‘না পড়ে হুট করে চলে এলেই অভিনেতা হওয়া যায় না!’ ‘মোবাইলে বন্দি জীবন, অশিক্ষাকে প্রশ্রয়!’ নতুন প্রজন্মকে কড়া খোঁচা অভিনেত্রী ঋতা দত্ত চক্রবর্তীর!

বাংলা বিনোদন জগতের অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ অভিনেত্রী ঋতা দত্ত চক্রবর্তী (Rita Dutta Chakraborty)। দশকের পর দশক ধরে তিনি তাঁর সাবলীল অভিনয় দিয়ে দর্শকদের মন জয় করে আসছেন। ছোট পর্দা থেকে শুরু করে বড় পর্দা কিংবা থিয়েটার প্রতিটি মাধ্যমেই তাঁর পদচারণা প্রশংসনীয়। ইতিবাচক চরিত্র হোক কিংবা ধূসর শেডের কোনো শক্তিশালী চরিত্র, নিজের অভিনয় দক্ষতার গুণে তিনি সেই চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলেন পর্দায়।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের নতুন ধারাবাহিক ‘তারে ধরি ধরি মনে করি’-র চরিত্র নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন অভিনেত্রী। তিনি জানান, ধারাবাহিকে তাঁর ‘কাত্যায়নী’ চরিত্রটির শুরুতে একটি নেগেটিভ শেড ছিল। ছেলের প্রথম স্ত্রী রূপমঞ্জুরীর মৃত্যুর পর তার মতো দেখতে অদ্বিতীয়াকে মেনে নিতে তাঁর চরিত্রটির বেশ কষ্ট হয়েছিল। তবে গল্পের মোড় ঘোরার সঙ্গে সঙ্গে অদ্বিতীয়ার ভালোবাসা ও চেষ্টার কারণে কাত্যায়নী চরিত্রটি এখন তাকে ভালোবেসে আপন করে নিয়েছে।

চরিত্রের এই পরিবর্তন ও ধূসর শেড প্রসঙ্গে তিনি নিজের মতামত স্পষ্ট করেছেন। অনেক সময় দর্শকরা তাঁকে নেগেটিভ চরিত্রে দেখতেই বেশি অভ্যস্ত হলেও, ঋতা দত্ত চক্রবর্তীর মতে চরিত্রগুলোর একটি নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থাকে। সংসারের স্বার্থে বা পরিস্থিতির চাপে চরিত্রগুলো এমন আচরণ করে, যা গল্পকে আরও নাটকীয় ও মজবুত করে তোলে। তবে তিনি এ-ও মনে করিয়ে দেন যে, কেবল নেগেটিভ নয়, ক্যারিয়ারে বহু পজিটিভ চরিত্রে কাজ করেও তিনি দর্শকের অকৃত্রিম ভালোবাসা পেয়েছেন।

অভিনয়জগতে আসা নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য এই প্রবীণ অভিনেত্রী কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, আজকাল অনেকেই প্রশিক্ষণ ছাড়া হঠাৎ সুযোগ পেয়ে অভিনয়ে চলে আসছেন। কিন্তু ক্রিকেট বা ফুটবলের মতো অভিনয়েও নিয়মিত অনুশীলন ও বেসিক ব্যাকরণ শেখা অত্যন্ত জরুরি। কেবল ঝটপট পরিচিতি বা অর্থ উপার্জনের পেছনে না ছুটে, অভিনয়ের গভীরতা বোঝার জন্য শেখার তাগিদ থাকা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

নতুনদের অভিনয়ে উন্নতি করতে সাহিত্যচর্চা ও বই পড়ার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন ঋতা দত্ত চক্রবর্তী। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের কারণে আজকের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সাহিত্য পড়ার অভ্যাস অনেকটাই কমে গেছে। অথচ সাহিত্যের সঙ্গে অভিনয়ের যোগাযোগ গভীর। সঠিক শব্দজ্ঞান, শুদ্ধ উচ্চারণ এবং দৃশ্যের ভাব কল্পনা করার ক্ষমতা তৈরি হয় বই পড়ার মধ্য দিয়েই। তাই একটি সফল অভিনয় জীবনের জন্য পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই বলে নতুনদের সচেতন করেছেন এই গুণী শিল্পী।