জীবন এক অনিশ্চিত যাত্রাপথ, কিন্তু মাঝে মাঝে সেই পথ যেন ধ্বংস আর হাহাকারের মিছিলে পরিণত হয়। বর্তমানে চারপাশে তাকালে মনে হয়, একটার পর একটা দুর্ঘটনা যেন হয়েই চলেছে। কখনো যান্ত্রিক ত্রুটি, কখনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আবার কখনো মানুষের সামান্য অসতর্কতা কেড়ে নিচ্ছে অগণিত প্রাণ। খবরের কাগজের পাতা খুললে বা টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রাখলেই দেখা যাচ্ছে সেসব।
সম্প্রতি আরও একজন জনপ্রিয় শিল্পীর মৃ’ত্যুতে ভেঙে পড়েছে গোটা ইন্ডাস্ট্রির মানুষ। কেউ ভাবতেও পারেনি এভাবে মৃ’ত্যু হবে শিল্পীর। ঘটে গেলো বাংলা সঙ্গীত জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি। প্রয়াত হলেন বিশিষ্ট সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী। তাঁর মৃত্যুতে বাংলা ও হিন্দি সঙ্গীত মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
গত কয়েক বছর ধরে তাঁর শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক বছর আগে তাঁর মাথায় একটি অত্যন্ত গুরুতর অস্ত্রোপচার হয়েছিল। সেই কঠিন লড়াইয়ের পর তিনি সুস্থ হয়ে ফিরলেও শরীরের ওপর দিয়ে ধকল গিয়েছিল প্রচুর। দীর্ঘ অসুস্থতা এবং বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছিলেন তিনি। এই অস্ত্রোপচারের পর থেকে তিনি কিছুটা অন্তরালেই থাকতেন, তবে সুরের সাথে বিচ্ছেদ ঘটেনি তাঁর।
সুরের জাদুকর জুটি অরূপ-প্রণয়-এর অন্যতম কাণ্ডারি অরূপ ব্যানার্জি আর নেই। মুম্বাইয়ের ফ্ল্যাটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃ’ত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। মুম্বাইয়ে থাকলেও বাংলার প্রতি তাঁর টান ছিল অটুট। তাঁর মৃত্যুসংবাদ কলকাতায় পৌঁছাতেই সঙ্গীতশিল্পী ও অনুরাগীদের মধ্যে শোকের স্তব্ধতা নেমে আসে।
আরও পড়ুনঃ আইএমডিবি দাপটে ‘ধুরন্ধর’! শীর্ষ দশে রণবীর সিং থেকে সারা অর্জুন!
বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অরূপ-প্রণয় একটি অতি পরিচিত ও জনপ্রিয় নাম। বিশেষ করে নব্বইয়ের দশক এবং তার পরবর্তী সময়ে তাঁরা একের পর এক সুপারহিট গান উপহার দিয়েছেন। অরূপ ব্যানার্জি শুধু সুরকারই ছিলেন না, তাঁর কণ্ঠের মাধুর্যও ছিল মুগ্ধ করার মতো। তাঁদের সুরারোপিত বহু গানের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হলো ‘কত যে সাগর নদী পেরিয়ে এলাম’। গানটি আজও বাঙালির কাছে এক আবেগের নাম। বিরহ, প্রেম আর দর্শনের মিশেলে তৈরি এই গানটি তাঁদের জুটির সিগনেচার স্টাইল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তার মৃ’ত্যুতে তাই গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।





