‘অরিজিৎ যেটা করল…’, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় কমেন্ট সেকশন ব্লক করে রাখি!’ ‘আবার সংগীতের আঙিনায় ফিরে আসার চেষ্টা করছি!’ অরিজিতের প্লেব্যাক থেকে নিজের বিরতি নিয়ে মুখ খুললেন শান ও বাবুল!

সমকালীন বাংলা ও হিন্দি সংগীত জগতের অন্যতম দুই স্তম্ভ শান (Shaan) ও বাবুল সুপ্রিয় (Babul Supriyo)। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও এই দুই তারকাকে একসঙ্গে দেখা গেল একটি বিশেষ আড্ডায়। সংবাদ প্রতিদিন-এর জন্য দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে তাঁরা শুধুমাত্র নিজেদের বন্ধুত্ব বা গান নয়, বরং বর্তমান সংগীত জগতের অন্যান্য অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।

দীর্ঘ ৭-৮ বছর রাজনীতির ময়দানে ব্যস্ত থাকার পর আবারও সংগীতের মূল স্রোতে ফিরছেন বাবুল সুপ্রিয়। বাবুল নিজেই স্বীকার করেছেন যে, এত বছর পর যখন তিনি আবার স্টুডিওর মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়াচ্ছেন, তখন কিছুটা জড়তা কাজ করছিল। কিন্তু বন্ধু শানের সহযোগিতা সেই ভয় কাটিয়ে দিয়েছে। বাবুল বলেন, ‘যখন আমি আবার সংগীতের আঙিনায় ফিরে আসার চেষ্টা করছি, তখন শানের মতো একজন বন্ধু পাশে থাকা এবং হাত ধরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াটা মানসিকভাবে অনেক বড় পাওনা’।

বর্তমানে সংগীত জগতে প্রেমের গানের ছড়াছড়ি, কিন্তু তার বেশিরভাগই দুঃখের। শান এবং বাবুল দুজনেই মনে করেন, বর্তমানে গানের বাজার আবার ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট মিউজিক’-এর দিকে ঝুঁকছে। তাঁদের আসন্ন গানটি নিয়ে শান একটি মজার অথচ বাস্তবসম্মত যুক্তি দেন। তিনি বলেন, ‘সবসময় রোমান্টিক গান কেন কাপলদের জন্য হবে? যারা একা বা যাদের মন ভেঙেছে, তাদের জন্যও তো গান থাকা উচিত’। এই গানটি মূলত সেই সব একাকী মানুষদের জন্য তৈরি করা হয়েছে যারা নিজেদের একাকীত্বকেও উদ্‌যাপন করতে চায়।

অন্যদিকে একজন রাজনীতিবিদ ও শিল্পী হিসেবে বাবুল সুপ্রিয়কে নিয়মিত সোশ্যাল মিডিয়ায় আক্রমণের শিকার হতে হয়। এ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বাবুল তাঁর ‘ডিফেন্স মেকানিজম’ সম্পর্কে জানান। তিনি বলেন, ‘আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় কমেন্ট সেকশন ব্লক করে রাখি যাতে নেতিবাচকতা আমাকে স্পর্শ করতে না পারে’। তাঁর মতে, শিল্পীরা খুবই সংবেদনশীল হন, তাই মানসিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে নেতিবাচক মন্তব্য থেকে দূরে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ। বাবুল অঙ্ক দিয়ে বুঝিয়ে দেন যে, সাত বিলিয়ন মানুষের পৃথিবীতে যদি তিনজন অপছন্দ করে, তবে আরও তিনজন পছন্দ করার লোকও আছে।

অনেকেই মনে করেন রাজনীতি করলে গান হয় না, কিন্তু বাবুল সুপ্রিয় এই ধারণা ভাঙতে বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, ‘আমি এখন জেদ ধরেছি যে আমি দুটো ক্ষেত্রেই ভালো কাজ করব’। তিনি বিশ্বাস করেন, সঠিক সময় ব্যবস্থাপনা এবং নিজের মনের আনন্দ থাকলে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।

এছাড়াও গত কয়েক মাস ধরে সংগীত মহলে একটিই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, অরিজিৎ সিং কেন হঠাৎ প্লেব্যাক কমিয়ে দিলেন? এই বিষয়ে শান অত্যন্ত পরিণত ও ইতিবাচক উত্তর দিয়েছেন। শান মনে করেন, অরিজিৎ একজন ইন্টেলিজেন্ট মিউজিক্যাল আর্টিস্ট। তিনি বলেন, ‘আমাদের কারোরই উচিত নয় এই বিষয়ে জল্পনা করা বা ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া। হতে পারে ও নতুন কোনো চমক নিয়ে আসার জন্য এই সময়টা নিচ্ছে’। শানের মতে, একজন শিল্পীর নীরবতাকেও সম্মান জানানো উচিত, কারণ কখনও কখনও নীরবতাই অনেক না বলা কথা বলে দেয়।