মাসখানেক আগেই পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে জানালার ধারে বসে হাতে ধারালো ছোরা নিয়ে একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। ক্যাপশনে লিখেছিলেন, “হাসতে হাসতে খুন করে দেবো”—একটিমাত্র লাইনেই শুরু হয়েছিল জল্পনা। সেই ছবির রহস্যময় হাসি, চোখের আগুন, আর হাতে ছোরা—সব মিলিয়ে ভক্তদের মনে প্রশ্ন, ‘এবার কী আসছে?’ অনেকেই বুঝেছিলেন, কৌশিক-শুভশ্রী জুটি আবার ফিরছেন নতুন কোনও চমক নিয়ে। তবে ঠিক কী, তা এতদিন গোপনই ছিল। অবশেষে দীপাবলির মরশুমে উন্মোচিত হল সেই রহস্য—প্রকাশ্যে এল শুভশ্রীর নতুন ছবি ‘ওয়েটিং রুম’-এর ফার্স্ট লুক।
ফার্স্ট লুক দেখেই চমকে উঠেছেন দর্শকরা। কারণ এমন রূপে শুভশ্রীকে আগে কখনও দেখা যায়নি। তাঁর মুখজুড়ে রক্তের ছোপ, চোখে জল আর প্রতিশোধের আগুন। হাতে রক্তমাখা ছোরা—দৃশ্যটা যেন সিনেমার ভেতর থেকেই বেরিয়ে এসেছে। দর্শকদের কেউ বলছেন “নতুন জন্ম নিলেন শুভশ্রী”, কেউ বলছেন “এই লুক দেখে গায়ে কাঁটা দিচ্ছে”! নায়িকার চোখের গভীরে লুকিয়ে আছে ব্যথা, রাগ আর এক অজানা রহস্য, যা ছবির কাহিনিকে আরও টানটান করে তুলছে।
পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের নতুন ছবি ‘ওয়েটিং রুম’ আপাতদৃষ্টিতে থ্রিলার মনে হলেও, শোনা যাচ্ছে এটি আসলে এক শক্তিশালী সোশাল ড্রামা। গল্পের কেন্দ্রে এক নারী—দীপা, যার চরিত্রে অভিনয় করছেন শুভশ্রী। জীবনের নানা সংকট, অবিচার আর সমাজের চোখরাঙানির মধ্যেও দীপা লড়ে যায় নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে। ছবিটি সেই নারীশক্তির প্রতীক, যা অন্ধকারেও আলো খোঁজে। কালীপুজোর সময় পোস্টার প্রকাশ করে পরিচালক যেন বার্তা দিয়েছেন—“ধর্ম নয়, শক্তিই নারী।”
এই ছবিতে শুভশ্রীর সঙ্গে অভিনয় করছেন অনির্বান চক্রবর্তী, অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়, রেশমি সেন-সহ আরও কয়েকজন দক্ষ অভিনেতা। সঙ্গীতের দায়িত্বে রয়েছেন ইন্দ্রদীপ দাসগুপ্ত, যাঁর সুর ছবির আবহকে আরও গভীর করবে বলে মনে করছেন অনুরাগীরা। আগামীকাল থেকেই শুরু হচ্ছে ছবির শুটিং। কৌশিক-শুভশ্রী জুটি আগেও ‘দৃষ্টিকোণ’ কিংবা ‘বাবা বেবি ও…’–র মতো ছবিতে দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছে। এবার তারা একেবারে ভিন্ন মেজাজে হাজির।
আরও পড়ুনঃ দীপাবলির রাতে যজ্ঞে বসে চমকে দিলেন পরমব্রত! ঈশ্বরভক্তি নাকি নতুন আধ্যাত্মিক যাত্রার শুরু?
দীপাবলির আলোয় যখন শহর ঝলমল করছে, তখনই শুভশ্রীর এই অন্ধকার, রক্তমাখা লুক যেন এক নতুন প্রতীক—আলোর উৎসবের মাঝেও নারীর প্রতিবাদের দীপ জ্বালিয়ে দিলেন তিনি। ‘ওয়েটিং রুম’ যে শুধুই একটি সিনেমা নয়, বরং এক নারীর অন্তর্জগতের প্রতিচ্ছবি—তা বোঝা যাচ্ছে শুভশ্রীর চোখের আগুনেই। এখন শুধু অপেক্ষা, কখন বড়পর্দায় দেখা যাবে এই ‘দীপা’র গল্প, যিনি হয়তো হাসতে হাসতেই বদলে দেবেন প্রতিশোধের সংজ্ঞা।





