টলিপাড়ায় ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে নিয়ে একটা কথা প্রায়ই শোনা যায়—তিনি নাকি শ্যুটিং ফ্লোরে আসতে দেরি করেন। কেউ বলেন মজা করে, কেউ বা একটু বিরক্তির সুরে। তবে বহু বছর আগে এই অভ্যাসের জন্যই একবার বড়সড় ধমক খেতে হয়েছিল তাঁকে, আর সেই শিক্ষা তিনি আজও ভোলেননি।
ঘটনাটা ‘বৃষ্টির ছায়াছবি’ ছবির শ্যুটিং সেটের। ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা দুলাল লাহিড়ী, আর প্রযোজক ও নায়িকা ছিলেন ঋতুপর্ণা নিজে। একদিন কলটাইম ছিল সকাল ৯টা। সময়মতো পৌঁছে গিয়েছিলেন দুলাল লাহিড়ী, কিন্তু নায়িকার দেখা নেই। প্রায় দেড় ঘণ্টা পরে এসে পৌঁছন ঋতুপর্ণা। আর তাতেই চটে গিয়ে সেদিনের মতো প্যাক আপ ঘোষণা করে দেন পরিচালক।
অবাক হয়ে ঋতুপর্ণা জিজ্ঞেস করেন, “এ কী! প্যাক আপ করছেন কেন?” তখন দুলাল লাহিড়ীর স্পষ্ট জবাব, “তোকে কেউ কিছু বলে না বলে তুই অনেক বেড়েছিস। এই দেরির জন্য ক্ষতি কতটা হয়, সেটা বুঝতে হবে তোকে। তুই তো এই ছবির প্রযোজকও, সেটা আরও বেশি করে বোঝা উচিত।” এই কথা শোনার পরই নায়িকার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ে।
অভিমান ভরা গলায় ঋতুপর্ণা প্রতিশ্রুতি দেন, “আর কোনোদিন দেরি হবে না, তোমার শ্যুটিংয়ে তো নয়ই।” দুলাল লাহিড়ী তখন শুধু বলেছিলেন, “শুধু আমার জন্য নয়, আর কারোর সঙ্গেও এমন করবি না।” এরপর থেকে অন্তত দুলাল লাহিড়ীর সঙ্গে কাজ করার সময় তিনি আর কখনও দেরি করেননি।
আরও পড়ুনঃ “এখনও ভুলতে পারিনি”—প্রকাশ্যে মাকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য, এখনও ভুলতে পারেননি রূপঙ্কর
‘বৃষ্টির ছায়াছবি’ সেন্সর বোর্ড পাশ করলেও শেষ পর্যন্ত মুক্তি পায়নি। কিন্তু শ্যুটিং সেটের সেই দিনের ঘটনা আজও দু’জনেরই মনে আছে। দুলাল লাহিড়ীর ভাষায়, “ঋতুপর্ণা দারুণ অভিনেত্রী, জীবনে প্রচুর পরিশ্রম করেছে। সেই কারণেই আজ সে এই জায়গায়।”





