টেলিপর্দার পরিচিত মুখ সায়ন্তনী মল্লিক হঠাৎ করেই জীবনের এমন এক ঝড়ের মুখে পড়লেন, যা তিনি নিজেও কল্পনা করতে পারেননি। একেবারে সুস্থ, চনমনে, সদ্য ধারাবাহিকের শুটিং শেষ করে বাড়িতে নিজের মতো সময় কাটাচ্ছিলেন। কোনওরকম শারীরিক অসুস্থতা নেই, নিয়মিত কাজ, ছোটাছুটি সব ঠিকঠাক। কিন্তু সেই সায়ন্তনীই কিনা বাড়িতে টিভি দেখতে বসে হঠাৎ ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত! ভাবা যায়?
ঘটনাটা ঘটে গত বুধবার। নিশ্চিন্তে বসে টিভি দেখছিলেন তিনি। আচমকাই শরীরে অস্বস্তি টের পান। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি খারাপের দিকে যায়। স্বামী তথা টেলিপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা ইন্দ্রনীল ভীষণ ঘাবড়ে গিয়ে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যান স্ত্রীকে। সেখানে পরীক্ষা করে জানা যায়, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে। শোনামাত্রই স্বাভাবিকভাবে চারদিক থেকে শোরগোল শুরু হয়ে যায়। একেবারে হেলথ ফ্রিক মানুষ, যাঁর কোনও রোগের ইতিহাস নেই, তিনি হঠাৎ করে এমন বিপদের মুখে—তা ভাবতেও পারেননি অনেকে।
হাসপাতালে টানা তিনদিন থাকার পর রবিবার ছাড়া পেয়েছেন অভিনেত্রী। আপাতত বাড়িতে আছেন, তবে বিশ্রামের কড়া নির্দেশ মিলেছে। ডাক্তার যদিও খুব কড়া কোনও নিয়ম দেননি, তবুও অন্তত ১৫ দিন তাঁকে বিছানাতেই থাকতে হবে। ইন্দ্রনীল একেবারে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন, কারণ তাঁর কথায়—“ভাগ্যিস শুটিং সেটে এই ঘটনা ঘটেনি, তাহলে পরিস্থিতি সামলানো আরও কঠিন হত।”
অন্যদিকে, সায়ন্তনী নিজেও এই ঘটনার পর ভীষণ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় হাসপাতালের পোশাকে একটি ছবি শেয়ার করে তিনি স্বামীকে ধন্যবাদ জানালেন। চোখেমুখে ক্লান্তি, শরীরে দুর্বলতা স্পষ্ট, তবুও লিখলেন—“তোমাকে ছাড়া বেঁচে থাকা সম্ভব হত না বর। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।”
কিন্তু এখানেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। নেটিজেনদের একাংশের প্রশ্ন, এত কম বয়সে, এত সুস্থ একজন মানুষের হঠাৎ ব্রেন স্ট্রোক হওয়ার আসল কারণ কী? সেটা কি বাড়তি মানসিক চাপ, নাকি টানা শুটিংয়ের ক্লান্তি? কেউ কেউ আবার বলছেন, গ্ল্যামার দুনিয়ার ঝলকানির আড়ালে লুকিয়ে থাকে এক ভয়ংকর চাপ, যার শিকার হচ্ছেন অভিনেতারা। সায়ন্তনীর ঘটনা যেন সেই অদৃশ্য চাপেরই প্রতিফলন।
আরও পড়ুনঃ ‘আমি যোগ্য নই’- কোন চরিত্রের জন্য নিজেকে অযোগ্য বলে মনে করেছিলেন টলি কুইন কোয়েল মল্লিক?
একজন তারকা, যাঁকে প্রতিদিন দর্শকরা হাসিখুশি দেখতে পান, তাঁর জীবন হঠাৎ এমনভাবে ভেঙে পড়তে পারে—এই বাস্তবটাই এবার অনেককে চমকে দিয়েছে।





