“চার মাস ধরে কোথায় ছিলেন সায়ন্ত?” অবশেষে সামনে এল ভয়াবহ সত্যি… ভাঙা পা, শেষ নিঃশ্বাস বাইকের…! আবেগ চেপে রাখতে পারলেন না অভিনেতা!

চার মাস… একটা লম্বা সময়। সায়ন্ত মোদক (Sayanta Modak)-কে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা যায়নি, না ইউটিউবে কোনও ভিডিও, না কোথাও কোনও আপডেট। অনেকেই ভাবছিলেন, কী হলো? কই গেলেন? কেন হঠাৎ হারিয়ে গেলেন অভিনেতা?

শেষ পর্যন্ত, সেই চুপ করে থাকার জবাব দিয়ে নিজেই সামনে এলেন সায়ন্ত। নিজের ইউটিউব চ্যানেলেই একটি ভিডিও পোস্ট করলেন তিনি—চার মাস পর। আর সেই ভিডিওতেই উঠে এল একটা ভয়াবহ কাহিনি। একটা দুর্ঘটনা, যা শুধুই তার শরীর নয়, ভেঙে দিয়েছিল মনটাকেও!

ভিডিওতে সায়ন্ত জানালেন, এক রাতে শ্যুটিং সেরে বাইকে করে বাড়ি ফিরছিলেন। হাইওয়ে দিয়ে যাচ্ছিলেন, হঠাৎ এক স্যাটেল বাস এসে ধাক্কা মারে তাঁর বাইকে। ধাক্কা এতটাই ভয়ংকর ছিল যে বাসের চাকা পায়ের উপর দিয়ে চলে যায়! সোজা হাসপাতালে। এক্স-রেতে ধরা পড়ে—পায়ের হাড় ভেঙে গেছে। অথচ সেই মুহূর্তে আশপাশে কেউ এগিয়ে এল না সাহায্য করতে! রাস্তায় পড়ে ছিলেন তিনি… একা। পরে এক বন্ধু ছুটে এসে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

আর বাইক? সায়ন্ত যেভাবে বললেন, বাইকটা যেন শুধুই একটা গাড়ি ছিল না, ছিল সন্তানের মতো! বলেই ফেললেন, “আমি আমার সন্তানকে হারালাম।” আবেগ সামলাতে পারেননি অভিনেতা। চারটে মাস চুপচাপ কষ্টের মধ্যে কেটেছে তাঁর।

তবে এই পুরো সময়টায় একটা মানুষ ছিলেন তাঁর পাশে—‘জগদ্ধাত্রী’ ধারাবাহিকের পরিচালক স্নেহাশিস চক্রবর্তী। একটাবারও কাজ থেকে বাদ দেননি সায়ন্তকে। পাশে থেকেছেন, সাহস জুগিয়েছেন। সেই কথা বলতে গিয়েও চোখ ভিজে এল সায়ন্তর।

এখন ধীরে ধীরে সেরে উঠছেন। আবার কাজে ফিরেছেন। আবার ক্যামেরার সামনে। কিন্তু ভেতরে যে ক্ষতটা তৈরি হয়েছে, সেটা এত সহজে সারবে না—সেটা যেন তাঁর গলার স্বরে, চোখের জলেই বোঝা গেল।

এই ভিডিওর মাধ্যমে সায়ন্ত শুধু নিজের কষ্টের কথা শেয়ার করলেন না, বললেন তাঁদের কথা, যারা এই সময়ে সত্যিকারের বন্ধু হয়ে পাশে থেকেছেন। বললেন ধন্যবাদ। আর যারা কাঁধে হাত রাখেননি, তাদের প্রতি একটা নিঃশব্দ প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন—এই নিঃসঙ্গতার দায় কাদের?

আরও পড়ুনঃ “রোজ ১০ টাকা দিত আমার স্ত্রী… আর শেষদিনেও সেই দশটাকাই…” — খরাজ মুখার্জির গলায় কাঁপা সুর, জীবনের লড়াইয়ের পেছনের এক না-বলা গল্প

জীবন থেমে থাকে না, তবে কিছু মুহূর্ত থেকে যায় চিরকাল। সায়ন্তর গল্পও ঠিক তেমনই—ভাঙা পায়ের হাড়ের থেকেও বেশি ভেঙেছে হৃদয়ের ভরসা।