আজ অভিনেত্রী ঋতাভরী চক্রবর্তীর জন্মদিন। বর্তমানে তিনি প্রেমিক সুমিতের সঙ্গে ইউরোপ ভ্রমণে ব্যস্ত। ঘুরছেন বার্লিনে, সেখান থেকেই আনন্দে-ভরা গলায় জানালেন, “ভগবান যা দেওয়ার কথা, তার চেয়ে অনেক বেশি দিয়েছেন। তাই আলাদা করে আর কিছু চাই না।”
বয়স? লুকোচুরি নেই!
১৯৯২ সালের জন্ম ঋতাভরীর। স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন, “আমি কখনওই বয়স লুকোই না। ছোট থেকেই বলি, ১৯৯২-তে জন্মেছি। এবার হিসেব করুন।”
ইউরোপ ট্যুর— প্রেম, ভ্রমণ আর প্রশান্তির খোঁজ
জন্মদিন উপলক্ষে নয়, বহুদিন ধরেই পরিকল্পনায় ছিল এই ইউরোপ সফর। বলেন, “অনেক জায়গায় গেছি, কিছু পুরোনো, কিছু একেবারে নতুন। সুমিত আর আমি অনেক দিন ধরেই ট্র্যাভেল প্ল্যান করছি। জন্মদিনের সময়টায় সবটা মিলে গেল।”
ডেনমার্ক তাঁর ভীষণ প্রিয়, বিশেষ করে ‘হুগা কালচার’— কমিউনিটি লিভিং ও সেই আরামদায়ক পরিবেশ। প্যারিসের ‘শেক্সপিয়ার অ্যান্ড কোম্পানি’ বইয়ের দোকানে সময় কাটানো তাঁর অন্যতম শখ।
বিমানের ভয় আর বাস্তবতা
আমেদাবাদের সাম্প্রতিক বিমান দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, “ভীষণ মর্মান্তিক। মনে হয়, আমিও তো থাকতে পারতাম সেই জায়গায়। এখন সবকিছু অনিশ্চিত। রাতের রাস্তায় হাঁটার যেমন ভয়, তেমনই ভরা বিমানে উঠলেও সেই ভয় ঘোরে মাথায়।”
খরচ-হিসেবের ইউরো সফর
উচ্চ ইউরোর দামের কারণে খরচে কিছুটা হিসেব থাকলেও, শপিংয়ে বিশেষ পছন্দ তাঁর অ্যান্টিক ও কিউরিও জিনিসপত্র। এবারের ভ্রমণে এমন একটি রেকর্ডও সংগ্রহ করেছেন, যাতে বব ডিলান ও জনি ক্যাশের স্বাক্ষর রয়েছে!
জন্মদিনে ম্যানিফেস্টেশন?
“প্রতিবছরই ইনার পিস কামনা করি। কোভিডের সময় থেকে শুরু হয়েছিল অ্যাংজ়াইটি। চেষ্টা করি নিজের মনকে বোঝাতে— খারাপ কিছু ঘটবে, এটা ধরে নিয়ে দুশ্চিন্তা করে লাভ নেই।”
প্রেমিক নাকি বেস্ট ফ্রেন্ড?
সুমিতকে নিয়ে বললেন, “হবু স্বামী বললে এখনও হাসি পায়। আসলে মনে হচ্ছে বেস্ট ফ্রেন্ডের সঙ্গে ট্র্যাভেল করছি। ও একটু ‘লস্ট বার্ড’, আর আমি সব কিছু মনে রাখি— এই ভারসাম্যটাই আমাদের সম্পর্কের সৌন্দর্য।”
নিজেকে কিভাবে দেখেন?
তিনটি শব্দে নিজের পরিচয় দিলেন— “স্ট্রং, কাইন্ড, ক্রেজ়ি।” ছোট বয়সে মায়ের সঙ্গে ভাড়াবাড়িতে থেকে বড় হয়ে, মাত্র ১৫ বছর বয়সে কাজ শুরু করেছিলেন। বলেন, “আমি কখনও কল্পনাও করিনি এত কিছু পাব। ফলে কোনও অভিযোগও নেই।”
নারীকেন্দ্রিক সিনেমা নিয়ে মত
ঋতাভরী মনে করেন, এখন আগের তুলনায় বেশি সংখ্যায় নারীকেন্দ্রিক কনটেন্ট তৈরি হচ্ছে। “আগে এসব ছবি ‘আঁতেল’ বলে অবহেলা করা হতো, এখন সেই দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিবর্তন হচ্ছে।”
ফলোয়ার-নির্ভর কাস্টিং প্রসঙ্গে মত
শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ঋতাভরী বলেন, “টেলিভিশনে এটা হচ্ছে ঠিকই। তবে ছবিতে এখনো পুরোপুরি সেটি শুরু হয়নি। ফলোয়ার থাকলে ভালো অভিনেতা হতেই পারেন, তবে শুধুমাত্র রিচ দেখে কাস্ট করাকে আমি সমর্থন করি না।”
বিয়ের দিন ঠিক?
আরও পড়ুনঃ ‘অনেক ছেলেরা সেভাবে পারে না’, রুবেলের এই গুণেই আরও ভালোবাসেন শ্বেতা! সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী
“এখনও বিয়ের কোনও নির্দিষ্ট দিন ঠিক হয়নি,” জানিয়ে দিলেন ঋতাভরী।
চোখে স্বপ্ন, মনে প্রশান্তি আর প্রেমের উষ্ণ ছোঁয়ায় ঋতাভরীর জন্মদিন যেন আরও এক রঙিন অধ্যায় তাঁর জীবনে।





