টলিউডের (Tollywood) অন্যতম প্রতিভাবান ও স্পষ্টভাষী অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Banerjee) অকাল প্রয়াণ বাংলা বিনোদন জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করেছে। গত ২৯ মার্চ ওড়িশার তালসারিতে একটি মেগা সিরিয়ালের শুটিং চলাকালীন সমুদ্রে তলিয়ে গিয়ে মাত্র ৪২ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। ২০০৮ সালে ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ছবির মাধ্যমে রাতারাতি তারকা হয়ে ওঠা রাহুল কেবল একজন দক্ষ অভিনেতা ছিলেন না, বরং একাধারে সফল পডকাস্টার ও সুবক্তা হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। তাঁর এই আকস্মিক বিদায় কেবল তাঁর পরিবারকেই নয়, বরং তাঁর অগণিত ভক্ত ও পুরো ইন্ডাস্ট্রিকে শোকস্তব্ধ করে দিয়েছে।
সম্প্রতি রাহুলের শেষ কাজগুলোর একটি বিশেষ স্ক্রিনিংয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে অভিনেতার বড় ভাই অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে জানান যে, অভিনয়ের পাশাপাশি লেখালেখি, থিয়েটার এবং পডকাস্ট নিয়ে রাহুলের অনেক বড় বড় পরিকল্পনা ছিল। তাঁর কথায়, রাহুল কেবল একজন অভিনেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন বহু গুণে গুণান্বিত একজন শিল্পী। বিশেষ এই স্ক্রিনিংয়ে রাহুলের চমৎকার অভিনয় দেখে উপস্থিত সবার চোখেই জল চিকচিক করে ওঠে। নিজের কাজ ও সৃষ্টির মধ্য দিয়েই তিনি দর্শকদের মাঝে চিরকাল বেঁচে থাকবেন এমনটাই বিশ্বাস তাঁর প্রিয়জনদের।
আরও পড়ুন: ৯ বছরের অধ্যায়ে ইতি! মহিলা কমিশনের সভাপতির পদ ছাড়লেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়!
রাহুলের প্রয়াণের পর থেকেই তাঁর মৃত্যুর কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অভিনেতার দাদা অনির্বাণ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তিনি আইনের ওপর এবং তদন্ত প্রক্রিয়ার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন। ওড়িশার তালসারি মেরিন পুলিশ ইতিমধ্যেই একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে। উল্লেখ্য যে, ঘটনার দিন শুটিংয়ের জন্য পুলিশের কাছ থেকে যথাযথ অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। আর্টিস্ট ফোরাম এবং রাহুলের পরিবার এখন সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্যটি জানতে চায় যে, ঠিক কার অবহেলায় বা গাফিলতিতে এত বড় একটা অঘটন ঘটল।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে টলিউডের বর্তমান কর্মপরিবেশ এবং তথাকথিত ‘ব্যান কালচার’ নিয়ে সরব হয়েছেন অভিনেতা ও বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। তাঁর মতে, গত কয়েক বছরে ইন্ডাস্ট্রিতে যে অরাজকতা ও পেশিশক্তির প্রয়োগ চলেছে, রাহুল তার বিরোধী ছিলেন। রুদ্রনীল অভিযোগ করেন যে, যোগ্য শিল্পীদের বসিয়ে রাখা বা নির্দিষ্ট সংগঠনের কথা মতো কাজ করতে বাধ্য করার যে সংস্কৃতি এতদিন চলে আসছিল, তা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। রাহুল নিজে একজন আদর্শবান শিল্পী ছিলেন এবং তাঁর অকাল মৃত্যু যেন ইন্ডাস্ট্রিকে নতুন করে ভাবতে এবং একজোট হতে বাধ্য করেছে।
অবশেষে রাহুলের শেষ কাজগুলো মুক্তির আলো দেখতে চলেছে। জয়াব্রত দাসের পরিচালনায় তাঁর অভিনীত ছবি ‘একাডেমি অফ ফাইন আর্টস’ এবং অন্যান্য আটকে থাকা প্রজেক্টগুলো দ্রুত সরকারি হল ও প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভিডিওতে সহকর্মীরা জানান, রাহুলের অসম্পূর্ণ স্বপ্নগুলো পূরণ করাই হবে তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা নিবেদন। তদন্তের কাজ শেষ হলে এবং সত্য সামনে এলে রাহুল বিচার পাবেন এমনটাই এখন টলিউড এবং তাঁর অনুরাগীদের একমাত্র প্রার্থনা।





