স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। কখনও তাঁর সাজগোজ, কখনও তাঁর খোলামেলা মতামত। এবারও নিজের মনের কথা খোলাখুলি জানালেন তিনি। জানালেন, পর্দায় যদি সদ্য বিয়ে করা কনে বরের হাতে মার খায়, সেই দৃশ্য সহ্য করতে পারেন না। সোজাসাপ্টা বললেন, “আমি এমন কিছু দেখতে পারি না, যা আমার মনকে খারাপ করে দেয়। জীবনে আমরা সবাই কোনও না কোনও সময় শারীরিক বা মানসিক হেনস্থার মুখোমুখি হয়েছি। তাই এ রকম দৃশ্য এলে আমার পক্ষে সামলানো মুশকিল।” তাই ‘লজ্জা’ বা ‘কালরাত্রি’— এই ধরনের ওয়েব সিরিজ তিনি শেষ পর্যন্ত দেখতে পারেননি।
তবে শুধু দর্শক হিসেবেই নয়, অভিনেত্রী হিসেবেও নিজের পথ বেছে নিচ্ছেন স্বস্তিকা। নতুন ছবি দুর্গাপুর জংশন-এর কাজ শেষে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আর এককভাবে দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দেবেন না। কারণ তাঁর মতে, সিনেমা প্রচারের নামে বারবার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, অথচ ছবির আসল গল্প বা চরিত্র নিয়ে কথা খুব কম হয়। স্বস্তিকার স্পষ্ট মত, “আমি তো ছবি নিয়ে কথা বলতে চাই। অন্য প্রসঙ্গে টেনে নিলে সিনেমার আলোচনাটা ঢাকা পড়ে যায়।”
নতুন ছবিতে তাঁকে দেখা যাবে এক ভিন্ন চরিত্রে। এখানে তিনি মা নন, নেই মাতৃত্ব বা সন্তানের টানাপোড়েন। গল্পটা ঘুরছে এক অদ্ভুত বাস্তব সমস্যাকে ঘিরে— সাধারণ ভিটামিন বা প্রাথমিক ওষুধ খেয়ে মানুষ মারা যাচ্ছে। শহরতলির প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা ঘিরেই তৈরি হয়েছে থ্রিলারটি। বাংলায় এরকম বিষয় নিয়ে আগে তেমন কাজ হয়নি বলেই মনে করেন স্বস্তিকা।
একই সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান ছবি নিয়েও তিনি খোলাখুলি মত দিয়েছেন। তাঁর মতে, নতুন মুখদের মধ্যে অনেকেই অডিশন দিতে চান না, কিংবা চিত্রনাট্য পড়তে রাজি হন না। অথচ পুরনো অভিনেতাদের মধ্যেই এখনো ভরসা রাখছে প্রযোজকরা। নিজের অভিজ্ঞতা টেনে তিনি বলেন, “আমি আজও অডিশন দিই, অনেক সময় কাজও পাই না। কিন্তু নতুনরা যদি শুরুতেই লিড চরিত্র ছাড়া কিছু করতে না চান, তাহলে কাজ শিখবেন কীভাবে?”
আরও পড়ুনঃ ‘সিঁদুরের কিমত আলাদা’, হাতে শাঁখা-পলা, সিঁথিতে জ্বলজ্বল করছে সিঁদুর! তবে কি ফের সাত পাকে বাঁধা পড়লেন স্বস্তিকা?
অভিনেত্রী হিসেবে দীর্ঘ পথচলায় অনেক চরিত্র করেছেন স্বস্তিকা। তবুও মনে করেন, প্রেমের সাদামাটা গল্পগুলো এখন হারিয়ে যাচ্ছে বাংলা ছবিতে। তাই সৃজিত মুখোপাধ্যায়কে অনুরোধ করেছেন আবার প্রেমের ছবি বানানোর জন্য। তাঁর ইচ্ছে, রাইমা আর অনির্বাণ ভট্টাচার্যের সঙ্গে বড় পর্দায় আবার এক অন্য রসায়নে ধরা দেবেন। তবে সবকিছুর শেষে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তাঁর মন্তব্য সহজ– “জোর করে কেউ একা থাকে না। ভালবাসা, সঙ্গ— এগুলো সবাই চায়। কিন্তু সবটা ঈশ্বরের হাতে।”





