‘ধূমকেতু’ মুক্তির পর ফের সরগরম টলিপাড়া। ১৩ বছর পর ফের একসঙ্গে বড়পর্দায় ফিরেছিল দেব–শুভশ্রী জুটি। ভক্তরা যাদের চেনেন ‘দেশু’ নামে। ছবি মুক্তির আগে থেকেই চারদিকে ছিল প্রচুর উন্মাদনা। আগাম টিকিট বুকিং ঝড় তুলেছিল। মুক্তির প্রথম দিনেই বক্স অফিসে রেকর্ড গড়ে ফেলে এই বহু প্রতীক্ষিত ছবি। নির্মাতারা তো দাবি করলেন, বাংলা সিনেমার ইতিহাসে প্রথম দিনের আয়ে এমন সাফল্য আগে কখনও আসেনি। সবমিলিয়ে ‘ধূমকেতু’-জ্বরে কাবু ছিল দর্শক।
কিন্তু, ছবির রেশ কাটতে না কাটতেই আবার প্রশ্ন উঠল ‘দেশু’-র বন্ধুত্ব নিয়ে। ছবির প্রচারে যতটা একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল, মুক্তির পর থেকে আর এক ফ্রেমে ধরা দেননি দেব–শুভশ্রী। স্পেশাল স্ক্রিনিংয়েও হাজির ছিলেন না শুভশ্রী। সেখানে দেব সঙ্গী করেছিলেন রুক্মিণী মৈত্রকে। এমনকি দেবের বাড়ির গণেশ পুজোতেও রুক্মিণীকে নিয়ে হাজির হয়েছিলেন তিনি। অন্যদিকে, শুভশ্রীকে দেখা যাচ্ছে সংসার, রাজ চক্রবর্তী আর দুই সন্তানকে ঘিরে ব্যস্ত থাকতে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই জল ঘোলা হয়েছে দেবের এক মন্তব্যে। এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা হালকা মজার ছলেই বলেছিলেন, শুভশ্রী এখন ‘দুই বাচ্চার মা’। তাই তাঁর মুখে আগের মতো সারল্য নেই। এমনকি আজ যদি ‘ধূমকেতু’ বানাতেন, তবে হয়তো শুভশ্রীকে নায়িকা নয়, পার্শ্ব চরিত্রে কাস্ট করতেন। ভক্তদের কাছে এই মন্তব্য একেবারেই ভাল লাগেনি। আর শুভশ্রীও এ নিয়ে মুখ খোলেন।
নায়িকা সোজাসাপটা বলেন, “একজন সেন্সেবল মানুষ কীভাবে এভাবে কথা বলতে পারে, আমার জানা নেই। আমি পার্শ্ব চরিত্র করতেও প্রস্তুত, চরিত্রটাই আসল আমার কাছে। কিন্তু একজন অভিনেত্রীকে নিয়ে এরকম অসম্মানজনক মন্তব্য করা, সেটা কীভাবে সম্ভব আমি বুঝি না।” কথার সুর থেকেই স্পষ্ট, দেবের মন্তব্যে তিনি বেশ আঘাত পেয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ থাইল্যান্ড ভ্রমণে গিয়ে গুরুতর আহত অভিনেত্রী শ্রীমা! দেশে ফিরতেই অভিনেত্রীকে তড়িঘড়ি নিয়ে যাওয়া হল হাসপাতালে
তবে আবার ‘দেশু’-কে একসঙ্গে পর্দায় দেখা যাবে কি না, সেই প্রশ্নে শুভশ্রী এড়িয়ে যান। শুধু হালকা হাসি নিয়ে বলেন, “আমি জানি না, মা হয়ে গিয়েছি, মুখে সারল্য নেই।” প্রসঙ্গত, ‘চ্যালেঞ্জ’, ‘পরাণ যায় জ্বলিয়া রে’, ‘রোমিও’, ‘খোকাবাবু’— একের পর এক হিট ছবিতে জুটি বেঁধেছিলেন দেব–শুভশ্রী। ‘ধূমকেতু’-ও সেই তালিকায় সফল সংযোজন। এখন দেখার, ব্যক্তিগত মতবিরোধ কাটিয়ে ফের একসঙ্গে কাজ করতে চান কি না তাঁরা।





