শ্রাবন্তী সব সময়েই শিরোনামে থাকেন। তবে এ বার তিনি খোলাখুলি স্বীকার করলেন, মাত্র ক্লাস ইলেভেনে পড়ার সময়ই মা হয়েছিলেন। “হ্যাঁ, তখন আমার বয়স মাত্র ১৬। সেটা অবশ্যই বাড়াবাড়ি ছিল। কিন্তু আজ মনে হয়, ছোট বয়সে মা হওয়ারও সুবিধা আছে। ঝিনুক হওয়ার পাঁচ বছর পরেই আমি আবার কাজে ফিরি, তখন আমার বয়স ছিল মাত্র ২১,” অকপট স্বীকারোক্তি অভিনেত্রীর। তাঁর কথায়, এখন আর এ সব সমালোচনা গায়ে মাখেন না, বরং অভিজ্ঞতাকেই নিজের শক্তি হিসেবে ব্যবহার করেন।
ক্যারিয়ারের শুরুতে জিতের নায়িকা হয়ে নজর কেড়েছিলেন শ্রাবন্তী। তারপর একের পর এক হিট ছবি, ব্যক্তিগত জীবনের ওঠাপড়া, রাজনৈতিক মঞ্চে উপস্থিতি— সব কিছু মিলিয়ে তিনি বারবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছেন। আসন্ন পুজোয় মুক্তি পেতে চলেছে তাঁর নতুন ছবি ‘দেবী চৌধুরাণী’। অভিনেত্রী জানালেন, এই চরিত্রের চ্যালেঞ্জ তাঁকে টেনেছিল। তাঁর বিশ্বাস, প্রতিটি মানুষের মধ্যেই কিছুটা ‘দেবী চৌধুরাণী’ লুকিয়ে থাকে, আর পরিস্থিতি মানুষকে লড়াই করতে শেখায়। সেনা-অফিসার বাবার শাসনেই বড় হয়ে ওঠা শ্রাবন্তীর কাছে অস্ত্র চালানো, মারপিট শেখা একেবারে স্বাভাবিক ব্যাপার।
ছেলে ঝিনুক আজ তাঁর সবচেয়ে বড় সমর্থক। “ও-ই আমার চিয়ারলিডার। ছবির প্রচারও করবে বলেছে,” জানালেন শ্রাবন্তী। তবে একথা স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, মা-ছেলের মধ্যে বয়সের পার্থক্য এত কম যে তাঁরা একে অপরের বন্ধু হয়ে উঠেছেন। “আমাদের মধ্যে তো মাত্র ১৬ বছরের ফারাক। তাই ঝিনুকের বন্ধুরাও আমাকে ‘আন্টি’ নয়, দিদি বলেই ডাকে।” এই মন্তব্যেই আবারও আলোচনার ঝড় উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। অনেকের মতে, এ একেবারেই সাহসী এবং ভিন্ন স্বীকারোক্তি, যা বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে সচরাচর শোনা যায় না।
অন্যদিকে, সমালোচনা এবং ট্রোল নিয়ে তিনি একেবারেই মাথা ঘামান না। ঝিনুকও এই সবের বাইরে থাকে। অভিনেত্রীর দাবি, নতুন প্রজন্ম অনেক বেশি সচেতন, বিশেষ করে লিঙ্গসাম্যের বিষয়ে। তবে একথা মানতে নারাজ নন যে সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত বাড়বাড়ন্তে অনেকসময় কাজের সঠিক মূল্যায়ন আড়ালে থেকে যায়। তাই তিনি নতুনদের একটাই পরামর্শ দেন, প্রথম কাজ ভালো না হলে হতাশ না হয়ে পরের কাজে মন দিতে হবে।
আরও পড়ুনঃ বিচ্ছেদের পরেও ব্যবহার করেন স্বামীর পদবী! চেনেন অভিনেত্রী জুন মালিয়ার প্রথম স্বামীকে?
রাজনীতি নিয়েও মুখ খুললেন শ্রাবন্তী। গত বছর থেকে ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে তাঁকে দেখা গেলেও সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে নামার ইচ্ছা তাঁর নেই। “মাননীয়া আমন্ত্রণ জানালে আমি যাব না কেন? কিন্তু আপাতত আমার কোনও রাজনৈতিক পরিকল্পনা নেই।” তবে তাঁর এই উপস্থিতি নিয়েও জল্পনা থামছে না। সিনেমা, ব্যক্তিগত জীবন, রাজনীতি— সব ক্ষেত্রেই বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ে না শ্রাবন্তীর। অথচ তিনি এখনও আত্মবিশ্বাসী, ঝিনুককে পাশে নিয়েই নিজের লড়াই চালিয়ে যেতে জানেন।





