কাঞ্চনের অভিমানে বন্ধ হয়েছিল পুজো! সেই অভিমানের অন্ধকারে আলো জ্বালালেন কাঞ্চন পত্নী শ্রীময়ী!

এক সময় কালীপুজো মানেই ছিল কাঞ্চন মল্লিকের মনে এক গভীর দুঃখের দিন। মা কালীর উপর তাঁর অভিমান এতটাই তীব্র ছিল যে, সেই দিন বাড়িতে একটিও প্রদীপ জ্বালাতেন না তিনি। অন্ধকারে ডুবে থাকত ঘর। দীপাবলির আলো অন্যদের ঘরে জ্বললেও, তাঁর বাড়িতে থাকত নিঃশব্দ শোক। কারণ, কালীপুজোর দিনেই ঘটে গিয়েছিল এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা—এক রাতে আগুন লেগে তাঁর মায়ের শরীরের অনেকটা অংশ পুড়ে গিয়েছিল। আরেক বছর পুজোর দিনেই মায়ের হাঁটুর মালাইচাকি ভেঙে যায়। এই দুটি ঘটনার পর থেকেই মা কালীর উপর তাঁর অভিমান জন্মায়। তারপর থেকে প্রতি বছর কালীপুজো মানেই অন্যের বাড়িতে সময় কাটানো, নিজের বাড়ি অন্ধকার রেখে দিনটা পার করে দেওয়া।

২০২০ সালে মাকে হারানোর পর কাঞ্চনের মনে সেই অভিমান আরও গভীর হয়। কিন্তু তখনই ছবিটা বদলে দিতে এগিয়ে আসেন তাঁর স্ত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজ। বিয়ের আগেই এই সংসারের সঙ্গে তাঁর আত্মিক যোগ তৈরি হয়েছিল। বাড়ির প্রতিটি ছোটখাটো বিষয় তাঁর জানা। ২০২১ সালে তিনি স্বামীকে বোঝান, “মা চাইছেন, যেন আবার পুজো হয়। আমরা যদি ভয় পাই, তা হলে অভিমান থেকে যাবে চিরকাল।” সেই বছর থেকেই পুরনো বাড়িতে নতুন করে শুরু হয় কালীপুজো। প্রথমে একটু দ্বিধায় ছিলেন কাঞ্চন, কিন্তু শ্রীময়ীর বিশ্বাস আর সাহস তাঁকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়।

শ্রীময়ী নিয়মকানুন মেনে পুজো করেন। কালীপুজোর দিনে তিনি মুখে জল পর্যন্ত তোলেন না। এমনকি ২০২৪ সালে যখন তিনি অন্তঃসত্ত্বা, তখনও উপোস করে পুজো করেছিলেন। অভিনেত্রী বলেন, “তখন সবাই বলেছিল এত ঘণ্টা উপোস করা ঠিক নয়, কিন্তু আমি মন থেকে চেয়েছিলাম নিয়ম ভঙ্গ না করতে। শেষে ডাবের জল খেয়ে উপোস করেছিলাম।” তাঁর বিশ্বাস, এই নিষ্ঠার মধ্যেই আছে ভক্তির আসল সৌন্দর্য।

প্রতি বছরই পুজোর আগে চোদ্দশাক খাওয়া, বাড়ি জুড়ে চোদ্দ প্রদীপ জ্বালানো—এসব তাঁর কাছে শুধু প্রথা নয়, নিজের মনের শান্তিরও অংশ। এই বছরও তার ব্যতিক্রম হবে না। তবে এ বছর তাঁর আনন্দ দ্বিগুণ, কারণ সঙ্গে আছে ছোট্ট কৃষভি। মেয়েকে নিয়ে পুজোর প্রতিটি পর্ব নিজে করতে চান শ্রীময়ী।

কালীপুজো এখন কাঞ্চনের বাড়িতে শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এক আবেগ, এক নতুন শুরু। অভিমান, ভয় আর অন্ধকারের জায়গা নিয়েছে আলো, ভালোবাসা আর বিশ্বাস। শ্রীময়ীর দৃঢ়তা আর মমতায় যেভাবে ফিরেছে সেই আলো, তাতে আজ কাঞ্চনের মুখেও হাসি। হয়তো সত্যিই, যে ঘরে ভক্তি আর ভালোবাসা একসঙ্গে থাকে, সেখানে কোনও অন্ধকার বেশিদিন টিকতে পারে না।