সরকারি সুবিধা নিতেই পারবেন না বিধায়কের স্ত্রী? প্রশ্ন তোলায় ক্ষুব্ধ শ্রীময়ী চট্টরাজ

তৃণমূল বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিকের স্ত্রী এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজকে নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। খবর প্রকাশ্যে এসেছে যে, তিনি রাষ্ট্রীয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এ নাম নথিভুক্ত করেছিলেন। এর পরই বিজেপি বিধায়ক সুকান্ত মজুমদারের মন্তব্য— বিধায়ক-পত্নী হয়েও কেন সরকারি আর্থিক সাহায্যের প্রয়োজন? এই প্রশ্ন ঘিরেই তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

অভিনেত্রীর পাল্টা বক্তব্য, এই আবেদন করেছেন বহু বছর আগে— যখন তাঁর সঙ্গে কাঞ্চনের কোনো সম্পর্কই ছিল না। শ্রীময়ীর কথায়, “২০১৮ সালে আমি আবেদন করি। তখন তো জানতামই না ভবিষ্যতে আমার জীবন কোন দিকে যাবে! এখন কেন হঠাৎ প্রশ্ন উঠছে?” পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, সরকারি পরিষেবা সাধারণ মানুষের অধিকার— ব্যক্তির পদ বা অবস্থান দিয়ে তা বিচার করা উচিত নয়।

বিজেপির দিকে সটান আঙুল তুলেছেন তিনি। শ্রীময়ীর কটাক্ষ— “বিজেপির অনেক তারকা নেত্রীও স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে হাসপাতালের সুবিধা নেন। তখন তো এত প্রশ্ন তোলা হয় না! সরকারি সুযোগসুবিধা কেবল শাসকদলের লোকেদের জন্য নয়— দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য।” তাঁর মতে, অন্যায় অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।

নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে রাজনৈতিক অস্ত্র করার প্রচেষ্টায় বেশ বিরক্ত শ্রীময়ী। তিনি বলেন, “কাকে কী সুবিধা দেওয়া হল, কার বাচ্চা হতে কত খরচ হল— এসব নিয়ে কারও মাথাব্যথা থাকার কথা নয়। নিজের দায়িত্ব পালন করলেই হয়।” ব্যক্তিজীবনে আগ্রাসী দৃষ্টিভঙ্গি তিনি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

শেষ কথায় শ্রীময়ীর দাবি খুব সোজা— তিনি আবেদন করেছিলেন একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবে। তাই সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া তাঁর প্রাপ্য অধিকার। আর সেই অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুললে, তা গণতন্ত্রের উপরেই আঘাত। রাজনৈতিক রঙ মাখানো বিচার তিনি মানতে রাজি নন— “বিধায়কের স্ত্রী হওয়া মানে কি নাগরিকত্ব হারানো?” পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেত্রী নিজেই।