‘দেখেছ কি তারে, ওই নীল নদীর ধারে’—এই গানেই বহু মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন শুভমিতা ব্যানার্জী। মিষ্টি সুরে, সরল গলায় তিনি একসময় রিয়েলিটি শো মঞ্চ কাঁপিয়েছিলেন। বিচারক থেকে দর্শক, সকলে মুগ্ধ হয়েছিলেন তার গানে। সেই শুভমিতা আজও সঙ্গীতের জগতে সক্রিয়, তবে হালফিলের রিয়েলিটি শো দেখে তিনি খুশি নন। তার অভিযোগ, গান নয়, বরং সাজগোজই এখন মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
একটা সময় ছিল যখন রিয়েলিটি শো মানেই ছিল কেবল গান। প্রতিযোগীদের কণ্ঠস্বর, তাল-লয় আর রেওয়াজই নির্ধারণ করত তারা কতটা এগোবে। শুভমিতাও সেই পথেই নিজের পরিচয় গড়েছিলেন। কিন্তু আজকের দিনে তিনি দেখছেন ভিন্ন ছবি। প্রতিযোগী গাইতে মঞ্চে উঠছেন, অথচ তার মাঝেই মেকআপ আর্টিস্ট এসে চুল ঠিক করে দিচ্ছেন। তার প্রশ্ন—এই সময় গায়কের মনোযোগ থাকবে গান গাওয়ায়, না সাজগোজে?
তার মতে, এই পরিবর্তন শিল্পীদের পথ থেকে সরিয়ে দিচ্ছে। গানের চর্চার চেয়ে পোশাক, মেকআপ আর আলো ঝলকানির গুরুত্ব যেন অনেক বেশি হয়ে উঠেছে। শুভমিতা স্বীকার করেন, যুগ বদলেছে, সময়ের সঙ্গে খাপ খাইয়ে কিছুটা গ্রুমিংয়ের দরকার আছে। কিন্তু তিনি মনে করেন, তা কখনও যেন সংগীতকে ছাপিয়ে না যায়। আসল জায়গা গানেই থাকা উচিত।
এখানেই শেষ নয়। তিনি আরও বলেন, এখনকার অনেক প্রতিযোগী পুরনো গান গেয়েই থেমে যাচ্ছেন। নতুনত্বের অভাব স্পষ্ট। “স্ট্রাইকিং ভয়েস নেই,” বললেন তিনি। কারও কণ্ঠ শুনলে আলাদা করে মনে থাকার মতো শক্তি খুব কম। বরং সবাই হয় শ্রেয়া ঘোষাল, নয়তো অরিজিৎ সিংকে নকল করছেন। শুভমিতার মতে, রেওয়াজ ছাড়া গলা তৈরি হয় না, আর সংগীতের প্রতি মাথা নত না করলে শেখাও যায় না।
আরও পড়ুনঃ ‘টলিউডে নেপোটিজম ছিল, আছে, থাকবেই’ নাম না করেই প্রসেনজিৎকে খোঁচা শতাব্দীর!
সবশেষে নতুন প্রজন্মকে তিনি বার্তা দিয়েছেন—এক-দুটি অনুষ্ঠান করেই শিল্পী ভাবা যায় না। সংগীত এক আজীবন শেখার যাত্রা। এত বছর পরেও তিনি নিজেকে অপূর্ণ মনে করেন, মনে করেন শেখার শেষ নেই। তাই গানের মঞ্চে যারা আসছে, তাদের কাছে তার স্পষ্ট বার্তা—সাজগোজ নয়, গানটাই হোক আসল পরিচয়।





