অভিনয়ের স্বার্থে এর আগেও অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী কে নিজের ওজন নিয়ে খেলা করতে দেখা গেছে টেলিভিশনের পর্দায়। এইবার সেই তালিকাতেই নাম লেখালেন ঋতাভরী। সম্প্রতি ‘ফাটাফাটি’ ছবিতে ‘ফুল্লরা’-র চরিত্রের জন্য ২৫ কেজি ওজন বাড়িয়ে ছিলেন অভিনেত্রী। যার পরিণাম নিশ্বাসের কষ্ট, বেশি গরম অনুভূতি, স্ট্রেচমার্ক এবং হাত থেকে দু’টো ছবি বেরিয়ে যাওয়া। বর্তমান সমাজে ‘বডি শেমিং’ নিয়ে কী বললেন ঋতাভরী?
ফুল্লরা চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তাকে ২৫ কেজি ওজন বাড়াতে হয়েছে। বডি শেমিং এর শিকার হয়েছেন কি অভিনেত্রী? এই নিয়ে ঋতাভরী বললেন “২৫ কেজি ওজন খুব একটা কম নয়, ওজন বাড়ানোর পরে একটা অ্যাডে কাজ করি যেখানে বেশ বডি সেমিং আর ট্রলিং হয় আমার। কিন্তু এটাই প্রথম নয়, এর আগেও আমি এইসব ফেস করেছি যখন আমার জিরো ফিগার ছিল।” অভিনেত্রী আরো বললেন “বাহ্যিক সৌন্দর্যটা কেবলমাত্র ফলের খোসা, আসল ফলটা টক না মিষ্টি সেটা সম্পূর্ণ মানুষটার সঙ্গে মিশে বোঝা যায়।”
এই বডি শেমিং বিষয়টিকে কি একেবারে সমূলে উৎখাত করা সম্ভব যার উত্তরে অভিনেত্রী জানান “শুরুতেই একেবারে উৎখাত করা সত্যিই সম্ভব নয়, বা এর জন্য একটা সিনেমা যথেষ্ট নয়, একটু চোখ ঘুরালেই দেখা যায় বাঙালি ম্যাট্রিমনিয়াল সাইটগুলোতে কি ধরনের মেয়েদের ডিমান্ড করা হয়। এখন মানুষটা কেমন সেটার বিচার কম আর সেই মানুষের দাঁত কেমন চোখ কেমন গায়ের রং কেমন তার বিচার আগে করা হয় ।”
মোটা হওয়ার জন্য কি কি শারীরিক সমস্যা ফেস করতে হয়েছে তাকে, তিনি জানালেন “গরমে ভীষণ কষ্ট পেয়েছি, এছাড়াও শ্বাসকষ্ট হাত থেকে দুটো ছবি বেরিয়ে যাওয়া এরকম অনেক কিছুই ফেস করতে হয়েছে”। এতকিছুর পরেও দমে যাননি অভিনেত্রী। স্পেক্ট্রাম এর প্রত্যেকটা সাইজই তিনি নিজের মধ্যে উপলব্ধ করেছেন। কখনো স্মল কখনো এক্সেল, মিডিয়াম, ফাটাফাটির জন্য ডবল এক্সেল সবকিছুতেই নিজের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন তিনি। তাই এখন কোনরূপেই নিজেকে একসেপ্ট করতে সমস্যা হয় না তার।
গল্পে ফুল্লোরার চরিত্র টা ঠিক কি রকম এই প্রশ্নে অভিনেত্রী বললেন যে দেখছে সৌন্দর্য তার চোখ দিয়ে, অর্থাৎ সৌন্দর্য সেই মানুষটাকে না যে দেখছে তার চোখে রয়েছে। আর এখানে ফুল্লোরা আর বাচস্পতির সম্পর্কটা ঠিক সেই রকমই। ফুলরাকে ছোটবেলা থেকেই এটা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে যে তার চেহারাটা সুন্দর না আর ফ্যাশান যাওয়ার মত চেহারা তো তার একদমই নেই সেখান থেকে উঠে দাঁড়িয়ে একটা প্লাস মডেলের জন্য একটা মেয়ে কি করতে পারে আর তার পাশে তার স্বামী কিভাবে দাঁড়াতে পারে সে সমস্ত কিছুরই ধারণা দেওয়া রয়েছে এই গল্পে।





