ভবানীপুরের ঐতিহ্যবাহী মল্লিক পরিবারের ছেলে রঞ্জিত মল্লিক, ডাক নাম রঞ্জু। তাঁর অভিনয় জীবনের শুরুটা একেবারেই অন্য ধারায়। মৃণাল সেনের হাতে খুঁজে পাওয়া এই অভিনেতার প্রথম ছবি ছিল ‘ইন্টারভিউ’। এরপর ‘কলকাতা ৭১’-এ তাঁর অভিনয় নজর কাড়ে সকলের। সত্যজিৎ রায়ের ‘শাখা প্রশাখা’-তেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যায় তাঁকে। প্যারালাল সিনেমার গম্ভীর পরিবেশ থেকে পরে তিনি সহজেই ঢুকে পড়েন বাণিজ্যিক ছবির ধারায় এবং হয়ে ওঠেন রোম্যান্সের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ।
মুনমুন সেন, মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়, মহুয়া রায়চৌধুরী থেকে সন্ধ্যা রায়—প্রায় সব তৎকালীন শীর্ষ অভিনেত্রীদের সঙ্গে জুটি বেঁধে পর্দায় দারুণ রসায়ন তৈরি করেছিলেন রঞ্জিত। দর্শকরাও সেই রোম্যান্সে জমিয়ে হাততালি দিয়েছেন। অথচ পর্দার বাইরে একবারও তাঁর নাম জড়ায়নি কোনও নারীর সঙ্গে। কোনও লুকোচুরি প্রেম বা পরকীয়ার গুজব—কিছুই নয়। গ্ল্যামার দুনিয়ায় যেখানে নায়ক-নায়িকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা কথা ভেসে বেড়ায়, সেখানে রঞ্জিত মল্লিক রয়ে গেছেন সম্পূর্ণ নির্লিপ্ত।
তাহলে কী সেই রহস্য? কেন কখনও রটল না কোনও প্রেমের গুঞ্জন? TV9 বাংলাকে দেওয়া এক পুরোনো সাক্ষাৎকারে তার উত্তর দিয়েছেন অভিনেতা নিজেই। তিনি বলেছিলেন, “আমি মহিলাদের চিরকালই অন্য দৃষ্টিতে দেখেছি। তাঁদের খুব শ্রদ্ধা করি। ছোটবেলা থেকে মাসিমা-জেঠিমাদের জীবনের সংগ্রাম দেখেছি। তাই কোনও নায়িকার সঙ্গে কাজের বাইরে গিয়ে অন্যরকম সম্পর্ক তৈরি করার কথা কোনওদিন ভাবিনি।” তাঁর কথায় স্পষ্ট, ব্যক্তিগত মূল্যবোধই তাঁকে রেখেছে গসিপের বাইরে।
রঞ্জিত মল্লিক শুধু পর্দায় নায়ক নন, সহকর্মীদের কাছেও ছিলেন প্রিয় মানুষ। তিনি জানান, মুনমুন সেন থেকে মহুয়া রায়চৌধুরী, মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় কিংবা মিঠু মুখোপাধ্যায়—সবাই ছিলেন তাঁর সত্যিকারের বন্ধু। অভিনেত্রী সুমিত্রা মুখোপাধ্যায় তাঁকে স্নেহ করে ‘বন্ধু’ বলেই ডাকতেন। সেই সময়ের আন্তরিক বন্ধুত্ব আর পেশাদার সম্পর্ক আজও তাঁর স্মৃতিতে বিশেষ জায়গা করে আছে।
আরও পড়ুনঃ অমিতাভের টিফিন বক্স জয়ার প্রেমপত্র! ঠিক যেন চলচ্চিত্রের গল্প! চিঠিতে কি লিখতেন জয়া?
ফিরে দেখা সেই ‘স্বর্ণালি’ দিনে যেন আরও একবার আলো ছড়াল। জীবনের পাঁচ দশক পরেও রঞ্জিত মল্লিকের নামের পাশে তাই রয়ে গেছে এক অবিচল পরিচয়—ইন্ডাস্ট্রির ‘গুড বয়’।





