দিনকয়েক আগেও যার কণ্ঠে নতুন গান শুনে মুগ্ধ হয়েছিল শ্রোতারা, সেই জনপ্রিয় ওড়িয়া গায়ক হ্যূমন সাগরের আকস্মিক মৃত্যুর খবরে স্তব্ধ গোটা সঙ্গীতজগৎ। মাত্র ৩৪ বছর বয়সেই শেষ সুর বাজল এই প্রতিভাধর শিল্পীর জীবনে। কয়েক দিন আগে অসুস্থ হয়ে ভুবনেশ্বরের একটি হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। চিকিৎসকদের চেষ্টার পরেও ১৭ নভেম্বর রাত ঠিক ৯টা ৮ মিনিটে সব লড়াই শেষ করে অনন্তযাত্রায় পাড়ি দেন হ্যূমন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, একাধিক জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। ফুসফুসে সংক্রমণ, যকৃতের সমস্যা, হৃদরোগ, কিডনি বিকল হওয়া, রক্তে জমাট বাঁধার প্রবণতা এবং প্লেটলেটের মাত্রা কমে যাওয়ার মতো মারাত্মক জটিলতা দ্রুতই তাঁর অবস্থা আরও খারাপ করে তোলে। পরিবার এখনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না দিলেও, তাঁর অবস্থা যে কতটা সংকটজনক ছিল, তা বুঝিয়ে দিয়েছে হাসপাতালের রিপোর্টই।
হ্যূমনের অকালপ্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ওড়িশার সাংস্কৃতিক মহলে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে গভীর শোক প্রকাশ করে লিখেছেন যে হ্যূমন শুধু সঙ্গীতজগতেরই নয়, ওড়িয়া চলচ্চিত্রেরও এক অমূল্য সম্পদ ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে যে বিশাল শূন্যতা তৈরি হল, তা সহজে পূরণ হবে না। একইভাবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকও সোশ্যাল মিডিয়ায় শোকপ্রকাশ করে জানান, হ্যূমনের আবেগমাখা গান চিরদিন মনে রাখবেন শ্রোতারা।
গায়কের শেষ রেকর্ডিং ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। দেখা গেছে, একটি রেডিয়ো স্টেশনে নিজের স্বাভাবিক উচ্ছ্বাস নিয়েই তিনি গাইছেন ‘ভাগ্যরেখা’ গানটি। ২০২৪ সালের জনপ্রিয় ওড়িয়া অ্যালবাম ‘ভাগ্যরেখা’র এই গানটি ছিল তাঁর শেষ রেকর্ড করা সুর—যা এখন ভক্তদের আরও আবেগে ভাসিয়ে দিচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ পায়েল সরকারের বিস্ফোরক অভিযোগ: টলিউডে কাজের নামেও দাবি করা হয়েছিল যৌন সুবিধা
সঙ্গীতের মঞ্চে যে মানুষটি সদ্য সক্রিয় ছিলেন, তাঁর চলে যাওয়া এক গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে। হ্যূমন সাগরের কণ্ঠ, তাঁর আবেগ, তাঁর সৃষ্টি—সবই এখন স্মৃতি হয়ে রইল ভক্তদের হৃদয়ে।





