কখনও পোশাক বিতর্ক, কখনও শাঁখা-পলা নিয়ে মন্তব্য—নানা সময়ে মধুবনী গোস্বামীকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্কের ঢেউ। কিন্তু অভিনেত্রীকে তাতে দমিয়ে রাখা যায়নি। টেলিভিশনের আলো থেকে কিছুটা দূরে থাকলেও, নিজের মতো করে নতুন পথে হাঁটছেন তিনি। দুর্গাপুজোর আগে স্বামী রাজা গোস্বামীর সঙ্গে মিলে শুরু করেছেন ব্যাগের ব্যবসা। কিন্তু সেই উদ্যোগ নিয়েই এবার মধুবনীকে শুনতে হচ্ছে নানা নেতিবাচক মন্তব্য।
সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের ব্র্যান্ডের প্রচার ভিডিয়োয় একের পর এক তির্যক মন্তব্য ভেসে এসেছে। কেউ বলেছেন, “এরা এখন ব্যবসায়ী!” কেউ আবার কটাক্ষ করেছেন, “অভিনয় বন্ধ হয়ে গেছে নাকি?” এই বিদ্রূপের পর এবার আর চুপ থাকেননি অভিনেত্রী। তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে মধুবনী বলেন, “আলু-পটল বা মুদির দোকান করলে লজ্জা লাগে, কিন্তু নিজের বাবা-ঠাকুরদার বাড়ি বিক্রি করতে একটুও লজ্জা হয় না! এটাই আমাদের সমাজ।”
অভিনেত্রীর কথায়, “আমরা নিজেদের মানুষকে সম্মান দিতে জানি না। বাঙালিরা চিরকাল অন্যের সাফল্যে হিংসে করে। আমাদের মতো ব্যাগ হয়তো দ্বিগুণ দামে কোনও অবাঙালির দোকান থেকে কিনবে, কিন্তু আমাদের পেজে এসে খারাপ মন্তব্য করবে। এটাই বাস্তব।” তাঁর এই বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। অনেকে মধুবনীর পাশে দাঁড়িয়েছেন, অনেকে আবার পুরনো বিতর্ক টেনে এনে নতুন করে সমালোচনা শুরু করেছেন।
অভিনয় জগৎ থেকে এখন কিছুটা দূরে রয়েছেন মধুবনী। শেষবার তাঁকে দেখা গিয়েছিল চিরসখা ধারাবাহিকে, আইনজীবীর চরিত্রে। তারপর আর টেলিভিশনের নিয়মিত কাজ করেননি তিনি। কারণও জানালেন খোলাখুলি—“ছেলের পড়াশোনা, সেলুনের ব্যবসা, ভ্লগিং, আর এখন এই ব্যাগের ব্র্যান্ড—সব মিলে সময়ই পাচ্ছি না। একটা ধারাবাহিকের জন্য যে সময় দিতে হয়, সেটা এখন আর সম্ভব নয়।”
তবু কাজের প্রতি তাঁর ভালোবাসা, নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলার ইচ্ছা আজও তীব্র। সমালোচকদের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, “সবাই যখন সহজ পথে চলে, তখন নিজের পথে হাঁটা কঠিন হয়। কিন্তু আমি সেই কঠিন পথটাই বেছে নিয়েছি। কারণ এটা আমার নিজের।”
আরও পড়ুনঃ ‘মনোবীণা অসুস্থ ছিলেন না,’ প্রকাশ্যে কৌশিককে ‘লম্পট’ বলে আক্রমণ! মনোবীণাকে ঘিরে বিতর্কে মুখ খুললেন কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়, জানালেন নিজের করুণ অবস্থান
সময়ের সঙ্গে বদলে যাচ্ছেন মধুবনী গোস্বামী। হয়তো এখন তিনি আগের মতো টিভির পর্দায় নেই, কিন্তু তাঁর লড়াই, সাহস আর আত্মবিশ্বাস এখনও আগের মতোই উজ্জ্বল। অভিনয় থেকে ব্যবসা—জীবনের প্রতিটা অধ্যায়ে তিনি যেন নিজের মতো করে বারবার প্রমাণ করে দিচ্ছেন, ‘নিজের পরিশ্রমে গড়ে তোলা সাফল্যই আসল গর্ব।’





