“আমার জন্মটাই বৃথা, ফ্লপ হিরো আমি! এমন বন্ধু পেয়েছি, শত্রুর আর প্রয়োজন নেই” অকপটে শঙ্কর চক্রবর্তী

টলিউডের জনপ্রিয় মুখ শঙ্কর চক্রবর্তী। ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দা— দুই জায়গাতেই তাঁর অভিনয় দর্শকদের মনে বিশেষ ছাপ ফেলেছে। তবুও আলোর আড়ালে লুকিয়ে আছে অনেক না-বলা গল্প, অনেক আক্ষেপ। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা খোলাখুলি জানিয়েছেন, সাফল্যের পাশাপাশি তাঁর জীবনে রয়েছে কিছু ভুল সিদ্ধান্ত আর হারানোর কষ্ট, যা আজও তাঁকে তাড়া করে বেড়ায়।

শঙ্করের জীবনের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ জড়িয়ে তাঁর প্রয়াত স্ত্রী সোনালি চক্রবর্তীর সঙ্গে। মফস্বল থেকে কলকাতায় আসার পর কেরিয়ারের কঠিন সময়ে সোনালিই ছিলেন তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে পাশে থেকেছেন, ভরসা দিয়েছেন। অথচ সেই মানুষটিকেই একসময় অভিনয় ছেড়ে দিতে বলেছিলেন শঙ্কর। কারণ? সরল স্বীকারোক্তি— হিংসা। স্ত্রীর সাফল্যকে মেনে নিতে পারেননি তিনি, আর সেই ইগোর জন্য সোনালির কেরিয়ার আটকে দিয়েছিলেন। আজও সেটাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় আফসোস।

অভিনেতা জানিয়েছেন, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন যেমন টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে গেছে, তেমনই ইন্ডাস্ট্রির অভিজ্ঞতাও সবসময় সুখকর ছিল না। শঙ্করের কথায়, “অনেকদিন আগে শমিত ভঞ্জ বলেছিলেন— এই ইন্ডাস্ট্রিতে বন্ধু হয় না, শত্রুরও প্রয়োজন হয় না, বন্ধুরাই শত্রুর কাজ করে দেবে। কথাটা একেবারে সত্যি। আমার জীবনেও এরকম বহু অভিজ্ঞতা আছে, যা আর বলতে চাই না।” তবে তিনি এটাও স্বীকার করেছেন, কিছু মানুষ আজও তাঁর সত্যিকারের বন্ধু।

ব্যক্তিগত কষ্টের মতোই জন্ম নিয়েও তাঁর মনে আছে আক্ষেপ। শঙ্করের কথায়, “আমার জন্মটাই ফাউ। দাদা মারা না গেলে হয়তো আমি জন্মই নিতাম না। মা-বাবার পরিকল্পনায় আমি ছিলাম না। বংশে বাতি দেওয়ার জন্যই আমার জন্ম।” এমনকি মা তাঁর নাম রেখেছিলেন ‘হারাধন’, কারণ প্রথম সন্তানকে হারানোর যন্ত্রণা এখনও তখনও বেঁচে ছিল তাঁর মায়ের মনে।

অভিনয় জীবনে সাফল্য এলেও শঙ্কর মনে করেন, তিনি প্রাপ্য সুযোগগুলো পাননি। অনেক চরিত্র যা তাঁর করার কথা ছিল, তা তিনি পাননি। বরং এক সময় টাইপকাস্ট হয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, “ফ্লপ হিরোর তকমাও জুটেছিল আমার।” সাফল্য আর ব্যর্থতার এই মিশ্রণ, ব্যক্তিগত ক্ষতি আর ভুল সিদ্ধান্ত— সব মিলিয়েই আজও ভেতরে ভেতরে কুরে খায় তাঁকে। তবুও দর্শকদের ভালোবাসাই তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছে, এটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।