তিনি একইসাথে এও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, সেই নির্দিষ্ট মুহূর্তে সোহম কেন এমনটা করেছিলেন বা কী ধরণের পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন, তা তাঁর অনুপস্থিতিতে বিচার করা কঠিন।
আরও পড়ুনঃ ‘রাহুলদাকে মালা দেওয়ার যোগ্যতা ওর নেই!’ ‘যীশু-ইন্দ্রাশিস না থাকলে ওখানেই পড়ে থাকত ছবিটা,’ ইচ্ছে করেই ফেলে এসেছি,’ পায়েল দে-র অভিযোগে বিস্ফোরক সাফাই জীতু কমলের!
পরিশেষে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে, কোনো ঘটনার প্রেক্ষাপট না জেনে চূড়ান্ত মন্তব্য করা উচিত নয়। তিনি বলেন, ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না, তাই কিসের ভিত্তিতে বা কোন মেজাজে এই কাণ্ডটি ঘটেছে তা একমাত্র সোহমই সঠিক ব্যাখ্যা করতে পারবেন। সম্পূর্ণ ভিডিওটিতে রচনার বক্তব্যে যেমন একদিকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সুর ছিল, তেমনই সহকর্মীর প্রতি সৌজন্য বজায় রেখে পরিস্থিতির জটিলতাকেও তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন। বর্তমানে তাঁর এই মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ ভাইরাল হয়েছে।





